প্রধানমন্ত্রী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

pmd3.jpg

দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে সরকার। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বিদেশে পাঠানোসহ শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে রাবেয়া ও রোকেয়া যমজের সফল অস্ত্রোপচারের মতো আরও জটিল কাজ যাতে করা যায় সে জন্য আমরা সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করব।

সম্প্রতি ঢাকার সিএমএইচএ যমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচারকারী বাংলাদেশি ও হাঙ্গেরীর চিকিৎসক এবং অন্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের উদ্দেশে ভাষণে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে রাবেয়া ও রোকেয়া জমজের সফল অস্ত্রোপচারের মতো আরও জটিল কাজ যাতে করা যায় সেজন্য আমরা সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করব।

এ জমজ শিশুর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বিশাল অভিজ্ঞা অর্জন করেছেন। এখন আমরা এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরও উন্নয়নে মনোনিবেশ করব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির চিকিৎসরা অসাধারণ কাজ করেছেন। শিশু দু’টি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে শিগগিরই মায়ের কোলে ফিরে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাঙ্গেরির চিকিৎসক দলের সদস্যরা অস্ত্রোপচারকালে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চমৎকার সহযোগিতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, ও ঘটনা বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির মধ্যে এক নতুন ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম তার মেয়েদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

pm55f.jpg

রাজধানীর দ্বীন মোহাম্মদ আই হসপিটালে চক্ষু পরীক্ষা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় অপারেশন পরবর্তী এই চক্ষু পরীক্ষা করান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. আশরাফুল আলম খোকন একথা জানান।

তিনি বলেন, সেখানে তার গ্লুকোমা পরীক্ষা করা হয় এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। ড. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর চোখ পরীক্ষা করেন।

অপারেশনের পর প্রধানমন্ত্রীর চোখ এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক।

দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এরকম হাসপাতাল আরও গড়ে ওঠা প্রয়োজন।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এনায়েত হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী ও ডা. শেখ মোহাম্মদ হোসেন।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল চোখের সমস্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ রোগীদের মতো ১০ টাকায় টিকিট কেটে শেরে বাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেদিন চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী গত ১ মে লন্ডনে ১০ দিনের সফরে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লন্ডন সফরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে লন্ডনের তাজ হোটেলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ডাক্তাররা মনস্তাত্ত্বিক কারণে ঝুঁকি নিতে রাজি না হওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশে চোখের অস্ত্রোপচার করতে পারেননি। এর আগে ২০১৫ সালের জুন মাসে লন্ডনে ছয় দিনের ব্যক্তিগত সফরে চোখের চিকিৎসা করিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সাধারণ রোগীদের মতো চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বছর ১৯ এপ্রিলের আগে ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরে মায়ের নামে স্থাপিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন। সেদিনও সাধারণ রোগীদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টারে নাম নিবন্ধন করেন। এরপর ৫ টাকার টিকিট সংগ্রহ করে চোখ, নাক, কান ও গলাসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান শেখ হাসিনা।

hasina-01-20181227200002.jpg

ঢাকায় মেট্রোরেল চালুর পর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে স্বল্প বিরতির আন্তঃনগর ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা জানান তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বাঁশি বাজিয়ে, সবুজ পতাকা উড়িয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা মেট্রোরেল যেমন চালু করতে যাচ্ছি, সেইসাথে আমরা বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন, যা একান্তভাবে পরিবেশ বান্ধব, সেই বিদ্যুৎ চালিত ট্রেনও চালু করব। আমরা সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশ এখনও ডিজেলচালিত ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার মেট্রোরেলের মাধ্যমে দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের ব্যবহার শুরু হবে। এরপর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তেলচালিত ট্রেনে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় উন্নত দেশগুলো এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশেও তেলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন।

রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার। কাজেই আরও বেশি কোচ আমাদের কিনতে হবে।”

শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত সাড়ে ১০ বছরের রেলের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেব একটা দেশের আর্থ-সামাজক উন্নতি সম্ভব। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই রেল, সড়ক, আকাশ, নৌপথ সবদিকেই আমরা দৃষ্টি দিয়েছি এবং উন্নয়ন করে যাচ্ছি”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার ছিল। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। যেসব মেগা প্রকল্প এবং যেসমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রেলের উন্নয়নে গত ১০ বছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরও ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

এসময়ে ৩৭১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪৮ কিলোমিটার মিটারগেইজ লাইন ডুয়েল গেইজে রূপান্তর করা হয়েছে। ১০০০ কিলোমিটারের বেশি পুরনো রেলপথ মেরামত করা হয়েছে।

