প্রধানমন্ত্রী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

hasina-kader-20190119170613.jpg

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাসা থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নোয়াখালী জেলার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তার এ নির্দেশের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সঙ্গে যদিও মন্ত্রী থাকতে পারত, তাকে (ওবায়দুল কাদের) আমি বাসা থেকে বের হতে মানা করেছি কোথাও না যেতে।

6ueduj.jpg

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে ও যাবে বলেও তিনি জানান।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় শেখ হাসিনা একথা জানান।

এর আগে তিনি দলের নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দলের সংক্ষিপ্ত যৌথসভা করেন। গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পর নতুন কমিটি প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয়ভাবে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি নিয়েছি। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও দিবসটির কর্মসূচি নিয়েছে। এই কর্মসূচি আমাদের সফল করতে হবে। মুজিববর্ষ নিয়ে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এটা একটা বড় ব্যাপার।

‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। আজ সেই নামটি আর কখনো মুছে ফেলতে পারবে না। কারণ দীর্ঘ ২৪ বছর লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার একমাত্র লক্ষ্য ছিল এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন। কিন্তু তাকে হত্যার পর সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজ দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বঙ্গবন্ধু যখন দেশ স্বাধীন করেছিলেন তখন এই দারিদ্র্যের হার ছিল ৮২ শতাংশের বেশি ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি আজ যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি অর্থনৈতিকভাবে এবং সেই সব অর্জনের সুফল একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামের মানুষ যেন পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যতিব্যস্ত থাকার কারণে দলের কয়েকজন নেতা টুঙ্গিপাড়া আসতে পারেননি। তার কারণও জানান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে যারা কাজ করেছে, তাদের যাওয়া দরকার নেই। বাকি যারা থাকবে তাদের নিয়ে আবার আসবো। পরবর্তীকালে নোটিশ নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির সভা করা হবে।

‘আজ যেহেতু বেশি সময় নেই, আমাকে হয়তো অল্পসময়ের মধ্যে রওয়ানা দিতে হবে। এরপর উপস্থিত সব নেতার প্রতি ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।’

এরপর হোয়াইট হাউজ থেকে সাড়ে ৩টার দিকে বের হয়ে হেলিপ্যাড থেকে হেলিকাপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ছাড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

pmfa7.jpg

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, যিনি ক্ষমতাসীন দলটিরও শীর্ষ ব্যক্তি। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এক বছর কেটে গেছে।

সরকারের এক বছরপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জনগণকে তার ওপরে ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তাদেরই (জনগণ) একজন হয়ে থাকতে চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে ঘিরেই আমার সকল কার্যক্রম। আপনাদের (জনগণ) ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রাখি। বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ পরিশ্রমী এবং উদ্ভাবন ক্ষমতাসম্পন্ন। যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে তারা নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম। অল্পতেই সন্তুষ্ট এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এসব মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তাঁর কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।’

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওতে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের এক বছর পূর্ণ হলো। বিগত এক বছর চেষ্টা করেছি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। সব ক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি, তা দাবি করা যাবে না। কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলা যায়, চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। অতীতের ভুলভ্রান্তি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। সকলের সহযোগিতায় সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদের নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত বছর সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শোধরানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান থাকবে, যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের “হক” যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মূল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ সচেতন হলে, দুর্নীতি আপনা-আপনি কমে যাবে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যেতে তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে না পারে, সে জন্য মসজিদের ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতির সারকথা—সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। এটি আমাদের দুর্বলতা নয়, কৌশল। এ কারণেই মিয়ানমারের দিক থেকে নানা উসকানি সত্ত্বেও সে ফাঁদে পা দিইনি। আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ থেকে সরে যাইনি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মামলা হয়েছে। আশা করছি, এই আদালত থেকে একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে।’

নবমবারের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে জনগণের রায়ই হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র উপায়। যেকোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানায়। তবে অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদকে প্রাণবন্ত করেছেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত বছর দু–একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো মহল গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। সেসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর গত বছর সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে এই রোগে। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এডিস মশার বিস্তার রোধে আগে থেকেই সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সাল জাতীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আগামী ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হবে। ইতিমধ্যেই ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপৎভাবে চলতে থাকবে। এই উদ্‌যাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব নয়, এই উদ্‌যাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতি বীরের জাতি। এমন জাতি পৃথিবীতে কোনো দিন পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। আসুন, দলমত–নির্বিশেষে সকলে মিলে তার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ নিই।’

