পররাষ্ট্রমন্ত্রী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

dr-mumen-sylhet-20190524212028.jpg

সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের ৫৪টি নদী আছে। তবে দেশের মানুষ তিস্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। আমি মন্ত্রী হিসেবে যখন ভারত সফরে গেলাম। তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, তিস্তা চুক্তি কেন্দ্রীয় সরকারের অন প্রিন্সিপাল চুক্তি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য এটি সমাধান হচ্ছে না। আশা করি এবার তিস্তার সমাধান হবে।

শুক্রবার বিকেলে নগরভবনে সিলেট নগরের উন্নয়ন নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ভারতের নতুন সরকার সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের নতুন সরকার আসার ফলে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আর বাড়বে। আমরা মনে করি যদি ভারত বর্ষে স্থিতিশীল সরকার ক্ষমতায় থাকে তাহলে আমরা যে উন্নয়নের মহাসড়কে আছি। তা অব্যাহত থাকবে। এজন্য আমরা নরেন্দ্র মোদি সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছি।

তিনি বলেন, এর আগে নরেন্দ্র মোদি সরকার আমাদেরকে ৬০০টি বাস দিয়েছে, ৫০০টি ট্রাক দিয়েছে। ৩৫টি জেলায় হেলথ কমপ্লেক্স করে দিয়েছে। এছাড়া আমরা যতগুলো পণ্য ভারতে রফতানি করি সেগুলোর জন্য তারা ট্যারিফ কমিশন তুলে নিয়েছে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সিটি কাউন্সিলররা ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, সচিব বদরুল হক, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

forien-minister-20190521161744.jpg

পাকিস্তানিদের জন্য কোনো প্রকার ভিসা বন্ধ করেনি বাংলাদেশ। এ ধরনের কোনো নির্দেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়নি। বরং এই ইস্যুতে পাকিস্তান জোর করে বাংলাদেশের সঙ্গে ঝামেলা করতে চাচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

পাকিস্তানের নাগরিকদের গত ১৩ মে থেকে ভিসা দেয়া বন্ধ করেছে ইসলামাবাদের বাংলাদেশের হাইকমিশন- সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের তার দফতরে ডাকেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা ইস্যু বন্ধ রেখেছে বলে যে খবরটি বেরিয়েছে সেটি ননইস্যু। আসলে জোর করে পাকিস্তান আমাদের ঝামেলায় ফেলতে চাচ্ছে।’

প্রেস কাউন্সেলর মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের ভিসা পাকিস্তান না দেয়ার বিষয় স্বীকার করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের কিছু অফিসারকে ভিসা দিচ্ছে না। বিশেষ করে কনস্যুলার সেকশনের যে অফিসার, যিনি ভিসা ইস্যু করেন তারও ভিসার মেয়াদ বাড়াচ্ছে না। কনস্যুলার সেকশনের অফিসার যদি না থাকে তাহলে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা কে ইস্যু করবে? এই কারণে ভিসা ইস্যু করা যাচ্ছে না। কিন্তু ভিসা ইস্যু বন্ধ নেই।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা ইস্যু বন্ধ করেনি। যে খবরটি বেরিয়েছে সেটি সঠিক নয়। তবে ব্যক্তিবিশেষ বাংলাদেশের ভিসা নাও পেতে পারেন। সেটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন প্রতিবাদ পাঠাবো। সবাইকে জানাবো যে ভিসা না দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

nawar20190502160258.jpg

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বেড়াতে গিয়েছিল ছোট্ট আবনাওয়ার আল হেলালি। সঙ্গে ছিল মা, নানি ও মামা। বুধবার ১লা মে বালিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে প্রাণ হারায় ফুটফুটে নাওয়ার। তার মৃত্যুতে শোকে কাতর হয়ে পড়ে সবাই।

এরপরের ঘটনা আরও কষ্টের। সন্তানের মৃত্যুতে যখন সবাই দিশেহারা তখন নাওয়ারকে দেশে আনার জন্য ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসে ফোন করে। কিন্তু সেই ফোন আর কেউ ধরে না। একের পর এক ফোন দেয়ার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। রিং বাজে কিন্তু সারাদিনে একবারও কেউ ফোনটি ধরে নি। পরিশেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সেখানকার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবনাওয়ার আল হেলালির লাশ শুক্রবার দেশে এসে পৌঁছাবে।

