নৌকা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

ctg-20190318221732.jpg

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে একমাত্র ফটিকছড়িতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হন নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী। সেখানেই আরেক আওয়ামী লীগ নেতার কাছে হেরে বসছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মুহুরি (নৌকা)।

১৫ হাজার ১৬১ ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়ব (আনারস)।

বেসরকারি হিসাবে ৫৭ হাজার ৬০২ ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়ব (আনারস)। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মুহুরি (নৌকা) পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৪১ ভোট।

5ne.jpg

ঠিকানা ও পদবি একই। শুধু বদলেছেন পরিচয়। আগে ছিলেন ‘শহীদ জিয়া একতা ক্লাব’-এ, এখন হয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু একতা ক্লাব’-এর সভাপতি। বলছি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর খুরশিদ আলমের কথা। কয়েক দিন ধরে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌর এলাকার গনিপুরের খুরশিদ আগে বিএনপি করলেও এখন রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়েছেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় ঠেলাগাড়ির শ্রমিকদের সংগঠনের নেতাও তিনি।

শুধু খুরশিদ আলমই নন, এমন অনেক ‘খুরশিদ’ই এখন রাতারাতি খোলস পাল্টে ‘আওয়ামী লীগার’ হয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন আওয়ামী লীগার হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। কেউ কেউ মুজিব কোট লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা-ওলিগলি। আবার রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামীদামি ব্র্যান্ডের কাপড় দিয়ে মুজিব কোট বানানোর হিড়িক পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীই নন, অনেক পেশাজীবীও  এখন টক শোতে মুজিব কোট পরা শুরু করেছেন। নিজেকে ‘আওয়ামী লীগার’ প্রমাণ করতে প্রাণপ্রণ চেষ্টা করছেন। শুধু টক শোই নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে তারা মুজিব কোট পরে হাজির হচ্ছেন। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছে দল ও পরিচয় পাল্টানোর প্রতিযোগিতা। সচিবালয়ে ভিড় বাড়ছে তাদের। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতা উল্লেখ করে ভিজিটিং কার্ডও বিলি করছেন, যারা বিএনপির পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডের মালিক ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শ্রেণি আছে, যারা সব সময়ই সরকারি দলের লোক। সে কারণেই ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ে। আর এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। নিকট অতীতে উপমহাদেশে এত বিশাল জয় নিয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগে আসতে চাইছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লোকজন। সে কারণে রাতারাতি দল বদল করে বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগ ‘তকমা লাগানো’র প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষে অন্য দল থেকে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক এমপি-মন্ত্রী ও নেতা নিজ বলয় ভারী করতে যোগদান করাচ্ছেন বা করিয়েছেন খোলস পাল্টানো ব্যক্তিদের। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে জামায়াত-বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এদের অনেকেই হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নাশকতা মামলার আসামি। মামলা থেকে রেহাই পেতে তারা যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগে। একইভাবে ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আবার আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়েছে। এসব ব্যক্তির আওয়ামী লীগে যোগদানকে ভালোভাবে দেখছেন না দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ভয়ংকর খারাপ। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখলাম একটি জেলায় গণধর্ষণকারী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। আমি বলব, আওয়ামী লীগে এমন কাউয়া দরকার নেই। এরা শুধু আওয়ামী লীগেরই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। এখন অনেকেই আওয়ামী লীগে আসতে চাইবে বা আওয়ামী লীগার সাজার চেষ্টা করবে। কারণ অনেকেই ফৌজদারি মামলা থেকে বাঁচার জন্য, অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দল বদলাবে। এসব কর্মীর দরকার নেই। এটাই শেষ নয়, আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রায় শেষ। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চাইবে। কাজেই দলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সূূত্রমতে, গত ১০ বছরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের লোকেরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছে তাদের অর্থবিত্তের সাহায্যে এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে কৌশলে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তারা বৈধ ও অবৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অঢেল অর্থের মালিক হয়। এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাহারা হওয়ার পর তারা এই অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করে। তারা আওয়ামী লীগের একশ্রেণির নেতা-কর্মীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পার্টনার করে ডিরেক্টর, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে বসায়। তখন এই পার্টনারদেরই দায়িত্ব হয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থসম্পদ রক্ষা এবং তা পাহারা দেওয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে এখন হাইব্রিড বা কাউয়া পরিহার করতে হবে। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ যারা নিজেদের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগে ভিড়ছে তারা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেটে পড়বে। দুর্দিনে থাকবে না। গত ১০ বছরকে ভুলে যেতে হবে। বড় বিজয়ে বড় শঙ্কা থাকে। সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। জামায়াত-বিএনপি থেকে নেতা-কর্মীকে দলের টানা যেমন বন্ধ করতে হবে, যারা খোলস পাল্টে মুজিব কোট পরে আওয়ামী লীগার হওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। টানা হ্যাটট্টিক জয়ে ক্ষমতায় আসার পর মুজিব কোট পরা পেশাজীবীদের চিনে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘রাতারাতি সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে আসতে চাইলে তাকে নেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে কোনো সংগঠন তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা আদর্শ নিয়ে দল করতে আসে না। তারা আসে ক্ষমতা ভোগ করতে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এরাই হত্যা, অপহরণ, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়। ফলে দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর পড়ে। এখন দল টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা জীবনে এক দিনও আওয়ামী লীগ করেনি, বা দলের জন্য ঝুঁকি নেয়নি, টক শোতে কথা বলেনি, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা এমপি-মন্ত্রীদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে। তবে সতর্কভাবে তাদের হ্যান্ডলিং করতে হবে।’ এদিকে রাজনীতিতে ‘অতিথি পাখি’র আগমনে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা অভিমান করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভাবছেন। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অভিনেত্রী থেকে শুরু করে দল করেন না এমন ব্যক্তিরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন কেউ কেউ। এদের একজন সাবিনা আকতার তুহিন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে স্লোগানকন্যা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তুহিন। তিন দিন আগে তিনি তার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতি থেকে মনে হয় বিদায় নিতে হবে। নায়ক-নায়িকাদের এত ভিড়ে আমাদের আর দেখা পাওয়া কঠিন। আন্দোলন-সংগ্রামে রোদে পোড়া শরীর এখন কিছুটা ভালো দেখতে হলেও নায়িকাদের রূপে বিলীন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে এত লোক, বিরোধী দলে থাকতে তো দেখি নাই। মেয়েদের রাজনীতিতে কেবলই জ্বালা, নায়িকাজ্বালা। আবার মেয়ে হওয়ার জন্য পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করলেও সাধারণ আসনে নমিনেশন দেওয়া যাবে না। সরকারি দলের চেয়ে তো বিরোধী দলেই ভালো ছিলাম, নিজেদের দল নিজেদের ছিল। এখন মহাবিপদ। আমাদের দল ছিনতাই করছে বিএনপি থেকে আমদানি হওয়া হাইব্রিড নায়িকারা।’

