প্রধানমন্ত্রী Archives - Page 2 of 17 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

anwara4.jpg

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের (২০০১-২০০৬) নির্মম নির্যাতনের শিকার কক্সবাজারের চকরিয়ার পল্টু-মিন্টুর মা আনোয়ারা বেগমের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণভবনে তাকে এ অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস উইং জানায়, সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌর এলাকা বাসিন্দা বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্মম নির্যাতনের শিকার আনোয়ারা বেগমের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ টাকার একটি চেক দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে আনোয়ারা বেগমের দুই ছেলে মোজাফফর হোসেন পল্টু ও সাদ্দাম হোসেন মিন্টু সক্রিয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণেই এই পরিবারের উপর জেল-জুলুম ও অবর্ণনীয় অত্যাচার চালায় তৎকালীন জোট সরকার ।

hasinaparla.jpg

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এটা আমরা বিভিন্ন জায়গায় দেখি। এটা মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের চেষ্টা করতে হবে। বিশ্বব্যাপীও জনমত সৃষ্টি করতে হবে যেন এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণকে আমি আহ্বান জানাবো। সকলকে এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

এ সময় জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস-অগ্নিসন্ত্রাস, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধির ওপর আনীত একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে জঙ্গিবাদ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমদ আনীত এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে সংসদ গ্রহণ করে। তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ ও শ্রীলঙ্কার গির্জা, হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির নাতি জায়ান চৌধুরীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা ও আহত করা এবং বাংলাদেশে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় গভীর ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং এ সকল সন্ত্রাসী, যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।

ফেনীতে আগুনে পুড়িয়ে কলেজ ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই। এই অধ্যক্ষের সঙ্গে আমাদের দলের কিছু নেতা জড়িত ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দেই—কে কোন দল করে আমি দেখতে চাই না। অপরাধী অপরাধীই। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, যৌন নিপীড়ন যারা করবে তাদের ক্ষমা নেই। সংসদ সদস্যরা একটি কঠোর আইন করার কথা বলেছেন। আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রয়োজনে এর জন্য কঠোর আইন করতে হয় অবশ্যই আমরা তা করবো। যারা এ ধরনের যৌন নিপীড়ন করবে তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থা আমরা করবো।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বিএনপির ২০১৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ২০১৪ সালে আমরা অগ্নি সন্ত্রাসের বিষয়টি দেখেছি। ওই সময় যদি একটি রাজনৈতিক দল অগ্নি সন্ত্রাস না করতো; পুড়িয়ে মানুষ হত্যা না করতো তাহলে হয়তো ওই অধ্যক্ষের মাথায় নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চিন্তা আসতো না। তার মাথায় এটা আসতো কিনা সন্দেহ।

তিনি বলেন, শিক্ষক পূজনীয়। বাবার মতো। ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকের কাছে শিখবে। সেই শিক্ষক রক্ষক হয়ে যদি ভক্ষক হয় আর যদি তা মাদ্রাসায় হয় তাহলে এর থেকে লজ্জা আর কীসে পারে। তবে, জানি না যখন একটা ঘটনা ঘটে আর তার প্রচার হয় তখন দেখা যায় একটার পর একটা সিরিজ ঘটে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যারাই এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো। দল মত আমি দেখবো না। কে আমি তা দেখবো না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কার চার্চে উৎসব ছিল। সেখানে প্রার্থনারতদের ওপর বোমা হামলা হলো। এতে বাংলাদেশের জায়ান চৌধুরীসহ ৪২ জন বিদেশি মারা গেছে। মোট মারা গেছে ৫৫৩ জন। আহত ৫০০ জনের মতো। এই ঘটনার নিন্দা জানাই।

এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমাদের দেশেও চেষ্টা করা হয়েছিল—হোলি আর্টিজানে। আমরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনা দমন করতে সক্ষম হই। এরপরে আরও ঘটনার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ-র‌্যাব সকলে দিনরাত পরিশ্রম করে তদন্ত করে যখনই এ ধরনের ঘটনার এতটুকু আলামত পাওয়া যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তারা সঠিক সময়ে তথ্যটা দিতে পারে বলেই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি। এতে অনেক জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যা যা করণীয় তা আমরা করবো। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে তৎপর। তবে, মানুষকেও এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। কোথাও কোনও জঙ্গি সন্ত্রাসের সামান্য আলামত দেখে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে খবর দিতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাবো। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কারও কাছে কোনও কিছু অস্বাভাবিক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। যাতে করে আমরা এই ঘটনা মোকাবিলা করতে পারি।

Pm.3-1.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী দাদার সম্পত্তির বিষয়ে বাবা গত হলে তার কন্যা ওয়ারিশরা যেন পুত্র সন্তানের ন্যায় অংশ ভাগ পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারপতি এবং বিচারকদের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইক্ষেত্রে আমাদের সামনে বিচারপতি বা অন্য সকলে রয়েছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো। হ্যাঁ, আমাদের ইসলাম ধর্ম বা মুসলিম আইন (শরিয়া আইন) মানতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু কেবল শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে মা-মেয়েকে বঞ্চিত করে বাবার সম্পদ যে তাদের কাছ কেড়ে নেয়া হয় তার কোন সুরাহা করা যায় কি না- আপনারা দয়া করে একটু দেখবেন। এটা করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবেও অনেক সামাজিক অনাচার হচ্ছে। এখানে মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ আমরা শ্লোগান তুলি যে দু’টি সন্তানই যথেষ্ট। এখন দু’টি সন্তানই যদি মেয়ে হয়। তখন বাবার সম্পত্তির ভাগ স্ত্রী পাবে যতটুকু, মেয়ে ততটুকু পাবে বা বঞ্চিত হবে, এখানে কিভাবে এর সুরাহা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি শরিয়া আইনে হাত দিতে বলবো না। কিন্তু সম্পত্তি আইনেতে তো এটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে মেয়ে-ছেলে না লিখে যদি সন্তান লিখে দেয়া যায় তাহলে সন্তান ছেলেই হোক আর মেয়েই হোক তাঁর ভাগটাতো অন্তত সে পাবে। এরজন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

আশংকা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা বলতে গেলে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং মওলানাগণ এর বিরোধীতাও করতে পারেন। তবে, তিনি এ বিষয়টিতে আমাদের অনেক ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেছেন। যাঁরা এই মেয়েদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। দেখা গেছে, তাদের অনেকেরই ওয়ারিশ কেবল কন্যা সন্তান বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনমন্ত্রীসহ সকলকেই এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান তিনি- ‘যাদের ওয়ারিশ হিসেবে কন্যা সন্তান রয়েছে তারা আমৃত্যু যেন সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন এবং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের কন্যারা যেন পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর নিজের অধিকার পায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে বাবা-মা মারা গেলে কন্যা সন্তানকে তাদের সম্পত্তির অধিকার দেয়া হয়ে থাকে। তারপরেও তারা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়। কারণ, ভাইয়েরা দিতে চায় না।

তিনি বলেন, এমনও ঘটনা আমি দেখেছি ভাই ভাইকে খুন করেছে বা আত্বীয়-স্বজনেরা খুন করে সম্পত্তি দখল করে নিয়ে ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রীসহ তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তাদের স্থান হয়েছে বস্তিতে। ছেলে-মেয়েরা হয়ে গেছে টোকাই আর মহিলা হয়তো বাড়ি বাড়ি কাজ করে খাচ্ছে বা তার ঠাঁই হয়েছে কোন পতিতালয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সামাজিক অবিচার যেন বন্ধ হয়, এগুলোর দিকেও আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। অনেক অর্থ সম্পদশালী তাদেরও আমি দেখেছি ভাই মারা গেছে, ভাইয়ের ছেলে নেই, কিন্তু মেয়ে রয়েছে। দেখা গেল, তারা যেই বাড়িটাতে থাকছে সেটা মা বাবা’র নামে জমি থাকলেও বাড়িটি ঐ মৃত ভাই-ই তৈরী করে দিয়ে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সম্পদশালী ভাই ছুটে আসে ঐ সম্পত্তিটা দখল করতে। ঐ মেয়েরা যেটুকু আইনগতভাবে পাবে তার বেশি এক কানা কড়িও দেবে না। মৃত ভাইয়ের ঐ সম্পত্তিটুকু নিতে হবে।

তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারেরও এক্ষেত্রে উদাহারণ টেনে বলেন, অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর কন্যা সন্তানেরা তাদের বাবা চলে যাওয়ায় সম্পত্তির যথাযথ ভাগে বঞ্চিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবীর একমাত্র সন্তান কন্যা। অথচ ভাইটিকে পাকিস্তানী রাজাকার-আলবদরেরা নির্মমভাবে খুন করার পরে সেদিকে নজর না দিয়ে ভাইয়ের সম্পত্তিটুকু দখল করে তাঁর স্ত্রী এবং মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার প্রবনতাও আমরা লক্ষ্য করেছি।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের স্বৈর শাসক আইয়ুব খানের করে যাওয়া একটি আইনের উদাহারণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে, আইয়ুব খান একটি আইন করে যান-আগে আমাদের শরিয়া আইনে ছিল যে, বাবার সামনে ছেলে মারা গেলে মৃত ছেলের সন্তানরা কোন সম্পত্তির ভাগ পেত না। সেই আইনটি আইনগত ভাবে আইয়ুব খান একটি সংশোধনী এনে মৃত বাবার সন্তানরা যেন সম্পত্তির ভাগ পায় সেই ব্যবস্থাটা করে দিয়ে যান। তা নাহলে দেখা যেত কত পরিবার একবারে অসহায় হয়ে যেত।

মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার মানুষই হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি আপোষ-মীমাংসার অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। যাতে করে মৃত পিতার পরিবারের মেয়েরা সম্পদের যথাযথ ভাগ পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেন। জাতিকে উপহার দিয়েছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য দলিল- বাংলাদেশের সংবিধান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য তিনি বলেছিলেন-‘এই বিচার বিভাগকে নতুন করে এমন করতে হবে, যেন মানুষ এক বছর দেড় বছরের মধ্যে বিচার পায় তার বন্দোবস্ত করতেছি, আশা করি সেরকমই হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেমে যায় সবকিছু।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুন, অগ্নি সন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা এবং ধর্ষণের মত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুন,অগ্নি সন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা ধর্ষণ ও নানা ধরনের সামাজিক অনাচার চলছে-এগুলোর বিচার যেন খুব দ্রুত হয়, এদের কঠোর শাস্তি হয়। যাতে এর কবল থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই যেখানে ধনী, দরিদ্রের কোন বৈষম্য থাকবে না। জনগণ মৌলিক অধিকারসমূহ ভোগ করে নিজেরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রতিটি মানুষ ন্যায় বিচার পাক এবং সেই ব্যবস্থাটা যেন চালু হয়। কারণ, আমরা চাই না ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের কারণে, আমরা যেমন বিচার না পেয়ে কেঁদেছি আর কাউকে যেন এভাবে কাঁদতে না হয়। সকলে যেন ন্যায় বিচার পেতে পেতে পারে সেটাই আমরা চাই ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। অনেকে বছরের পর বছর কারাগারে আটকে রয়েছে, কেন যে আটকে রয়েছে তারা নিজেরাও জানে না। তাদের দোষটা যেমন কেউ কেউ জানে না না তেমনি কিভাবে আইনগত সহায়তা নিতে পারে তাও জানা নেই। সেই বিষয়টা দেখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমার মনে হয়, আইন মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এএসএসএম জহুরুল হক এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদানকারি সংস্থার পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মানিকগঞ্জ এবং কুমিল্লার দু’জন উপকারভোগীও অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যাক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ উপলক্ষ্যে বেসরকারী সংস্থা, প্যানেল আইনজীবী এবং লিগ্যাল এইড- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্তদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ প্রণয়ন করে। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে এবং ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে পুনরায় সরকারি আইনি সেবা কার্যক্রমের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়।

