নুসরাত Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Momota-Nushrat.jpg

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে অভিনেত্রী নুসরাত জাহান পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট আসনে কংগ্রেসের হয়ে অংশ নিয়ে বিপুল পরিমাণ ভোটে জয় লাভ করেছেন। যা রাজ্যে শাসক দলের জয়ীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগে থেকেই আসনটি তৃণমূলের ছিল। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু এখানে ভোটে জয় লাভ করবেন তা হয়তো ভাবেননি জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীও।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবর, লোকসভা ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইছামতীর পাড়ের এই আসনে ধর্মীয় মেরুকরণ ছিল স্পষ্ট। সেই মেরুকরণের ফসলই ঘরে তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাম ভোট যখন হুহু করে বিজেপির ঝুড়িতে পড়েছে, সেই সময়ে বসিরহাটের পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে। ওখানে বাম ভোট গেছে তৃণমূলেই।

মেরুকরণের ফলেই যে ওখানে ব্যবধান এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছেন তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলের নেতারাই। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথায়, মানুষ ভোট দিয়েছেন। অন্য জায়গার মতো বাম ভোট বিজেপিতে যায়নি।

আর বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসুর মতে, আমরা ভেবেছিলাম, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাবে সিপিআই এবং কংগ্রেস। বাস্তবে তা হয়নি। সেই জন্যই ওখানে ব্যবধান এত বড় হয়েছে।

২০১৪ সালে বসিরহাটের তৃণমূল প্রার্থী ইদ্রিস আলির ঝুলিতে গিয়েছিল ৩৮.৬৫ শতাংশ ভোট। তা ধরে রেখে এবার তৃণমূলের ভোট বেড়েছে আরও ১৫.৯১ শতাংশ। নুসরাত পেয়েছেন ৫৪.৫৬ শতাংশ ভোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বসিরহাটে বামেদের ভোট কার্যত বিভাজিত হয়েছে। তাতে সুবিধা পেয়েছে তৃণমূল।

তাদের মতে, ওখানে হিন্দুত্বকে ঠেকাতে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলেন বসিরহাটের ভোটারেরা। সেই জন্যই বঙ্গেও যখন নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ভোটবাক্স ভরিয়েছেন ভোটদাতারা, সেই সময়ে সব হিসাব পিছনে ফেলে সেখান থেকে ৩,৫০,৩৬৯ ব্যবধানে জিতেছেন নুসরাত। যিনি নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী সম্ভবত রাজ্যের কনিষ্ঠতম সাংসদ। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭,৮২,০৭৮টি। নুসরাতের প্রতিপক্ষ বিজেপির সায়ন্তন ভোট পেয়েছেন ৪,৩১,৭০৯টি।

হাড়োয়া, মিনাখাঁ, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর এবং বাদুড়িয়া— সব বিধানসভা আসনেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। একদা বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতেছিলেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য। এবার সেখানেও বিজেপির থেকে ১৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছে রাজ্যের শাসক শিবির।

বাদুড়িয়ার বিধায়ক কংগ্রেস প্রার্থী কাজি আব্দুল রহিম। সেখানে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। হাড়োয়ায় ৯৭ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপিকে পিছনে ফেলেছে তৃণমূল। মিনাখাঁয় সেই ব্যবধান ৬৬ হাজারের বেশি। বসিরহাট উত্তরে এবার তৃণমূল এবং বিজেপির ভোটের ফারাক প্রায় ৮৩ হাজার। জেতার পরে মাঝরাতে বসিরহাটে পৌঁছে শংসাপত্র নেন নুসরাত।

5-6.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি খোলা চিঠি লিখেছেন নুসরাতের প্রবাসী ভাই আরমান। খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতেছি যে আমি নুসরাত জাহান রাফির হতভাগা মেজ ভাই আহমুদুল হাসান আরমান, কুয়েত প্রবাসী। আপনার কঠোরতম হস্তক্ষেপে ও অক্লান্ত পরিশ্রমে অল্প সময়ে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার কারায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি।।