mokbull.jpg

মেহেরপুর–২ (গাংনী) আসনের বর্তমান সাংসদ মকবুল হোসেনের ভাড়া বাড়ির সামনে একটি দোকানের ওপর স্থাপিত কাঠের নৌকা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। মকবুল হোসেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমর্থকেরা এ কাজ করেছেন বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

মকবুল হোসেনের একান্ত সহকারী সাইফুজ্জামান বলেন, দলের মনোনয়ন না পাওয়ার খবর শুনে গাংনীর পৌর শহরে সাংসদের বাসভবনে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা সকাল থেকে জড়ো হন। তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার দাবি জানান। তবে সাংসদ এলাকায় ফেরার পর সবার সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নৌকা নামানোর বিষয়ে সাইফুজ্জামান বলেন, বাসভবনের সামনে একটি দোকানের ওপর কাঠের তৈরি একটি নৌকা ছিল। দোকান মালিক গতকাল সোমবার সেটি নামিয়ে ফেলেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দোকানটি সাংসদের কর্মী–সমর্থকদের আড্ডার স্থান।

সাংসদ মকবুল হোসেন মুঠোফোনে জানান, ‘দলের জন্য সারা জীবন কাজ করেও মনোনয়ন পাওয়া গেল না। তৃণমূল নেতারা প্রতিনিয়ত জানতে চাচ্ছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব কি না। সবার সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

nauka.jpg

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ ১১টি দল নৌকা প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে চায়।

রোববার (১১ নভেম্বর) দলগুলোর তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, নৌকা প্রতীক চাওয়া দলগুলো হলো- আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি (জেপি) (মঞ্জু), কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, ন্যাপ (মোজাফফর), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও বাসদ (রেজা)।

বিকেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদের কাছে এ তালিকা জমা দেন।

উল্লেখ্য, ১৪ দলীয় জোটের একাধিক দল এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আলাদাভাবে চিঠি দিয়ে নৌকা ও তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট করতে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।