তার সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অফিস স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সকল জেলাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের চৌকি আদালতগুলো এবং শ্রম আদালতসমূহে আইনগত সহায়তা দিতে বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা কমিটি গঠিত হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টেও অসহায়, দুঃস্থ বিচারপ্রার্থীগণ সরকারি আইনী সেবা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক জেলায় স্থায়ী ‘লিগ্যাল এইড অফিস’ স্থাপন করেছি। ৬৪টি ‘জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার’-এর পদ সৃজন করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারকগণকে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মামলার পূর্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের বিরোধ আপোষ‐মীমাংসার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রি-কেইস মেডিয়েশন বা মামলা-পূর্ব বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করি।’

‘বিগত ১০ বছরে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০ জনকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে এ কার্যক্রমের আওতায় মোট ১ লাখ ৬৬৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। লিগ্যাল এইড অফিসারের মধ্যস্থতায় আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে সর্বমোট ১৮ কোটি ৪৩ লক্ষ ২৪ হাজার ৩২৬ টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার একজন বিচারক। যিনি আইনসিদ্ধভাবে কিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সহযোগিতা করেন। এর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণ মামলাজটের কবল থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পাবে।

বর্তমানে এসিডদগ্ধ নারী-পুরুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, প্রতিবন্ধী, পাচারকৃত নারী বা শিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠীসহ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অক্ষম যেকোন নাগরিককে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থ ব্যয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘দি কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর (সংশোধনী) আইন ২০০৯’ পাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজটিকে স্থায়ী রূপ প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাইবুন্যাল গঠন করে বিচারের জন্য সাধারণ মানুষের চাপ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা মামলার বিচার সাধারণ আদালতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, সাধারণ আদালতে হবে এবং আদালত যে রায় দেবে আমরা মেনে নেব। আমরা আদালতের রায় মেনে নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সকল জেলায় নতুন করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব ভবনে লিগ্যাল এইড অফিসের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিচারকদের এজলাস ও চেম্বার সমস্যা সমাধানের জন্য ২৭টি জেলায় জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকার নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করেছি। অধঃস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিচারকদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বিশেষ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন নতুন আদালত ট্রাইবুন্যাল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করেছি। ২০১০ সাল হতে অধঃস্তন আদালতে মোট ১০২৬ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৯৯ জন বিচারক নিয়োগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।

তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বিচারকদের ওপর সন্ত্রাসি হামলার উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার বিচারকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ১২৮ জন অতিরিক্ত জেলা জজের জন্য ১২৮টি গাড়ি ও ১২৮ জন গাড়ি চালকের পদ সৃজন করেছে।

৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল, ৫টি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইবুন্যাল, ভোলা জেলায় ১টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থাপন করা হয়েছে। বিচারকদের গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অধঃস্তন আদালত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণে আইন ও বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৪০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অস্ট্রেলিয়ার ‘ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটি’তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৮৭ জন বিচারককে এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমির সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের ১৫০০ বিচারকের প্রচলিত আইন ও আদালত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভারতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার দু’টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩২০ জন বিচারক ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। জাপানে ৩০ জন বিচারককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত আলোকিত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।’

bsfb.jpg

গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীকে এয়ার এম্বুলেন্সে সোমবার (২৯ এপ্রিল) সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পীকে সেখানে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। রোববার ২৮ (এপ্রিল) তারা এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাপত্র সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আগেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য ছিল অপেক্ষা। এবার তা শেষ হলো।