শুধু গ্রেপ্তারের মধ্যে সমাপ্ত নয়। আমার প্রিয় বোনকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে যারা আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। আমি মনে করি আর দীর্ঘায়িত না করে অতি দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক এবং খুনিদেরকে যেনো দ্রুত ট্রইবুনালের বিচারের আওতায় নিয়ে এসে আদালত রায় প্রধান করে। প্রধানমন্ত্রী ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আকুল আবেদন যেন স্বল্প-সময়ের ভিতর তা কার্যকর করা হয়।

আজ সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছি আমার বোনের হৃদয় কাপানো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দেখবে বলে..। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এক বুক চাপা কষ্ট নিয়ে আপনাদের প্রতি আকুল আবেদন রইল..!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, একমাত্র বোন নুসরাত জাহান রাফিকে হারিয়ে নিজেকে বড্ড একা মনে হচ্ছে, চোখের পানিগুলো যেন অঝরে ঝরতে থাকে। মায়ের কাছে যখন ফোন দেই মায়ের বুক ফাটা কান্না যেন আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে, কি বলে সান্তনা দিব মাকে…?

পরিশেষে এটাই বলতে চাই, একটা স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো অপরাধি অপরাধ করে পার না পায় সেই বিষয়ে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। সকল দেশবাসীর কাছে আমার বোনের জন্য দোয়া প্রার্থী। আমার বোন কে যেন আল্লাহ তা’আলা জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করে।’

ghws.jpg

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির পর কেরসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেছে মামলার এজহারভূক্তীয় প্রধান আসামী মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

রোববার (২৮ এপ্রিল) ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে এ স্বীকারোক্তি প্রদান করে।

রাত সাড়ে আটটায় পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন এ বিষয়য়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

এসময তিনি বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সাথে কারাগারে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুর উদ্দিন দেখা করতে এলে তিনি নুসরাতককে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে বলে, চাপ প্রয়োগে কাজ না হলে পুড়িয়ে মেরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা জেলের ভেতরের প্রান্ত থেকে এ প্রান্তে থাকা শামীম ও নুর উদ্দিনকে এ নির্দেশ দেয়।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩ টায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতের যৌন হয়রানীর মামলা দায়েরের পর ওই মামলা তুলে নিতে বার বার চাপ দেয়া হয়। নুসরাত ও তার পরিবার মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কারাগারে থাকাবস্থায় নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামী নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমকে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন ও তা আত্মহত্যা বলে প্রচারের পরামর্শও দেন।

উল্লেখ্য, নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানীর মামলায় ২৭ মার্চ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে কেরসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয় নুসরাতকে। ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের দায়ের করা মামলার ১ নম্বর আসামী করা হয় সিরাজ উদ দৌলাকে। ১০ এপ্রিল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিনের আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত এজহারের ৮ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৯ জন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

22-15.jpg

ফেনী জুড়ে আলোচনায় এখন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রুহুল আমিন। প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পেরোতে না পারা রুহুল এখন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শুক্রবার পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা। তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পেছনে অন্যতম কারিগর এই রুহুল আমিন। একসময় পেটের তাগিদে সৌদি আরব চলে যায় সে। সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে অর্থ উপার্জন করত রুহুল আমীন। কোন রকমে চলতো তার সংসার।

আর এখন সে কোটিপতি। বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা ও সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির (সদ্য বাতিলকৃত) সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশ জাতীয় পার্টির হাত ধরে। অল্পদিনে তিনি দল পরিবর্তন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ দখল করেন।

এক পর্যায়ে সভাপতির অনুপস্থিতিতে বাগিয়ে নেন দলের উপজেলা শীর্ষ পদ। চাঁদাবাজি, বালু মহালের নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে দলের নেতা-কর্মীরাও তার রোষানলের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

নুসরাত হত্যার ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয় লোকজন। উঠে আসছে তার অপকর্মের ইতিহাস। শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক মানবজমিন এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে।

