প্রশ্নফাঁস Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

hew.jpg

প্রশ্নফাঁস হওয়ায় কওমি মাদরাসার অধিভুক্ত দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সনদ মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান।

শনিবার (১২ এপ্রিল) সকালে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসাগুলোর সরকারি বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

সকাল সাতটায় আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে ঢাকার মতিঝিলে সংস্থাটির কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য মাওলানা মুসলেহুদ্দিন রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এর আগে অনুষ্ঠিত হওয়া দাওরায়ে হাদীসের সকল বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে হবে। আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা হবে। ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস উপলক্ষে পরীক্ষা বিরতি রয়েছে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরে প্রকাশ করা হবে বলেওি জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী, মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা শামসুদ্দিন জিয়া, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মুফতি এনামুল হক, মুফতি নুরুল আমিন, মুফতি জসিমউদ্দিন, মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা শুরু হয়। আগামী ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। ছয়টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ২৬ হাজার ৭২১ জন শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

sylheteducationboard-1280x798.jpg

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: আব্দুল কুদ্দুছ বলেছেন, অ্যালমিনিয়ামের তৈরি ফয়েল পেপারের বিশেষ নিরাপত্তা-প্যাকেটে এসএসসি প্রশ্ন দেয়া হচ্ছে পরীক্ষা সেন্টারে। যাতে ট্টেজারি বা ব্যাংকের ভল্ট থেকে কেন্দ্রে নেয়ার পথে কেউ প্রশ্নের প্যাকেট খুললে সহজেই ধরা পড়বে। তবুও সংবাদ মাধ্যমে দেখা গেছে প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস হয়েছে। সরকার বিরোধী দলের সমর্থিত শিক্ষকরাই এ কাজ করে তামাশা দেখতে চায়। তবে আমরা চাই ভালোয় ভালোয় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘অ্যালমিনিয়ামের তৈরি ফয়েল পেপারের লেখা যায় না, বুঝা যায়। তাই অনেক সেন্টারে উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন দেয়া হয়েছে তবে দ্রুত ৫/১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ঠিক করে নিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, ‘বড় হতে হলে, বড় করে স্বপ্ন দেখতে হবে। তোমাদের হাত ধরে ২০৪১ সালের একটি উন্নত রাষ্ট্রে উন্নত হবে এ দেশ। তোমরাই আগামী দিনের চালিকা শক্তি। তোমাদের দিকে চেয়ে আছে দেশ এবং জাতি।’

সরকারের নানা সফলতা তুলে ধরে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের বলেন -‘লক্ষ্য অর্জনের জন্য বইয়ের পাতা উল্টালে হবে না। আগে ঠিক করতে হবে তোমার লক্ষ্য কি, কি হতে চাও তুমি। এজন্য দরকার হবে স্বপ্ন দেখা। সেটা কিন্তু দিবা স্বপ্ন হলে হবে না। কর্ম প্রচেষ্টা ছাড়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। উদ্দেশ্য ঠিক করে উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কর্মকান্ড চালালেই লক্ষ্য পৌঁছানো সম্ভব।’

মেয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন- সবক্ষেত্রে নারীর অবস্থান সৃদৃঢ়। শুধু পড়া শোনা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় তা না, খেলাধুলা করেও প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায়।’

শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার আহবান জানিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রফেসর মো: আব্দুল কুদ্দছ বলেন- ‘জিপিএ-৫ এর পেছনে শিক্ষার্থীদের উপর ঢেলে দেওয়া যাবে না। ছেলে-মেয়েদের উপর পড়াশুনা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আর আগেরমত আর নেই। তাই সে যা করতে চায় সেই কাজে উৎসাহিত করবেন। আর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও অনান্য অনেক বিষয় আছে যা অনেক সম্মান জনক।’

ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের গভর্ণিংবডির সভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কলেজ শাখার শিক্ষক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী তরিক ও কল্লোল দাসের যৌত পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মালিক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম তালুকদার,

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুল হামিদ খান। এছাড়াও কলেজের গভর্ণিংবডির সদস্য ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

dipumoni8.png

আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন কোনোভাবে প্রশ্নফাঁস করা সম্ভব নয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যে সকল নির্দেশনা দিয়েছিলাম তার সবকটি অনুসরণ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নবাক্স খোলা হয়েছে। সারাদেশে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। দেশের সকল স্থানে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কোথাও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা একেবারে নকল ও প্রশ্নফাঁস মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা শেষ করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। পূর্বের চাইতে এবার আমরা আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