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে গত ১১ বছরে তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।

pmm-20190919205953.jpg

জাতিসংঘের অধিবেশনকালে পাওয়া আন্তর্জাতিক সম্মাননা বাংলাদেশের জনগণ ও শিশুদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গণভবনে সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইকোনমিক সামিট ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়া নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের অধিবেশনকালে বিশ্ব সম্প্রদায় আমাকে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত করে। বাংলাদেশের জনগণ ও শিশুদের উদ্দেশ্যে আমি এসব সম্মাননা উৎসর্গ করছি।’

বিদেশ সফর থেকে ফিরে প্রতিবারই সংবাদ সম্মেলন করেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। প্রতিবারই সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে’ অংশ নিতে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লি সফর করেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

pmd3.jpg

দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে সরকার। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বিদেশে পাঠানোসহ শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে রাবেয়া ও রোকেয়া যমজের সফল অস্ত্রোপচারের মতো আরও জটিল কাজ যাতে করা যায় সে জন্য আমরা সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করব।

সম্প্রতি ঢাকার সিএমএইচএ যমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচারকারী বাংলাদেশি ও হাঙ্গেরীর চিকিৎসক এবং অন্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের উদ্দেশে ভাষণে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে রাবেয়া ও রোকেয়া জমজের সফল অস্ত্রোপচারের মতো আরও জটিল কাজ যাতে করা যায় সেজন্য আমরা সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করব।

এ জমজ শিশুর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বিশাল অভিজ্ঞা অর্জন করেছেন। এখন আমরা এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরও উন্নয়নে মনোনিবেশ করব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির চিকিৎসরা অসাধারণ কাজ করেছেন। শিশু দু’টি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে শিগগিরই মায়ের কোলে ফিরে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাঙ্গেরির চিকিৎসক দলের সদস্যরা অস্ত্রোপচারকালে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চমৎকার সহযোগিতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, ও ঘটনা বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির মধ্যে এক নতুন ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম তার মেয়েদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

pm55f.jpg

রাজধানীর দ্বীন মোহাম্মদ আই হসপিটালে চক্ষু পরীক্ষা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় অপারেশন পরবর্তী এই চক্ষু পরীক্ষা করান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. আশরাফুল আলম খোকন একথা জানান।

তিনি বলেন, সেখানে তার গ্লুকোমা পরীক্ষা করা হয় এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। ড. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর চোখ পরীক্ষা করেন।

অপারেশনের পর প্রধানমন্ত্রীর চোখ এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক।

দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এরকম হাসপাতাল আরও গড়ে ওঠা প্রয়োজন।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এনায়েত হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী ও ডা. শেখ মোহাম্মদ হোসেন।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল চোখের সমস্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ রোগীদের মতো ১০ টাকায় টিকিট কেটে শেরে বাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেদিন চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী গত ১ মে লন্ডনে ১০ দিনের সফরে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লন্ডন সফরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে লন্ডনের তাজ হোটেলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ডাক্তাররা মনস্তাত্ত্বিক কারণে ঝুঁকি নিতে রাজি না হওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশে চোখের অস্ত্রোপচার করতে পারেননি। এর আগে ২০১৫ সালের জুন মাসে লন্ডনে ছয় দিনের ব্যক্তিগত সফরে চোখের চিকিৎসা করিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সাধারণ রোগীদের মতো চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বছর ১৯ এপ্রিলের আগে ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরে মায়ের নামে স্থাপিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন। সেদিনও সাধারণ রোগীদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টারে নাম নিবন্ধন করেন। এরপর ৫ টাকার টিকিট সংগ্রহ করে চোখ, নাক, কান ও গলাসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান শেখ হাসিনা।

hasina-01-20181227200002.jpg

ঢাকায় মেট্রোরেল চালুর পর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে স্বল্প বিরতির আন্তঃনগর ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা জানান তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বাঁশি বাজিয়ে, সবুজ পতাকা উড়িয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা মেট্রোরেল যেমন চালু করতে যাচ্ছি, সেইসাথে আমরা বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন, যা একান্তভাবে পরিবেশ বান্ধব, সেই বিদ্যুৎ চালিত ট্রেনও চালু করব। আমরা সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশ এখনও ডিজেলচালিত ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার মেট্রোরেলের মাধ্যমে দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের ব্যবহার শুরু হবে। এরপর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তেলচালিত ট্রেনে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় উন্নত দেশগুলো এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশেও তেলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন।

রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার। কাজেই আরও বেশি কোচ আমাদের কিনতে হবে।”

শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত সাড়ে ১০ বছরের রেলের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেব একটা দেশের আর্থ-সামাজক উন্নতি সম্ভব। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই রেল, সড়ক, আকাশ, নৌপথ সবদিকেই আমরা দৃষ্টি দিয়েছি এবং উন্নয়ন করে যাচ্ছি”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার ছিল। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। যেসব মেগা প্রকল্প এবং যেসমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রেলের উন্নয়নে গত ১০ বছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরও ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

এসময়ে ৩৭১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪৮ কিলোমিটার মিটারগেইজ লাইন ডুয়েল গেইজে রূপান্তর করা হয়েছে। ১০০০ কিলোমিটারের বেশি পুরনো রেলপথ মেরামত করা হয়েছে।

৬২টি বন্ধ রেলস্টেশন চালু, ৯৩টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, ৩২৯টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৬৫৮টি রেলসেতু সংস্কারের কথাও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

এই সময়ে ৪৬টি নতুন লোকোমেটিভ কেনা ছাড়াও ৩২০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হয়েছে এবং আরও ৬৫০টি কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসময়ে মালবাহী ওয়াগন কেনা হয়েছে ৫১৬টি।

এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে রেলে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো হলো- পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-রামু-ঘুনধুম রেল লাইন স্থাপন প্রকল্প।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বাংলাদেশ ও ভারতের ভারতের মধ্যে যেসব রেল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গেও বাংলাদেশ যেন সংযুক্ত হয় সে ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি।”

রেলের ডিজিটাইজেশন, দেশের দক্ষিণবঙ্গে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্যুরিস্ট ট্রেন চালু করা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে যমুনার উপর একটি রেলসেতু নির্মাণের উদোগসহ নানা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পঞ্চগড় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরপরই পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পথে রওনা হয় ৮৯৬ আসনের পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।

সপ্তাহে কোনো বিরতি ছাড়া সাত দিনই চলাচল করবে ট্রেনটি। ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২টা ১০ মিনিটে। পঞ্চগড়ে পৌঁছবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। আবার পঞ্চপড় থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে।

ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে সামান্য বিরতি দেবে। তার পার্বতীপুর পর্যন্ত বিরতিহীন চলবে। এরপর দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিরতি দিয়ে পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছাবে।

ভাড়া হবে আন্তঃনগর দ্রুতযান ও একতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। শোভন চেয়ার ৫৫০ টাকা, সিন্গ্ধা ১০৫৩, এসি সিট ১২৬৩ এবং এসি বার্থ ১৮১২ টাকা।

আনুপাতিক হারে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে ৩০ শতাংশ করে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ শতাংশ ও পার্বতীপুরে ১৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকবে। চাহিদা বিবেচনায় পরে আসন কমবেশি হবে।

এই ট্রেন থেকে বছরে ৪০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে রেলওয়ে।

pm-14.jpg

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করেছেন। মঙ্গলবার ইফতারের আগে তিনি বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ ছাড়াও বিবিধ শ্রেণি-পেশার নেতারা অংশ নেন।

বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ-খবরও নেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এর আগে গত রোববার আলেম, ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

hasina2.jpg

যুক্তরাজ্যে ১০ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১১ মে) সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।

শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে মন্ত্রীরা তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এ সময় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

গত ১ মে ১০ দিনের সফরে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

PM-10-1280x800.jpg

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রতিবছর আমি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন উপস্থিত থেকে তোমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। কিন্তু এবার সেই সেই সময়টা মিস কলাম। এ জন্য তোমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সোমবার (৬ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিখিত ভাষণ পড়ে শোনান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, তোমরা আগামীর কর্ণধার। দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় তোমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। তোমাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির আনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। আমাদের সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লেখাপড়া শিখে তোমাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি। এর আগে, এসএসসি সমমান পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির হাতে হস্তান্তর করেন সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।