শনিবার সোনাগাজীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, মাদরাসার একাধিক শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রুহুল আমিনের অঘোষিত রাজত্বের ফিরিস্তি। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উচিয়াঘোনা কেরানী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পড়াশোনা করেছেন মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বড় ভাই আবুল কাশেম স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরেক ভাই আবু সুফিয়ানও আমেরিকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, এক সময় জাতীয় পার্টির সদস্য ছিলেন রুহুল আমিন।

১৯৯৭ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল কবিরের হাতে এক সমাবেশে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০০১ সালে চলে যান সৌদি আরব। সেখানে দীর্ঘ ৯ বছর ট্যাক্সি চালিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ফের সোনাগাজীতে ফিরে আসেন রুহুল আমিন। দেশে ফিরেই দলে সক্রিয় হতে তৎপরতা চালান। ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে কাউন্সিলর মনোনীত হন। অনেকটা আকস্মিকভাবে ২০১৫ সালে সোনাগাজী ছাবের পাইলট হাই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন।

এখান থেকেই শুরু হয় তার নানা অপকর্ম। ডালপালা বিস্তার শুরু করে ক্ষমতার প্রভাব বলয়। রুহুল আমিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি থাকা অবস্থায় দলের সভাপতি ফয়েজুল কবিরের উপরও চলে নানা নিপীড়ন। এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়েন রুহুল আমিন।

এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ফয়েজুল কবির এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে অবস্থান নেন। ২০১৮ সালের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে দলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সোনাগাজী উপজেলায় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদ পাওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রুহুল আমিন গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী।

ছোট ফেনী নদীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প অংশের একটি বালু মহাল ও ছোট ফেনী নদীর সাহেবের ঘাট এলাকায় আরেকটি বড় বালু মহাল দখলে নেন। বালু মহল দুটি থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রুহুল আমিন চক্র। যদিও একসময় এ দুটি বালু মহাল ছিল সদ্য সাবেক এমপি রহিম উল্যাহর লোকজনের নিয়ন্ত্রণে।

রহিম উল্যাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ছয় একর জায়গা প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নেয়ার পরও আমাকে জোর করে উচ্ছেদ করে দেয়া হয়। আমার বালু মহাল দখলে নেয় রুহুল আমিন ও তার ক্যাডার বাহিনী। ওই বালু মহালে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বালু ছিল, সেগুলোও লুটে নেয় তারা।

এসবের প্রতিবাদ করায় আমার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা সময়ে হামলা করা হয়েছে। আমার গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল, বাড়ি ও জমিতে হামলা করা হয়। সোনাগাজী, জিরো পয়েন্ট ও নানা জায়গায় হামলা হয়েছে। মানুষ এখনো সেসবের সাক্ষী। রুহুল আমিনের হামলা-নির্যাতনে আমি এখন এলাকা ছাড়া।

এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ভাই ও ভাতিজাকে হারাতে হয়েছে। প্রবাস জীবনের কষ্টের টাকায় সোনাগাজীতে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদ কিনেছি। ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না।

রুহুল আমিনের হামলা-নির্যাতনের বিষয়ে কখনো অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে রহিম উল্যাহ বলেন, বারে বারে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কেউ আমার বিচার করে নাই। আমি এখন আর কারো কাছে বিচার চাই না।

আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া আসলে আমার আর কিছু করারও নেই। শুধু আল্লাহর কাছেই এখন বিচার চাই। সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম চরচান্দিয়া এলাকায় ছোট ফেনী নদীর উপর নির্মানাধীন সাহেবের ঘাট ব্রীজ এলাকায় ইজারা এলাকার বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট বিকালে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসী অভিযান চালায়।

সে সময় ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনকারী কাউকে না পেয়ে ড্রেজার মেশিনটি ধ্বংস করা হয়। একটি ড্রেজার মেশিনের সংযোগ তার কেটে দেয়া হয় এবং ড্রেজার মেশিনের ইঞ্জিনে এক কেজি লবণ ও এক কেজি চিনি ঢেলে দিয়ে অকেজো করে দেন।

ওই ঘটনার পরদিন ফেনীর সোনাগাজীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল পারভেজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বালু মহাল ইজারাদার মো. রুহুল আমিন।

বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনটি অকেজো করে দেয়ার অভিযোগ এনে আনুমানিক ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেয়।

মামলার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে আদালতের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তাতের ঝড় উঠলে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ও জেলা প্রশাসকের মধ্যস্ততায় মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রুহুল আমিন।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতা হলেও তার সাথে সখ্য রয়েছে স্থানীয় বিএনপি-যুবদলের নেতাদের সাথেও। রুহুলের চাচাতো ভাই-চরচান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়াধন, বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম, ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক দুলাল ওরফে বাটা দুলাল, ইয়াবা বিক্রেতা হেলাল, সিরাজ ওরফে সিরাজ ডাকাত, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝি, ফকির বাড়ির গোলাপ, আব্দুল হালিম সোহেল, সাবমিয়াসহ বেশ কয়েকজন তার ঘনিষ্ঠ।

রুহুল আমিনের ২০/২৫ জনের ক্যাডার বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য আবুল কালাম বাহারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তার ক্যাডাররা।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, চরদরবেশ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমেদ, সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা স্বপনসহ অনেকেই বিভিন্ন সময় হামলা-মারধরের শিকার হন।

সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাগাজী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মামুন ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

কিন্তু ৬ থেকে ৭ মাস আগে নানা কৌশলে শেখ মামুনকে সরিয়ে দিয়ে রুহুল আমিন সদস্য মনোনীত হন। এক্ষেত্রে সিরাজের নানা অপকর্ম ঢাকতে এবং নিজের আধিপত্য ও প্রভাব বলয় বাড়াতে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজই তাকে সদস্য হবার সুযোগ করে দেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই সহ-সভাপতি বনে যান রুহুল আমিন।

মাদরাসার মার্কেটের ১২টি দোকান, ভেতরের বিশাল পুকুরের মাছ চাষ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা উপায়ে আদায় করা বাড়তি টাকারও ভাগ পেতেন সহ-সভাপতি রুহুল ও আরেক সদস্য সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মকসুদ। ক্যাম্পাসের বাইরেও মাদরাসার রয়েছে জমিসহ কোটি টাকার সম্পদ।

মাদরাসাটির একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিরাজ তাদের প্রায়ই বলতেন ‘রুহুল, মকসুদ এরা সবাই অশিক্ষিত। এরা থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। ওরা সবসময় আমাদের পক্ষে থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রুহুল ও মকসুদ মাঝে মাঝে ওই মাদরাসা ক্যাম্পাসের চারতলা ভবনের দোতলায় সিরাজের কক্ষে সময় কাটাতেন’। দলীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়েজ কবির স্বপদে বহাল থাকা অবস্থায় রুহুল আমিন কীভাবে সভাপতি হলেন তা অনেকেই জানেন না। ফয়েজ কবির উপজেলা সভাপতি হিসেবে ফেনী জেলা পরিষদে প্রথমে সদস্য ও পরে প্যানেল চেয়ারম্যান পদ পান।

তিনি বলেন, ‘আমি পদ থেকে পদত্যাগও করিনি, আবার আমাকে বাদও দেয়া হয়নি। তাহলে অন্য কেউ কীভাবে এ পদের পরিচয় দিতে পারে-তা বোধগম্য নয়।’ এর বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় শালিস বাণিজ্য ও তদবির বানিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।

নাসির উদ্দিন অপু নামে এক নেতা এক্ষেত্রে তার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সাবেক এমপি রহিম উল্যাহ বলেন, ‘আমি ও ডাক্তার গোলাম মাওলা সোনাগাজী শহীদ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম।

কিন্তু সোনাগাজী বাজারের পশ্চিম দিকের একটি পক্ষ হঠাৎ করে রুহুল আমিনকে সেখানে নিয়ে যায় এবং অভিভাবক সদস্যসহ কয়েকজন সদস্যকে চাপ প্রয়োগ করে তাকে সভাপতি করতে বাধ্য করে।

কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আমাকে সভাপতি মনোনীত করলেও রুহুল ও তার ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলা করায় আমি সভাপতির চেয়ারে বসতে পারিনি।’ সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে হত্যার ঘটনায় গত রোববার মামলার আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এজাহারের বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৩ থেকে ১৪ জনের নাম উঠে আসে।

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার পর শাহাদাত হোসেন শামীম মোবাইল ফোন থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে ফোনে ‘কাজ হয়ে যাবার’ কথা জানায়। এসময় রুহুল বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’ নির্দেশ পাওয়ার পর আরো দু’একদিন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

এরপর নুর উদ্দিন ময়মনসিংহের ভালুকা ও শামীম ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় চলে যায়। শুরুতেই একটি চক্র হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করে। এটি সমন্বয় করেন ওসি মোয়াজ্জেম ও আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। সহযোগিতা করেন কাউন্সিলর মকসুদ। এ কাজে ৫ থেকে ৬ জন স্থানীয় সাংবাদিককে দায়িত্ব দেয়া হয়।

এদের প্রত্যেককে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। এদের দায়িত্ব ছিল নিজ নিজ গণমাধ্যমে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে নিজ নিজ আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো।

এদের মধ্যে তিনজন জাতীয় দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা ও অন্য তিনজন স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী। ঘটনার কিছু সময় পর নিজের ফেসবুক আইডিতে নুসরাতের আত্নহত্যা বলে পোস্ট দেন একটি দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা। আদালত সূত্রের মতে-ঘটনার পর রুহুল ও শামীমের ৬ থেকে ৭ সেকেন্ডের ফোনালাপের নিশ্চিত তথ্য পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে।

সোনাগাজীর স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়-ঘটনার পর মিডিয়া এবং পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সামনে যেন ওই মাদরাসার কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক মুখ খুলতে না পারেন-সেই চেষ্টাও করেন রুহুল আমিন ও তার সহযোগিরা।

এর অংশ হিসেবে ঘটনার পরদিন অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে আগেই ঘটনাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করতে কয়েকজন সাংবাদিক ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে ৫ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে

nusrat-jahan-4-20190419205520.jpg

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের পাঁচটি আসনে পাঁচজন তারকা প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে দুজন একেবারে নতুন। নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তী। এর মধ্যে নির্বাচনে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র থেকেই লড়ছেন টলিউডের ব্যস্ততম অভিনেত্রী নুসরাত।

বিরোধীদের অভিযোগ, গ্ল্যামারকে হাতিয়ার করেই নাকি একটি লোকসভা আসন নিজেদের ঝুলিতে রাখতে চেয়েছে তৃণমূল। সমালোচকদের এই টিপ্পুনির কড়া জবাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতির ময়দানে একেবারে আনকোরা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য নুসরতকে ভোটযুদ্ধে লড়াই করানোর চিন্তাভাবনা বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। দলনেত্রীর দাবি যে একেবারেই ভিত্তিহীন নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে তা স্পষ্ট করে জানান দিলেন তৃণমূলের এই তারকা প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার কচুয়াধামে লোকনাথের মন্দিরে পূজা দেন তিনি। পরে ওই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। নুসরাত লিখেছেন, ‘বসিরহাট কচুয়া বাবা লোকনাথের শান্তির ধামে। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। আমি নুসরাত জাহান। মুসলিম পরিবারের মেয়ে। আমি ধর্মের ভেদাভেদ মানি না। আমি যেমন কোরআন পড়েছি। তেমন গীতা ও বাইবেল পড়েছি। কোথাও ধর্মের ভেদাভেদ ও হানাহানির কথা বলেনি।’

বৃহস্পতিবার একেবারে ভিন্ন মেজাজে জনসংযোগ করেন তারকা প্রার্থী নুসোত। হাড়োয়ার অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের দস্যি কিশোরীর মতো আচরণ করতেও দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে। এ সময় কখনও কোলে তুলে নেন ছাগলছানা।