জানা গেছে, আমেরিকা প্রবাসী নোমান হেলালী ও আজিজা বেগমের একমাত্র ছেলে আবনাওয়ার বিন হেলালি। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায়।

পানি থেকে উদ্ধারের পর স্বজনরা প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নাওয়ারের লাশ সেখানকার একটি সরকারি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। এরপর তারা দূতাবাসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাউকে না পেলে পরে বাংলাদেশ থেকে নাওয়ারের নানা শহীদ উল্লাহও জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসে অসংখ্যাবার ফোন দেন, তবে কেউ ফোন ধরেননি।

উপায়ান্তর না দেখে শহীদ উল্লাহ বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজের ফেসবুকে নাওয়ারের ছবিসহ একটি পোস্ট দেন।

তিনি লিখেন, ‘আমার এই ছোট্ট নাতি ইন্দোনেশিয়া বেড়াতে গিয়ে বালি দ্বীপে পানিতে তলিয়ে ইন্তেকাল করে। বর্তমানে তার মরদেহ ওখানকার একটি সরকারি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। ওখানে অবস্থানরত শিশুটির মা, নানি ও মামা শোকে কাতর। তারা চেষ্টা করছে জাকার্তায় বাংলাদেশ এম্বাসির সহযোগিতা নিতে। কিন্তু ওয়েবসাইটে (বাংলাদেশ দূতাবাসের) দেয়া ফোন ও মোবাইল উভয় নাম্বারে (+৬২২১৫২৬২১৭৩, +৬২২১২৯০৩৫৭৮৭) বারবার কল করেও তাদের পাচ্ছে না। বাংলাদেশ থেকে আমিও ব্যক্তিগতভাবে অনেকবার কল করেছি, ফোন ধরে না, রিং হয়। নিরুপায় হয়ে ইমেইলও পাঠিয়েছি। কোনো খবর নেই।’

তার এ পোস্টটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস এমদাদুল হকের দৃষ্টিতে আসে। তাৎক্ষণিক তিনি শহীদ উল্লাহের কাছে বিস্তারিত সব শুনে বিষয়টি যুক্তরাজ্যে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে অবহিত করেন। নাওয়ারের মৃত্যুর খবরে ব্যথিত হন আবদুল মোমেন। একইসাথে জাকার্তাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফোন না ধরার খবরে তিনি ক্ষুব্দ হন।

ড. আব্দুল মোমেন সঙ্গে সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ফোন করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে নাওয়ারের বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে নড়েচড়ে বসেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। তারা যোগাযোগ করেন নাওয়ারের পরিবারের সাথে। তার লাশ দেশে আনতে কথা বলেন ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষের সাথেও। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নাওয়ারের লাশ দেশে আনার অনুমতি মেলে।

এরপর নাওয়ারের নানা শহীদ উল্লাহ ফেসবুকে জানান, শুক্রবার নাওয়ারের লাশ নিয়ে স্বজনরা দেশে আসবেন। দেশে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত ১টা বেজে যেতে পারে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

momen-20190427155846.jpg

ভারতের সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি সই হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধায় ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে পানি কূটনীতি বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। এছাড়া গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়নের সময় আসছে বলেও উল্লেখ করেন ড. মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে গেছে যে সই হবেই হবে। তারপরও একজনের কারণে এটা একটু দেরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই চুক্তির বিষয়ে নয়াদিল্লি ও ঢাকা একমত থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে সেটি আটকে রয়েছে।

ড. এ কে মোমেন বলেন, বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সেটি চলমান থাকলে ভালো। আমি যখন ভারতে গিয়েছিলাম তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এ সময় তারা বলেছেন, তারা বাকি নদীগুলোর সমস্যার বিষয়েও নীতিগতভাবে সম্মত এবং এটি এই অববাহিকার উপকারের জন্য হবে।

নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে উভয় দেশের মানসিক অবস্থান একই রকম, তবে এখন কিছুটা দেনদরবার চলছে বলে জানান ড. মোমেন।

গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে আবার আলোচনার সময় আসছে এবং এটি একটি ক্রিটিক্যাল টাইম।

সত্তরের দশকে বাংলাদেশে যখন সামরিক সরকার ছিল তখন গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে বেশ সমস্যা হয় বলে মন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, তখন একটি সামরিক সরকার ছিল দেশে। আমার মনে হয় সেটি ১৯৭৭ সাল। তখন সেই সরকার ঠিক করলো তারা গঙ্গা পানি চুক্তি বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করবে। সে সময় আমরা যারা শিক্ষকতা করতাম তারা বলেছিলাম এই বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে গেলে এটি খুব ভালো কাজ করবে না। যখন বাংলাদেশ সরকার এটি জাতিসংঘে নিয়ে গেল, এটি একটি বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হলো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের অনেক প্রভাব আছে, অনেক বন্ধু আছে। তারা ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে কোনো অধিবেশন করতে দেয়নি। আমাদের গঙ্গার বিষয়টি জাতিসংঘে নিয়ে গিয়ে কোনো লাভ হয়নি বরং ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আমরা বিষয়টি জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহার করি এবং দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করি।

momen4f.jpg

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচে সাময়িক বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। তবে জাতিসংঘসহ আরও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছে।

এ অবস্থায় আগামী বর্ষায় কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ভূমিধসসহ অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারালে তার জন্য বাংলাদেশ নয় বরং জাতিসংঘসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো দায়ী থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে জাতিসংঘের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধানরা মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি শক্ত ভাষায় এ কথা জানিয়ে দেন।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অ্যান্টনিও ভিটোরিনো এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকের পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‌বৈঠকের পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি আমরা কিছু লোককে ভাসানচরে নিয়ে যেতে চাই। কারণ বলা হচ্ছে আগামী বর্ষা মৌসুমে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হবে। তাতে ভূমিধস হলে অনেক লোক মারা যাবে এবং মারা গেলে আমরা এর জন্য দায়ী থাকবো না। আপনারা যারা বাধা দিচ্ছেন তারা এর জন্য দায়ী থাকবেন।’

তবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জোর করে কাউকে ভাসানচরে নেবো না। তবে যারা যাবে তাদের জন্য একটি ভালো অবস্থান হবে। আমরা নিজের পয়সায় দুই হাজর ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে ভাসানচর আমরা তৈরি করেছি। ওখানে গেলে পরে রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক কাজকর্ম পাবে। মাছ ধরতে পারবে, গরু পালন করতে পারবে।’

বাংলাদেশ থেকে বিদায় হন
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের তিন সংস্থার প্রধানকে বাংলাদেশে কাজ কমিয়ে মিয়ানমারে কাজ বাড়ানোর তাগিদ দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি আপনাদের এখানে কাজ নাই, মিয়ানমারে যান। আমি বেশ শক্তভাবে বলেছি।’

মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আপনার ওখানে বেশি জোর দেন, এখানে না। আমি জিজ্ঞাসা করেছি আপনার কতবার সেখানে গিয়েছেন, সেখানে আপনাদের কতলোক কাজ করে। এখানে এক হাজারের বেশি লোক কাজ করে, ওখানে বেশি কাজ করেন, এখান থেকে বিদায় হোন।’
আপনারা মিয়ানমারকে কনভিন্স করেন, যাতে তারা তাদের লোক নিয়ে যায় এবং ওখানে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেন।

রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে ঝামেলা তৈরি করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় জনগণ খুব আপসেট যে এরা দিনে দিনে ঝামেলার সৃষ্টি করছে। আমরা বলেছি ওদের সংখ্যা এত যে তারা আমাদের বনজঙ্গল সব উজাড় করে দিচ্ছে।’

বিশ্ব জনমত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন সংস্থার প্রধানকে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বিশ্ব জনমত তৈরির আহ্বান জনান। মন্ত্রী বলেন, ‘এতবড় সংস্থার প্রধান আপনারা এবং আপনারা বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি করতে পারেন। আমার ধারণা জনমত তৈরি করতে পারলে সবচেয়ে বড় অত্যাচারী শাসকেরও পতন হয়।’