সোমবার দুপুরের পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সুবীর নন্দীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সুবীর নন্দীর চিকিৎসার সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগছিলেন সুবীর নন্দী। ১২ এপ্রিল পরিবারের সবাই মিলে মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখানে একটি অনুষ্ঠান ছিল। ১৪ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা। ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক থাকায় তার পরামর্শে সুবীর নন্দীকে নিয়ে তাঁরা ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুবীর নন্দী গত ৪০ বছর ধরে দেশের মানুষের হৃদয়ে সুরের ঢেউ তুলে চলেছেন। গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে।

১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে তার প্রথম প্লেব্যাক।

চলচ্চিত্রের গানের জন্য বরেণ্য এই শিল্পী চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

b2zaq.jpg

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে আবারো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক সমাজের ক্ষত। সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের ছোবল থেকে দেশকে রক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী।’

শনিবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশেও এ ধরনের হামলা হতে পারে বলে একটি গুঞ্জন রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর মতো অবস্থা জঙ্গিদের নেই। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শনিবার বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপস টেলিগ্রামের একটি চ্যানেলে বাংলায় লেখা ‘শীঘ্রই আসছি’ শিরোনামে একটি পোস্টারে হামলার এই হুমকি দেয় আইএস। এই হুমকির পর প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে নতুন করে আহ্বান জানান।

বিজয়ী ও বিজিতদের অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খেলায় হারজিত থাকবে। আজ হারলে কাল জিতবো। জাতির পিতা সেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, সবসময় হার না মানার মানসিকতা ছিল তার। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। সেভাবে আজ যারা বিজয়ী, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যারা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়েছে তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

তার পরিবার কতটা ক্রীড়ানুরাগী ছিলেন সেকথাই জানালেন শেখ হাসিনা, ‘খেলাধুলার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। দাদা ফুটবল খেলতেন, বাবাও ফুটবল খেলতেন। শেখ কামাল ও শেখ জামালের স্ত্রী দুজনেই স্পোর্টসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। খেলাধুলার উন্নয়নে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ শেখ কামাল নিয়েছিল।’

এসময় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাকি দলগুলোকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।

pm-14.jpg

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়ে এখনই মন্তব্যের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রুনাই সফর নিয়ে শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্যারোলের জন্য সাধারণত আবেদন করতে হয়। এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি। যেহেতু এ বিষয়ে আবেদনই করা হয়নি, তাই আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করছি। এ হামলায় আমার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের মেয়ের ছেলে আমার নাতি ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হয়েছে। জায়ানের বাবা মশিউর হক চৌধুরী এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমি ব্রুনাইয়ের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর এই মর্মান্তিক হামলার খবর শুনতে পাই। আমাদের প্লেনটা যখন আকাশে উড়ছিল তখন খবর আসলো এ ধরনের হামলা হয়েছে। পরবর্তীতে ওখানে নেমে বিস্তারিত খবরটা পাই। জায়ানের মৃত্যুর খবর পাই। এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে একটি শোক বার্তা পাঠাই। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলকে কার্যকর এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সজাগ আছি। গোয়েন্দারা চমৎকার কাজ করছে। গতকালও আমি আমাদের গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা একাজে জড়াচ্ছে। আমার প্রশ্ন- তারা এই আত্মঘাতী হামলা করে কী পাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে কী হলো? একজন মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে গুলি করার মুহূর্ত সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কী বীভৎস! কী বীভৎস মানসিকতা! সে একজন খ্রিস্টান। আর এখানে (শ্রীলঙ্কায়) যারা শনাক্ত হয়েছে, তারা মুসলমান।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ২১ এপ্রিল তিন দিনের সরকারি সফরে ব্রুনেইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে পৌঁছান। সফরে তিনি ব্রুনেইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাসহ সুলতান ও রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশ-ব্রুনেই বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু কর্মসূচিতে যোগ দেন।