তবে এত কিছুর পরেও স্থানীয়দের সমস্যার কথা শুনতেও ভোলেননি নুসরাত। জিতলে পারলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

moni-nusrat-20190419220622.jpg

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়ায় তার সহপাঠী কামরুন নাহার মণিকে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাফি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, রাফি হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার কামরুন নাহার মণিকে বুধবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মণিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজায় ওয়ার্ল্ড ফেমাস বোরকা হাউস নামে একটি বোরকা দোকানে গিয়ে দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে। পরে পিবিআইয়ের দলটি সোনাগাজী মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে রাফিকে কীভাবে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দেন মণি।

সাংবাদিকরা মানিক মিয়া প্লাজায় ওয়ার্ল্ড ফেমাস বোরকা হাউসের মালিক জসিম উদ্দিনকে বোরকা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মণি আমার দোকান থেকে একসঙ্গে তিনটি বোরকা ক্রয় করেনি। তবে মাঝে মাঝে বান্ধবীদের নিয়ে সে আমার দোকান থেকে বোরকা কিনতো।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া মণির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া পুরুষদের গায়ে থাকা বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

nus-20190419215831.jpg

মাদরাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ভাগনি (শ্যালিকার মেয়ে) উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা। শুক্রবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ দিকে একই আদালত জাবেদ হোসেনকে আরও তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।

এর আগে ১৩ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দেন। জাবেদ নুসরাত হত্যা মামরার এজহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি। সে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে।

পিআইবির চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে যে দুজন নারী সদস্য জড়িত ছিল তাদের মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা একজন। সে জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেন, তাকে সে নিচ থেকে ডেকে নেয় ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পা ও হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআই’র অন্য একটি সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা স্বীকার করে বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের তিনটি সভার মধ্যে প্রথমটিতে সে ও মণি উপস্থিত ছিল। হত্যাকাণ্ডের সময় পপি ও মনি হাত বাঁধে জাবেদ ও যোবায়ের কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। পরে তারা পরীক্ষার হলে অবস্থান করে। নুর উদ্দিন ও হাফেজ আবদুল কাদের তাদের নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল শম্পা সন্দেহে সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে উম্মে সুলতানা পপিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে একই মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষার্থী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের জবানবন্দি আদালত রেকর্ড করেছে। এদের সবাই আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে ১৪ এপ্রিল রোবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম। ১৭ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে আবদুর রহিম ও শরীফ, ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় একই আদালতে হাফেজ আবদুল কাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধে ওই অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠি আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।

এর আগে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

nusrat-hotta-2-20190417142007.jpg

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফেনীর মাদ্রসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা তদন্ত শুরু করেছেন। সিআইডির সিনিয়র সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এ তদন্ত শুরুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সংবাদ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিংবা ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোনো অবৈধ লেনদেন হয়েছে কিনা কিংবা কে বা কারা এসব লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সেসব খুঁজে করতে কাজ শুরু করছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

এর আগে ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেওয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা সঙ্গীরা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। কয়েকদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান।

আলোচিত এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা হলো– অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরীফ ও হাফেজ আবদুল কাদের। এর মধ্যে চার জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

52s.jpg

ফেনীর সোনাগাজীতে পাশবিক কায়দায় আগুনে পুড়িয়ে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হাফেজ আবদুল কাদির।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

এ নিয়ে নুসরাত হত্যা মামলায় ৪ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

জবানবন্দিতে কাদির জানিয়েছেন, কারাগার থেকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লার পরামর্শ ও নির্দেশেই নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গত ২৮ ও ৩০ মার্চ কাদির অধ্যক্ষের সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা করেন। এরপর ৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় ‘অধ্যক্ষ সাহেব মুক্তি পরিষদের’ সভা করা হয় মাদরাসায় কাদিরের রুমে। ওই রাতেই ১০টার দিকে কাদিরের কক্ষে বৈঠকে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। ওই সভায় কাদির সহ ১২ জন উপস্থিত ছিলেন।

জবানিতে কাদির আরও জানান, পরিকল্পনা মাফিক ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগে তিনি নিজে, নুর উদ্দিন, রানা, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, ইমরানসহ বেশ কয়েকজন মাদরাসার গেটে নজরদারিতে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি মাদরাসা প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যান।