৬২টি বন্ধ রেলস্টেশন চালু, ৯৩টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, ৩২৯টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৬৫৮টি রেলসেতু সংস্কারের কথাও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

এই সময়ে ৪৬টি নতুন লোকোমেটিভ কেনা ছাড়াও ৩২০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হয়েছে এবং আরও ৬৫০টি কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসময়ে মালবাহী ওয়াগন কেনা হয়েছে ৫১৬টি।

এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে রেলে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো হলো- পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-রামু-ঘুনধুম রেল লাইন স্থাপন প্রকল্প।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বাংলাদেশ ও ভারতের ভারতের মধ্যে যেসব রেল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গেও বাংলাদেশ যেন সংযুক্ত হয় সে ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি।”

রেলের ডিজিটাইজেশন, দেশের দক্ষিণবঙ্গে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্যুরিস্ট ট্রেন চালু করা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে যমুনার উপর একটি রেলসেতু নির্মাণের উদোগসহ নানা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পঞ্চগড় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরপরই পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পথে রওনা হয় ৮৯৬ আসনের পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।

সপ্তাহে কোনো বিরতি ছাড়া সাত দিনই চলাচল করবে ট্রেনটি। ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২টা ১০ মিনিটে। পঞ্চগড়ে পৌঁছবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। আবার পঞ্চপড় থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে।

ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে সামান্য বিরতি দেবে। তার পার্বতীপুর পর্যন্ত বিরতিহীন চলবে। এরপর দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিরতি দিয়ে পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছাবে।

ভাড়া হবে আন্তঃনগর দ্রুতযান ও একতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। শোভন চেয়ার ৫৫০ টাকা, সিন্গ্ধা ১০৫৩, এসি সিট ১২৬৩ এবং এসি বার্থ ১৮১২ টাকা।

আনুপাতিক হারে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে ৩০ শতাংশ করে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ শতাংশ ও পার্বতীপুরে ১৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকবে। চাহিদা বিবেচনায় পরে আসন কমবেশি হবে।

এই ট্রেন থেকে বছরে ৪০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে রেলওয়ে।

pm-14.jpg

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করেছেন। মঙ্গলবার ইফতারের আগে তিনি বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ ছাড়াও বিবিধ শ্রেণি-পেশার নেতারা অংশ নেন।

বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ-খবরও নেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এর আগে গত রোববার আলেম, ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

hasina2.jpg

যুক্তরাজ্যে ১০ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১১ মে) সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।

শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে মন্ত্রীরা তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এ সময় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

গত ১ মে ১০ দিনের সফরে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

PM-10-1280x800.jpg

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রতিবছর আমি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন উপস্থিত থেকে তোমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। কিন্তু এবার সেই সেই সময়টা মিস কলাম। এ জন্য তোমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সোমবার (৬ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিখিত ভাষণ পড়ে শোনান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, তোমরা আগামীর কর্ণধার। দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় তোমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। তোমাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির আনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। আমাদের সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লেখাপড়া শিখে তোমাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি। এর আগে, এসএসসি সমমান পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির হাতে হস্তান্তর করেন সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

gekalerkanrho_pic.jpg

লন্ডন থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আঘাত হানলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য সব বিভাগকে সব ধরনের পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের রাজধানী থেকে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করছেন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের এক সংবাদ বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ এখন বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্যঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

বুলেটিনে বলা হয়, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুলেটিনে আরো বলা হয়, অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকার ওপর দিয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। বাসস।

pmbig-1-20190502195952.jpg

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কবল থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন দেশবাসীকে রক্ষা করেন, সেজন্য শুক্রবার (৩ মে) বাদ জুম্মা মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

তিনি জানান, শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার কথা রয়েছে, এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে আল্লাহ যেন দেশবাসীকে রক্ষা করেন, সেজন্য বাদজুমা সারাদেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ফণী বাংলাদেশ উপকূল থেকে ৭শ কিলোমিটার দ‚রে রয়েছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে, যদি এভাবে অগ্রসর হতে থাকে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত করার প্যাটার্ন দুর্বল হয়ে যাবে। এটি এখন ঘণ্টায় ২৭ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে আসছে। ঘূর্ণিঝড়ের ভেতরের বাতাসের গতিবেগ ১৮০ কিলোমিটার। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, এটি বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আঘাত হানবে।

pm36.jpg

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চাকরিতে ঢোকার বয়স বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে। ৩৫ বছরে যদি কেউ পিএসসিতে পরীক্ষা দেয়; ওই পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্ট হয়ে চাকরিতে ঢুকতে ঢুকতে ৩৮ বছর হবে। ৩৮ বছর বয়সে একজন চাকরিতে ঢুকবে আবার কেউ কেউ ২২ বছর বয়সে একই চাকরিতে ঢুকবে। কত বছর ডিফারেন্সে দুইজন একসঙ্গে চাকরিতে ঢুকবে? এটা কি তারা চিন্তা করছে।’