ব্রুনেইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন নুরুল ইমানে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং এলএনজি সরবরাহ-সংক্রান্ত সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাতটি চুক্তির মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি বিনিময় নোট।

এগুলো হচ্ছে কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড়সংক্রান্ত বিনিময় নোট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার সকালে ব্রুনেইয়ের রাজধানীতে কূটনৈতিক এলাকা জালান কেবানজাসানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি রয়েল রিগালিয়া মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময় রোহিঙ্গা সংকটের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

PM2-1.jpg

প্রিন্ট মিডিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বে এখন অনেক পত্রিকা কেবল অনলাইনে চলে এসেছে। ছাপা বন্ধ হয়ে গেছে এটা প্রযুক্তির প্রভাব। প্রযুক্তি এবং আধুনিকাতর প্রভাবে এভাবে বিবর্তন আসতে থাকবে। বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এটা আমরা ইচ্ছা করলেই ঠেকাতে পারবো না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছুতেই বিশ্বে দ্রুত বিবর্তন হচ্ছে। সংবাদপত্রের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রযুক্তি সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নানা সুযোগ সৃষ্টি করেছে, আধুনিকতার জায়গায় নিয়ে গেছে। সে কারণে অনলাইন পত্রিকার চাহিদা বাড়ছে। সারা বিশ্বে অনেক নামিদামি পত্রিকা (প্রিন্ট ভার্সন) বন্ধ হয়ে গেছে। তারা এখন অনলাইন পত্রিকার ওপর জোর দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাসহ মন্ত্রী-এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রচার শিল্প নিয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এখনও অনেকে চ্যানেল চাইছে। তথ্যমন্ত্রীর (ড. হাছান মাহমুদ) সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বললাম যতো চাইছে, দিয়ে দিতে। কিছু না হোক, কিছু লোকেরতো চাকরি হবে, কর্মসংস্থান হবে। এ কারণে যতই চাইবে ততই অনুমোদন দিয়ে দেবো।

তিনি বলেন, আমরা সবকিছু ডিজিটালাইজড করে দিয়েছি, স্যাটেলাইটও হয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও টিভি চালানো যায়। তিন মাসের জন্য বিনা পয়সায় (টিভি চ্যানেল) চালানোর প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু চ্যানেলগুলো সেভাবে নিচ্ছে না। অথচ বিদেশি জায়গায় অনেক টাকা দিচ্ছে। কীভাবে আমাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অল্প খরচে টেলিভিশন চালাতে পারে সেজন্য কথা চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার যুগ। যারা ভালো অনুষ্ঠান করবে তারা টিকে থাকবে। ভালো খবর যারা দেবে তারা, তাদের চ্যানেল মানুষ দেখবে। আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষ সুতরাং গ্রাহক কখনও কমবে না বরং বেশি হবে।

নবম ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়েজবোর্ডের ব্যাপারে সরকারের যা করণীয়, তা সরকার করেছে, বাকিটা মালিকপক্ষের, সেখান থেকে সাংবাদিকরা যা আদায় করে নিতে পারেন, সেটা তাদের ব্যাপার।

Pm.3.jpg

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রসংশা করেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। রোহিঙ্গা সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আশিয়ান, আঞ্চলিক ও বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতা কামনা করি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তিও হয়েছে। যে মুহূর্তে রোহিঙ্গা যাওয়ার কথা সেই মুহূর্তে তারা প্রতিবাদ শুরু করল যে তারা যাবে না। রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে চীন, ভারত ও জাপান তাদের জন্য ঘরবাড়ি করে দিতেও তারা রাজি। প্রত্যেক দেশেই কিন্তু তাদের কিছু কিছু রিফিউজি আছে। এদের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গারা দেশে কিংবা ভাসানচরে যেতে চাইলেও অনেক সংস্থা আছে তারাই পাঠাতে চায় না। কারণ এখানে বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও থেকে শুরু করে অনেকেই ভলেন্টিয়ার সার্ভিস দিতে আসে। আমার যেটা ধারণা ওই জায়গাটায় সমস্যা। সাংবাদিকরা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাসহ মন্ত্রী-এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমে তারা যখন আসে তখন তাদের একটা আতঙ্ক ছিল। সেই সময়টা যখন কেটে গেছে, যখন একটু সুস্থ তখন বেকার থাকাটা খুব একটা খারাপ দিক।