তাই প্রশ্নফাঁস বা তার গুজব ছড়ালে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়বে।। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাই এমন ন্যাক্কারজনক কাজের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে কেউ রেহাই পাবে না।

প্রশ্নফাঁসের গুজবকারী কয়েকজনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে তাদের ওপর নজরদারি বসানো হয়েছে।

দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করবে। তাই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সহায়তা কামনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে উত্তরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও দফতর সংস্থার কর্মকর্তারা। কেন্দ্র পরিদর্শনের পর শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে পরীক্ষাসংক্রান্ত সার্বিক দিক তুলে ধরেন।

cid-master-20190131180828.jpg

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত দেড় বছরে প্রশ্নফাঁসে জড়িত চক্রের ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতরা ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় সীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। সিআইডি বলছে, নিয়োগ ও ভর্তিতে প্রশ্নফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতের দুই আলাদা চক্রকে তারা আইনের আওতায় এনেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলোৎপাটনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে সিআইডি জানায়, এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলোৎপাটন হয়েছে। সর্বশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হাফিজুর রহমান হাফিজ ও মাসুদ রহমান তাজুলসহ এখন পর্যন্ত দুটি চক্রের ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

এদিকে সিয়াইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই হোতাদের অঢেল সম্পদের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য

৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ননক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মো. ইব্রাহিম। পরিবার দরিদ্র হলেও তাকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। কারণ, ইব্রাহিম চলাচল করতেন ৩৬ লাখ টাকার দামি গাড়িতে। শুধু তাই নয়, খুলনা নগরীর মুজগুন্নীতে ৬ শতাংশ জমিতে চার তলার ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। নড়াইলে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এর সবই হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে করা অবৈধ আয়ে।

গত দেড় বছরে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকায় মোট ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই ইব্রাহিম।

সিআইডি বলছে, সরকারি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এমনকি বিসিএস পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতি হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে ৩০ কোটির বেশি টাকার সম্পত্তি হাতিয়েছেন মো. ইব্রাহিমসহ ৬ মাস্টারমাইন্ড।

সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় দুই উপায়ে প্রশ্ন ফাঁস হত। পরীক্ষার আগের রাতে প্রেস থেকে। আরেকটি হলো- ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে।

ডিজিটাল চক্রটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করত। সঙ্গে সঙ্গেই ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে আসছিল।

তদন্তের পর বিভিন্ন সময় অভিযানে ডিজিটাল জালিয়াত চক্রটির মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, মূল হোতা ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম মোল্যা, বিএডিসি’র সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, আইয়ুব আলী বাঁধনসহ মোট নয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম। চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করেছে বলে জানা যায়।

পরবর্তিতে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হাফিজুর রহমান হাফিজ ও ব্যবসায়ী মাসুদ রহমান তাজুলকে গত সপ্তাহে গ্রেফতার করে সিআইডি।

অলিপ, ইব্রাহিম, মোস্তফা, তাজুল, হাফিজ ও বাঁধন- ডিভাইজ জালিয়াতির এই ছয় মূল হোতার প্রত্যেকের আবার নিজস্ব সহযোগী চক্র ছিল। সর্বশেষ অভিযানে তাদের সহযোগিদের কয়েক জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

মুম্বাই থেকে আনা হয় প্রশ্নফাঁসের ডিজিটাল ডিভাইস

ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসে ও জালিয়াতিতে পারদর্শী ছিলেন অসীম বিশ্বাস। অসীম ছিলেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁসকারী মাস্টারমাইন্ডদের অন্যতম তাজুলের সহযোগী। পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ব্যবহৃত কয়েক শত ইলেকট্রনিকস ডিভাইস আমদানি করেছিলেন ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসীম বিশ্বাস। আর এর সবই তিনি আমদানি করেন মুম্বাই থেকে।

ইব্রাহিম মোল্যার বিলাসী জীবন

দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইব্রাহিম জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে দাবি সিআইডির! ৩৬ লাখ টাকার দামি গাড়িতে তার চলাচল। জালিয়াতির টাকায় খুলনা নগরীর মুজগুন্নী এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নড়াইলে তৈরি করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এ ছাড়া অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতেন তিনি। ইব্রাহিম অল্প দিনেই চাকরি ছাড়াই গোপালগঞ্জ সদরে ধনী বনে যান।