দায়বদ্ধতা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর যে বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে ও অপরাধ সংঘটিত করেছে তার দায় তাদের নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী বলেন ‘আমরা বলেছি দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। আমরা তাদের এটাও বলেছি আপনাদের যে বন্ধুপ্রতিম দেশ যেমন- জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন – মিয়ানমারের বেশিরভাগ ব্যবসা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে, জাপান সেখানে বিনিয়োগ করেই চলেছে, ব্যাংকিং চালায় সিঙ্গাপুর। আপনারা সেখানে চাপ দেন যাতে করে তারা মিয়ানমারকে চাপ দেয় তাদের লোককে ফেরত নেওয়ার জন্য।’

আমরা তাদের বলেছি এটির দ্রুত সমাধান না করা গেলে যারা যুবক আছে তারা উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এখানে উগ্রবাদ হলে গোটা অঞ্চলের জন্য খারাপ হবে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটা হলে মিয়ানমারের দুঃখ আছে, চীনের উদ্দেশ্য সেটা সফল হবে না, অর্থনৈতিক কোনও কাজ হবে না।’

পাওয়ারফুল দেশ
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চায় এবং কোনও ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। মন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে, সমাধানও তাদের করতে হবে। আপনি শক্ত অবস্থানের কথা বলছে, আপনি কি যুদ্ধ করতে যাবেন? আমরা যুদ্ধ করবো না, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই। আমাকে কেউ কেউ বলেছে তোমরা যদি চাও তবে আমরা সেখানে কিছু একটা মহড়া করতে পারি।’

এরা কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত পাওয়ারফুল লোক বলেছেন।’
এটি ব্যক্তি না দেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশ। আমরা খুব একটা পাত্তা দেই নাই। তারা বলেছেন তোমরা চাইলে আমরা তোমাদের হয়ে ক্ষমতা দেখাতে পারি। আমরা বলেছি না কারণ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই। মিয়ানমার এর আগে লোক নিয়ে গেছে এবং আমরা আশাবাদী।’

অস্ত্র সরবরাহ
তিন সংস্থার প্রধানকে মন্ত্রী রাখাইনে কারা অস্ত্র সরবরাহ করছে সেটি খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়ে বলেন এর ফলে কে বা কারা এর পেছনে আছে আমরা তা জানতে পারবো।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি কে রাখাইনে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ওখানে মারামারি হচ্ছে কে অস্ত্র সরবরাহ করছে আপনারা সেটি বের করেন।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে এবং বিভিন্ন তথ্য আমরা পাই কিন্তু মিডিয়াতে কখনো আসে না অস্ত্র কোন দেশের তৈরি, কোন কোম্পানির তৈরি বুলেটে বা শ্রাপনেলে লোকটা মারা গেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন এটি জানার সময় কারা এইসব অস্ত্র সরবরাহ করছে। এগুলো জানা গেলে সন্ত্রাস কমে যাবে।’

স্কুলিং
রোহিঙ্গারা যখন রাখাইনে ছিল তখন তাদের বাচ্চাদের শিক্ষার বিষয়ে জাতিসংঘ বা অন্য দেশগুলো কোনও কথা না বললেও বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা বাচ্চাদের বাংলা শিক্ষার বিষয়ে তারা অনেক আগ্রহী।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি ওখানে অনেক বাচ্চা আছে এবং তাদের স্কুলিং হওয়া উচিত। কিন্তু তাদের উচিত হবে মিয়ানমার ভাষা শেখা, মিয়ানমারের ইতিহাস জানা। আমাদের এ ধরনের কোনও ব্যবস্থা নাই। সুতরাং তাদের ফেরত যাওয়া উচিৎ এবং সেখানে তারা শিক্ষা গ্রহণ করুক।’