এ ধরনের একজন সুস্থ মানুষ বেকার থাকলেই তো নানা ধরনের চিন্তা মাথায় আসে। সবচেয়ে যেটা আশঙ্কাজনক এদের খুব সহজে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এদের হায়ার করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার হয় তখন তারা আমাদের দেশে আসে। তখন মানবিক কারণে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা চালিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। মিয়ানমার স্বীকার করেছে এদের ফেরত নেবে। তারা যখন প্রস্তুত হলো তখন একটা তালিকাও হলো, সেই তালিকাটা ইউএনএইচসিআর অনুমোদন করলো। কিন্তু যে মুহুর্তে রোহিঙ্গারা যাওয়ার কথা সেই মুহুর্তে এখানেই তারা প্রতিবাদ শুরু করলো, তারা যাবে না।

তিনি বলেন, কিছু যদি আমরা পাঠাতে পারতাম, তাহলে হয়তো এটা অব্যাহত থাকতো। জাপান, চীন, রাশিয়া, ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা হয়তো ঠিক ওদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে না। তবে আমাদের সঙ্গে যখন আলোচনা হয় তখন তারাও চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। তাদের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে যতটুকু দরকার ততটুকু তারা কিন্তু বলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে তাদের জন্য ঘরবাড়ি করে দেয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা করতেও চীন, ভারত, জাপান রাজি। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডারের যে কয়টা দেশ আছে- চীন, ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং লাওস তাদের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করেছি। কারণ প্রত্যেক দেশেই কিন্তু এদের কিছু কিছু রিফুজি আছে। এই সমস্যাটা প্রতি নিয়ত, প্রতি বর্ডারে হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি যে যৌথভাবে কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আমার সঙ্গে দেখা করেছে তাদের আমি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি-রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু করতে চায়। আমার প্রস্তাব তাদের কাছে আপনারা যা কিছু করবেন সেটা মিয়ানমারের মাটিতে করেন। এর মধ্যে ইউএনএইচসিআরসহ কিছু সংস্থা মিয়ানমারে যাচ্ছে। বলছে, এখানে মিয়ানমারের সরকারেরও একটা প্রচণ্ড অনিহা দেখা দিচ্ছে। আবার যখনই রিফুজি যাওয়ার কথা ওঠে তখন ওখানে একটা গোলমাল শুরু হয়। এই সমস্যাটা কারও ওপর দোষারোপ করে না। সব সময় রিফুজি থাকলে কিছু লোক ওই রিফুজিদের লালন-পালনের বিষয়ে যতটা আন্তরিক থাকে, তাদের ফেরত দেয়ার ব্যাপারে ততটা আন্তরিক থাকে না।

তিনি আরও বলেন, আমি স্পষ্টভাবে ওই তিন প্রতিনিধিকে বলে দিয়েছি, যে সামনে আমাদের বর্ষাকাল। ঝড় বৃষ্টি হতে পারে, আমাদের জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতগুলো মানুষ সেখানে যদি কোনো রকম দুর্ঘটনা হয়, এর জন্য কে দায়ী থাকবে? এই সব অর্গানাইজেশনকে কিছুটা দায়ভার নিতে হবে। জাতিসংঘকেও সে কথাটা আমি জানিয়েছি। আমাদের প্রচেষ্টাও আমরা চালাচ্ছি।

