নৌবাহিনী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

BN8q2.jpg

বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নৌবহরে সংযোজিত হলো নতুন দুইটি আধুনিক ফ্রিগেট বানৌজা ‘ওমর ফারুক’, ‘আবু উবাইদাহ’ ও একটি করভেট যুদ্ধজাহাজ ‘প্রত্যাশা’ এবং দুইটি জরিপ জাহাজ বানৌজা ‘দর্শক’ ও ‘তল্লাশী’।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে জাহাজসমূহকে নৌবাহিনীতে কমিশনিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধজাহাজসমূহ নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করলো।

এর আগে চট্টগ্রামে বানৌজা ঈসাখান নৌ জেটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল জাহাজসমূহের অধিনায়কগণের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ফলক উন্মোচন করেন।

কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে রুপান্তরে বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আধুনিক নৌবাহিনী গড়ার স্বপ্নকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সদ্য সংযোজিত হওয়া এ জাহাজসমূহ নৌবহরে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশের জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনে ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর আলোকে নৌবহরে সংযুক্ত হলো এ পাঁচটি আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ।

সদ্য সংযোজিত হওয়া নৌবাহিনীর দুটি ফ্রিগেট ‘ওমর ফারুক’ ও ‘আবু উবাইদাহ’ এর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১১২ মিটার ও প্রস্থ ১২.৪ মিটার এবং করভেট যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ‘প্রত্যাশা’এর দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার ও প্রস্থ ১১.১৪মিটার। যুদ্ধ জাহাজসমূহ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম।

যুদ্ধজাহাজসমূহ শত্রুর বিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপনযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি র‌্যাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, র‌্যাডারজ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরণের যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত।

এছাড়া, জাহাজসমূহে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য রয়েছে ডেক ল্যান্ডিং সুবিধাদি। গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মোতায়নযোগ্য এ জাহাজসমূহের মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যূতা রোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, বøু-ইকোনমির বিভিন্নকর্মকান্ড পরিচালনাসহ মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতায় আরোও একটি মাইলফলক অর্জনে যুক্ত হলো খুলনা শীপইয়ার্ডে নির্মিত আধুনিক দুটি জরিপ জাহাজ বানৌজা‘দর্শক’ ও ‘তল্লাশী’। এজরিপ জাহাজ দুটির প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩২.৭৮মিটার ও প্রস্থ ৮.৪ মিটার যা ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৪ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। দেশের উপকূলীয় এলাকায় সকল ধরনের হাইড্রোগ্রাফিক এবং ওশানোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার সক্ষমতা রয়েছে জাহাজ দুটির।

কমিশনিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উর্দ্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

sheikh_hasina_corona_speach_desh_rupantor_6.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কারো সাথে যুদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আক্রান্ত হলে তা মোকাবেলার সামর্থ্য অর্জন করতে চায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নৌ বাহিনীর ৫টি জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সমুদ্রসীমা রক্ষা না, সমুদ্রের সম্পদ যাতে আহরণ ও ব্যবহার করা যায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

নৌবাহিনী তথা স্বশস্ত্রবাহিনীকে আধুনিক করে তুলতে নেয়া হচ্ছে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

jahaj-20190427174621.jpg

চীন থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে নৌবাহিনীর নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’। শনিবার চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছায় জাহাজ দুটি। চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চল কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবু আশরাফ, বিএসপি, এনসিসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানান। জাহাজ দুটির আগমন উপলক্ষে নেভাল জেটিতে নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক নাবিক উপস্থিত ছিলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নবনির্মিত জাহাজ বানৌজা সংগ্রাম ও বানৌজা প্রত্যাশার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১১ মিটার। জাহাজ দুটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। শত্রুবিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি র্যাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, র্যাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধসরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত।

জাহাজ দুটিতে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য ডেক ল্যান্ডিংসহ অন্যান্য সুবিধাি রয়েছে। গভীর সমুদ্রে দীর্ঘসময়ব্যাপী মোতায়নযোগ্য এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা রোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধসরঞ্জামে সজ্জিত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট। নৌবহরের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য গণচীনে নির্মিত দুটি করভেট নির্মাণের লক্ষ্যে চীনের শিপবিল্ডিং অ্যান্ড অফশোর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর পরের বছর ৯ আগস্ট জাহাজ দুটির স্টিল কাটিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করে।

জাহাজ দুটি গত ১২ এপ্রিল চীনের সাংহাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে চীনের ইয়ানতিয়ান বন্দর এবং মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর হয়ে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ অতিক্রম করে আজ চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছায়।

navy7.jpg

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ২০২০-এ অফিসার ক্যাডেট ব্যাচে (প্রথম গ্রুপ) জাহাজের ক্যাপ্টেন, এয়ারক্রাফট পাইলট, নৌকমান্ডো ও সাবমেরিনার পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১০ মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ নৌবাহিনী

ব্যাচের নাম: ২০২০-এ অফিসার ক্যাডেট ব্যাচ (প্রথম গ্রুপ)

পদের নাম: জাহাজের ক্যাপ্টেন, এয়ারক্রাফট পাইলট, নৌকমান্ডো ও সাবমেরিনার

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিজ্ঞানে এসএসসি ও এইচএসসি/সমমান। উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০। এছাড়া গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০। ইংরেজি মাধ্যমে ‘ও’ লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টি বিষয়ে ‘এ’ ও দুটি বিষয়ে ‘বি’ গ্রেড। ‘এ’ লেভেলের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে ‘বি’ গ্রেড (গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানসহ)। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরতদের নৌবাহিনীর উচ্চমান পরীক্ষা (এইচইটি)/সমমানের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শুধু সরবরাহ শাখার জন্য ব্যবসায় শিক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি। উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০। হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কমপক্ষে জিপিএ ৪.০০।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষদের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি ও স্ফীত ৩২ ইঞ্চি। নারীদের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪৬ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ইঞ্চি ও স্ফীত ৩০ ইঞ্চি।

বয়স: ০১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ১৬ বছর ৬ মাস থেকে ২১ বছর। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরতদের ১৮-২৫ বছর। শর্ত: বাংলাদেশি অবিবাহিত পুরুষ ও মহিলারা আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন ফি: ৭০০ টাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা নৌবাহিনীর ওয়েবসাইট www.joinnavy.navy এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১০ মে ২০১৯