Dr.-A-K-M-Abdul-Momen-1280x720.jpg

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। শুধু যে এ জন্যই বাংলাদেশ মানবতার বড় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা নয়। আমেরিকা যখন আবিষ্কার হয়নি, তখনই আমাদের দেশের মধ্য যুগের একজন বাঙালি কবি চণ্ডীদাস লিখেছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। আজ সত্যি সত্যি বাংলাদেশ মানবতার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পেরেছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রেডিসনের হল রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখন সরকারে ছিলেন না তখন এবং যখন সরকার গঠন করলেন তখনও আমি তার সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। এরপর যখন সামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলো, তখন আমার চাকরি চলে গেলো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাকে বিদেশ থেকে ডেকে এনে তার সরকারে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাকে সংসদ সদস্য বানিয়েছে। আমাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি খুব ভাগ্যবান- আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অনেক অনেক কাজ করছে দেশের মানুষের কল্যাণে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব না। সেখানে আপনারা (লায়নস ক্লাব) সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

drmomen.jpg

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার উভয়ে আসিয়ানের সদস্য। আসিয়ানের সদস্য হিসেবে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আসিয়ান জোট এ বিষয়ে সহায়তা দেবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা দিতে চায় এই জোট।

বুধবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদিনাইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তারা পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ দেশ। তাদের কাছে আমাদের পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়তা চেয়েছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের পর্যবেক্ষক। আমরা আসিয়ানের সদস্য হওয়ার জন্য সহায়তা চেয়েছি।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেনের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

tw3.jpg

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস্ আইরেসে বাংলাদেশের দূতাবাস খোলার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তাছাড়া এখানে একজন অনারারি কনসাল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে।

শনিবার (২৩ মার্চ) বুয়েনস্ আইরেস মহানগরীর ক্যাস্টেলার হোটেলে আর্জেন্টিনা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এবিসিসিআই’ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলা, স্প্যানিশ ও ইংরেজি ভাষার মেলবন্ধনে বহুজাতিক ভাষা ও সংস্কৃতির আবহে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারেট পিকোরা।

এসময় আর্জেন্টিনায় পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস খোলার দাবি জানান সেখানে উপস্থিত প্রবাসীরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন তাদের বিভিন্ন দাবির কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি ও আর্জেন্টিনাবাসীর সামনে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি; জিডিপি’র অব্যাহত প্রবৃদ্ধি; বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ; সবধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা সম্বলিত একশটি বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গঠন; বিদ্যুৎ ও জ্বালানির পর্যাপ্ততা; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা; ওয়ান স্টপ সার্ভিস; দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে টাক্সফোর্স গঠন; প্রবাসী দিবস পালনসহ প্রবাসীদের কল্যাণে নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা।

বাংলাদেশে গিয়ে এসব উন্নয়ন বাস্তবতা নিজ চোখে দেখার জন্যেও তিনি উপস্থিত অতিথিদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদেশের দূতাবাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে হটলাইন খোলা, বাংলাদেশে যাওয়া ও অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩৮ বছর প্রবাসে থেকেছি। আমি আপনাদেরই প্রতিনিধি। একজন প্রবাসী বাংলাদেশিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মন্ত্রীসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসার এর থেকে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে’।

বুয়েন্স আইরেসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক দ্বিতীয় উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের সফল অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনায় ভিসা সুবিধা বাড়ানোর জন্যে নেয়া উদ্যোগেও কথাও বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্জেন্টিনার নাগরিকদের বাংলাদেশের বন্ধু উল্লেখ করে ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত আর্জেন্টিনার লেখিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর কথা স্মরণ করেন।

বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন অর্থনৈতিক কূটনীতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে ডায়াসপোরা কূটনীতির বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার আওতায় আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণের দেশ আর্জেন্টিনার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো ইতিবাচক হবে মর্মে তাঁর প্রত্যাশার কথা জানান।