তিনি বলেন, এখানে একটা মানবিক দিক রয়ে গেছে। আমরা অতটা চাপ দিতে পারি না। জাতিসংঘের যে সমস্ত সংস্থাগুলো আছে যারা রিফুজি নিয়ে কাজ করে বা মাইগ্রেশন নিয়ে কাজ করে বা বিভিন্ন সংস্থা যারা, তাদেরও কথা বলছি। পাশাপাশি ভাসানচরে আমরা যে উন্নয়ন কাজটা করেছি সেই ছবিগুলো তাদের দেখিয়ে আমরা বলছি, এখানে তারা যেতে পারে। আমি মনে করি, কক্সবাজার যাওয়া খুব সহজ, থাকার জায়গা খুব সুন্দর। মানবিক কারণে যারা সেবা দিতে আসেন তারা বোধহয় নিজেদের সেবাটার দিকেও একটু বেশি করে তাকান। এখানেই তাদের আপত্তি। নইলে এই রিফুজিরা যে অবস্থায় থাকে, থাকাটাও তো কষ্টকর। ৪০ হাজারের ওপর বাচ্চা জন্ম নিয়েছে এখানে, আপনারা হয়তো চিন্তাও করতে পারবেন না।

pm-750x430.jpg

শ্রীলংকায় সিরিজ বোমা হামলায় নিহত নাতি জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুকে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

বৃহস্পতিবার লোটে শেরিং প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন সমবেদনা জানান বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফ সিদ্দিকী বিটু।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন।

গত রোববার শ্রীলঙ্কায় একাধিক গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলা হয়। ওই সব ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৫৯। ওই বোমা হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি শিশু জায়ান চৌধুরীও মারা গেছে। হামলায় জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সও (শেখ সেলিমের মেয়ের জামাই) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এখন শ্রীলঙ্কার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শিশু জায়ানের লাশ গতকাল বুধবার দুপুরে শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে আসে। জায়ানকে শেষবারের মতো দেখতে শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী জায়ানের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং শোকার্ত হয়ে পড়েন। বাদ আসর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে জানাজা শেষে জায়ানকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

pm36.jpg

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জায়ান চৌধুরীর বাবা মশিউল হক চৌধুরী এখনো জানেন না, তার সন্তান আর নেই।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে শ্রীলংকার ঘটনার বৈশ্বিক সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জায়ানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ইতোমধ্যে শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের সকালে সিরিজ বোমা হামলায় প্রাণ হারানো শিশু জায়ান চৌধুরীকে শেষ নিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে তার। জায়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পক্ষের নাতি।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, জায়ান চৌধুরী একটা ছোট্ট বাচ্চা। মাত্র আট বছর বয়স। আজকে সে আমাদের মাঝে নেই। তার বাবাও মৃত্যু শয্যায়। বাবাকে এখনো জানতে দেওয়া হয়নি যে, জায়ান নেই। সে বারবার খুঁজছে। আর তার মা বা পরিবারের অবস্থা বুঝতেই পারেন বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা চাই না, এই ধরনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও ঘটুক। এই ধরনের ঘৃণ্য হামলা ঘটকু। আর যারা সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদ, তাদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের কোনো দেশ-কাল-পাত্র নেই। জঙ্গি জঙ্গিই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী। আর ইসলাম ধর্মের নামে যারা করে তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এই পবিত্র সেই ধর্মটাকেই সকল মানব জাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে দিচ্ছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং সব ধর্মেই শান্তির কথা বলা আছে। হিন্দু-মুসলমান খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মেই শান্তির কথা বলা আছে। কিন্তু তারপরও কিছু লোক ধর্মীয় উন্মাদনায় তারা যে মানুষের প্রতি আঘাত হানে মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, এটা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কষ্টকর।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে এ ধরনের বোমা হামলা, জঙ্গি হামলা আমরা কঠোর হস্তে দমন করেছি। আমি দেশবাসীকে বলব, সতর্ক থেকে কোথাও যদি অস্বাভাবিক কিছু পায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যেন তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়।