মঙ্গলবার সংসদে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান বিরোধীদলীয় উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অন্তত ৩২ করার সুপারিশ করলে এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেখা যায় কেউ হয়তো ২৪-২৫ বছরেই চাকরিতে ঢুকছে। তারা অবসরে চলে যাচ্ছে। আমরাতো ইতোমধ্যে অবসরে যাওয়ার বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করেছি। যে ৩৮ বছরে চাকরিতে ঢুকবে সে ২২ অথবা ২৩ বছর চাকরি করতে পারবে। সে কিন্তু পূর্ণ পেনশন পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জন্ম থেকে মেধা বা উদ্যম বা তারুণ্য বা সৃজনশীলতাটা সবথেকে বেশি থাকে ২৪ কিংবা ২৫ বছর বয়সে। ২১ বছরেই একজন মানুষ পূর্ণ মানুষ বলা হয়। ২১ বছর থেকেই একজনের পূর্ণতা পায়। ২১ থেকে ২৫ বছরই সবচেয়ে কর্মদক্ষতা থাকে। এই সময়টা কোথায় যাবে। একটা মানুষের সবচেয়ে মূল্যবাদ সময়টা ওরা কী করবে?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তো ৩০ বছর পর্যন্ত চাকরির বয়স। ৩৮ বছর হলে আরও ৮ বছর চলে যাবে। এটা বৃদ্ধ না হলেও পৌঢ়তে চলে যাচ্ছে। এ সময় চাকরিতে ঢুকে তারা কী কাজ করতে পারবে? তারপর আবার বলা হবে অবসরের বয়স বাড়ানো হোক। অবসরের বয়সসীমা বড়ানো হলে নতুন চাকরি দেয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন কেউ আর অবসরে যাবে না, পদখালি হবে না, আর চাকরিও দেয়া যাবে না। তাহলে আমরা যাবটা কোনদিকে? চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করলে অবসরের বয়স ৬২ বা ৬৫ করতে হবে। তখন নতুন চাকরিই দেয়া যাবে না। সুতরাং শুধু একটা দাবি তুললেই হয় না, সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চাকরির বয়স বাড়ানো নিয়ে যারা আন্দোলন করে তাদেরকে এগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। হ্যাঁ, আমাদের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব কম খরচে পড়ানো হয়। সুতরাং ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া যায় সেটাই ভালো। সেটার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আমরা সরকার গঠন করার পর কোনোবারই পিএসসির পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়নি। নিয়মিত পরীক্ষা হচ্ছে এবং সবাই চাকরিতে ঢুকতে পারছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সেশনজট অনেকটাই কমিয়ে এনেছি। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সেশনজট রয়েছে; সেটাও যাতে না হয় সে ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি।’

mashrafe-hasina-20190430161425.jpg

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশ্যে আগামীকাল (বুধবার) দেশ ছেড়ে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তার আগে আজ (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন ক্রিকেটাররা।

দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২ ঘণ্টা কাটিয়েছেন মাশরাফি-সাকিবরা। যেখানে ক্রিকেটারদের মাতৃস্নেহে পরম মমতায় বিশ্বকাপের জন্য ভালো খেলার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যেহেতু দুপুরের দিকে গেছেন ক্রিকেটাররা, তাই স্বভাবতই মধ্যাহ্নভোজের ব্যাপারটাও চলে আসে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসে একই টেবিলে দুপুরের খাবার খেয়েছেন তিনি। এর আগে পরে নানা আলাপ করেছেন ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে।

ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশেষ সুনাম রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যে কোনো ধরনের খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ বরাবরই প্রশংসনীয়। এমনকি ক্রীড়াবিদদেরও বাড়তি সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।

তবে ক্রিকেটের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুনজর বরাবরই রয়েছে। এর আগেও দেখা গেছে, মাশরাফিদের খেলা দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে স্টেডিয়ামে হাজির হতে। ক্রিকেটারদের নিয়মিত খোঁজ-খবরও রাখেন তিনি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা যেন ভালো করতে পারে, সে অনুপ্রেরণা দিতেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে টেনে নিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত আগামীকাল বিশ্বকাপের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। ৩০ মে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, ৫ মে আয়ারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। যেখানে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বাংলাদেশ।