এবিসিসিআই’র সভাপতি বুয়েনস্ আইরেস প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী তালুকদার আলীম আল রাজী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রসারে আর্জেন্টিনায় নানা ধরণের মেলায় আয়োজনের কথা উল্লেখ করেন। ২৩ এপ্রিল থেকে ১৩ মে তারা বুয়েনস্ আইরেস্-এ আন্তর্জাতিক বই মেলার আয়োজন করছে, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা যোগ দেবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও প্রবাসীদেরকে বিনিয়োগে আকর্ষণ করা সংক্রান্ত দুটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুলতানা আফরোজ এবং বাংলাদেশ দুতাবাস ওয়াশিংটন ডিসি’র ডেপুটি চিফ অব মিশন মাহবুব হাসান সালেহ।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাপা+৪০ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এদিন নয়াদিল্লিতে আর্জেন্টিনার মনোনয়নপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে আর্জেন্টিনা ত্যাগের আগে বুয়েনস্ আইরেসে বসবাসরত সিলেটবাসীর সাথে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Dr.-A-K-M-Abdul-Momen-1280x720.jpg

বর্ষার আগেই রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে স্থানান্তরে সরকারের প্রস্তুতি থাকলেও কিছু এনজিও’র কারণে স্থানান্তর কার্যক্রম আটকে আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

রোববার সকালে (১০ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিচারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এর প্রতিনিধি দলকে সহায়তা করবে বাংলাদেশ।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা (সরকার) রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজটি শেষ করতে চেষ্টা করছি। এমনকি বৃষ্টির আগে কিছু রোহিঙ্গা সেখানে পাঠানো গেলে তারা সুখে থাকবে। কিন্তু কিছু কিছু লোক রোহিঙ্গাদের বলছে ভাসানচরে না যেতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে সেখানে ১০০ এর বেশি এনজিও কাজ করে। রোহিঙ্গাদের এক ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের প্রস্তুতি থাকলে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কাজটি করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, কিন্তু ভাসানচরে গেলে রোহিঙ্গারা সুখে থাকবে। ওখানকার ঘরবাড়িগুলো বেশ খুব সুন্দর। ওখানে কাজের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি যেকোনো দিন তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুরু হয়ে যাবে।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক যারা আছে তারা যেন আবার স্বদেশে ফিরে যায়। সুন্দর শান্তিতে জীবন-যাপন করবে। আমাদের এখানে অতিথি হিসেবে তারা আছে। আমাদের সাধ্যমতো আমরা তাদেরকে সুখে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা দেশে ফিরে গেলেই মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। তারা আমাদেরকে বলেছিল, তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে। আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন আয়োজনও করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের কথা রাখছে না।

তিনি বলেন, আর আমাদের ওআইসির (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশান) যেখানে সভা হয়, সেখানে অন্য একটি মেম্বার দেশ জাম্বিয়া রোহিঙ্গা বিষয়ে কথা বলে। এরপর ওআইসি সেটা নিয়ে একটা রেজুলেশন তৈরি করে এবং আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) তদন্ত করবে। সুতরাং তারাই তদন্ত করছেন। সেজন্য তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা এসেছেন। আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করছি।

নারী দিবস ও নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে আবদুল মোমেন আরও বলেন, মেয়েদের ক্ষমতায়নে সরকার বহুবিধ পরিকল্পনা নিয়েছেন। সরকার মেয়েদের জন্য যত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অন্য কোনো দেশ এতো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে আমাদের মেয়েরা খেলাধুলাসহ সকল ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য সম্মানের এবং দেশের জন্য গর্বের।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

drmomen.jpg

টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে বলে মত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৫৯ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম। তাছাড়া জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ ১৮-৩৪ বছরের মধ্যে। কাঙ্খিত উন্নয়নের জন্য তাদের মানসম্মত শিক্ষাদান, প্রশিক্ষণ এবং লাভজনক কর্মসংস্থান করতে হবে। কারণ টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে মানব সম্পদের উন্নয়নের বিকল্প নেই।’

শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর হোটের সোনারগাঁওয়ে স্কিল ডেভলপমেন্ট সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে কর্মশালা, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আমাদের বিশাল জনসংখ্যাকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সেই লক্ষ্যেই এই স্কিল ডেভলেপমেন্ট সেমিনারের আয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশে আমাদের ৫০ লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মী রয়েছে। তারা প্রতি বছর রেমিট্যান্স হিসাবে প্রায় ১৬ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছে। আমরা যদি আরো দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়তে পারি তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা আরো বাড়তে পারে।’

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে দেশি বিদেশী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।