কাদিরের জবানবন্দি অনুযায়ী যেভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হয়: নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নেয়া ও ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় মোট ৫ জন অংশ নেন। সেখানে ৩ পুরুষ ও ২ জন নারী ছিলেন। শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, জোবায়ের আহমেদ, জাবেদ হোসেন বোরকা পরা ছিলেন। নারীর মধ্যে উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (ছদ্মনাম শম্পা) ও কামরুন্নাহার ওরফে মণি ছিলেন।

জবানিতে কাদের আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই মাদরাসার প্রধান ফটকে পাহাড়ার দায়িত্বে ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক আফছার। শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল পাহারায় ছিলেন সাইক্লোন শেল্টারের নিচে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার কাদির সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক।

এদিকে আদালতে আব্দুল কাদিরের জবানবন্দি শেষে পিবিআই চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নুসরাত হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কাদির। তিনি হত্যাকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।’

এ সময় পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম ও আবদুর রহিম ওরফে শরিফ।

ওই তিনজনও জবানিতে একই ধরনের কথা বলেন বলে জানান হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলিম পরীক্ষা চলাকালে মাদরাসা ভবনের ছাদে মুখোশধারী ৪ জন মিলে আগুনে ঝলসে দেয় নুসরাতের শরীর। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে ও পরে নুসরাতকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে। ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন নুসরাত।

nusrat-hotta-2-20190417142007.jpg

১২ জনের সভায় ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আবদুর রহিম ওরফে শরিফ। এ নিয়ে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিতে জানায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে ও পরামর্শে নুসরাতকে হত্যার জন্য গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়। এ জন্য ২৮ ও ৩০ মার্চ দুই দফা কারাগারে থাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করা হয়। ৪ এপ্রিল সকালে ‘অধ্যক্ষ সাহেব মুক্তি পরিষদের’ সভা করা হয়। রাতে ১২ জনের এক সভায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তার (রহিম) দায়িত্ব পড়ে মাদ্রাসার গেটে। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও ছিলেন। মাদ্রাসার ছাদে বোরকা পরে ছিলেন শাহাদাত, জোবায়ের ও জাবের। এ ছাড়া ছাদে ছিলেন মণি ও পপি।

বুধবার ভোরে ফেনী শহর থেকে মোহাম্মদ আবদুর রহিম ওরফে শরিফকে গ্রেফতার করে পিবিআই। একইদিন বিকেল ৪টায় ফেনীর আদালতে হাজির করা হয় তাকে। সেখানে সে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত শেষ আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে পলাতক আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও একই মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল কাদের অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকত। সেই হোস্টেলেই নুসরাত হত্যার পরিকল্পনার বৈঠক হয়। নুসরাতকে আগুন দেওয়ার পরদিন মালপত্র নিয়ে হোস্টেল ত্যাগ করে সে। এ ছাড়া বুধবার ভোরে ফেনী শহর থেকে মোহাম্মদ আবদুর রহিম ওরফে শরিফকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরই মধ্যে বিকেলে শরিফকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে তোলা হয়। একই আদালত গ্রেফতার আরেক আসামি কামরুন্নাহার মণিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ও এজাহারের বাইরে ১৯ জন গ্রেফতার হলো।

গ্রেফতার আবদুল কাদের ফেনীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠানবাড়ীর আবুল কাসেমের ছেলে। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পরদিন মালপত্র নিয়ে মাদ্রাসার হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায় সে। ৮ এপ্রিল কাদেরসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা করার পর সে আত্মগোপনে চলে যায়। এর পর থেকেই সে মিরপুরে তার এক ভাইয়ের বাসায় লুকিয়ে ছিল। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার ছাপড়া মসজিদের পাশের ওই বাসা থেকে গ্রেফতার হয় সে।

গ্রেফতার অন্য আসামি শরিফ হত্যা পরিকল্পনায় সর্বশেষ বৈঠক ও হত্যার সময় গেট পাহারায় ছিল। বুধবার বিকেল ৪টায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় শরিফের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে শরিফকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।