ব্যাংকার হাফিজের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকার লেনদেন

হাফিজুর রহমান হাফিজের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের জামাদারপড়ায়। জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে তিনি চাকরি করলেও আড়ালে ছিলেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতচক্রের তৃতীয় অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। হাফিজের ব্যাংকে প্রায় ১০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস চক্রের ৬ মাস্টারমাইন্ডের অঢেল অর্থ-সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি করে আয় করেছেন। অলিপ কুমার বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড। কয়েক বছরে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি দুই কোটি টাকা আয় করেছেন। ইব্রাহিম, হাফিজ, মোস্তফা, তাজুল ও বাঁধন বিসিএসসহ সব নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূল হোতা।

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের মধ্যে আছে ছাত্র, শিক্ষক ও বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা। এই অসদুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছিলেন বিশাল বিত্ত-বৈভব। তাদের অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার লক্ষে তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় গত ৭ জানুয়ারি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই মামলায় গ্রেফতার ৪৬জনসহ শতাধিক আসামি করা হয়েছে।

আমরা নেমেছিলাম পুরো চক্রটিকে ধরব বলে। আমরা সফল হয়েছি। এই চক্রটি গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি শক্ত ম্যাসেজ দেয়া গেছে। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ প্রশ্নফাঁসের ধৃষ্টতা না দেখায়।

questt.jpg

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় মূলত দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র প্রশ্নফাঁস করে, অন্য চক্রটি পরীক্ষার দিন প্রশ্ন সংগ্রহ করে সমাধান বের করে। এরপর ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তা পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করে।

সিআইডি জানিয়েছে, নিয়োগ ও ভর্তিতে প্রশ্নফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতের দুই আলাদা চক্রকে তারা আইনের আওতায় এনেছে। সর্বশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হাফিজুর রহমান হাফিজ ও মাসুদ রহমান তাজুলসহ এখন পর্যন্ত দু’টি চক্রের ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি হিমায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। এই কাজে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। সিআইডি এই পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিআরপিসি অনুযায়ী তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এত আসামি জবানবন্দি দিয়েছে তার কোনো ইতিহাস নেই।’
গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশ্নফাঁস দেশ তুমুল আলোচিত বিষয়। তবে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন আগেভাগে আসেনি সামাজিক মাধ্যমে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে প্রচুর গ্রেপ্তার হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি হলে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে রানা ও মামুন নামের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তারদের  কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাফিকে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে প্রযুক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায় পরীক্ষার আগেই প্রেস থেকে ফাঁস হয়ে যেত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন। এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী, প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফসহ ২৮ জন। তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চক্রের মূলোৎপাটন করা হয়।
সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং সাভারের একটি বাসায় আগের রাতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়াতেন বলে তিনি জানান।

মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা দেখেছি, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। অন্য চক্রটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদেরকে সরবরাহ করে। আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারি পুরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিল।’

‘প্রেস বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যারা এনালগ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তাদের আইনের আওতায় আনা ততোটাই জটিল। কিন্তু সিআইডি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বদ্ধপরিকর ছিল। ফলে টানা সাঁড়াশি অভিযানে নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী অলিপ কুমার বিশ্বাস, মূল হোতা ৩৮ তম বিসিএসের নন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম মোল্ল্যা বিএডিবির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল আইয়ুব আলী বাঁধনসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।’
এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করেছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে থেকে পরীক্ষার শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রনী স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মুজমদার এবং নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
গ্রেপ্তারে সময়ে হাসমতের কাছ থেকে ওইদিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।  অলিপ, ইব্রাহিম, মোস্তফা, তাজুল, হাফিজ ও বাঁধন ডিভাইস জালিয়াতির এই ছয় মূলহোতার প্রত্যেককের আবার নিজস্ব সহযোগী চক্র ছিল।

র্বশেষ অভিযানে এদের কয়েকজন সহযোগীকেই গ্রেপ্তার করা হয়। অলিপের অন্যতম সহযোগী অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ, তাজুলের প্রধান সহযোগী ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসীম বিশ্বাস মুম্বাই থেকে পরীক্ষায় জালিয়াতির কয়েকশত ডিভাইস আমদানি করেছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা  বলেন, সর্বশেষ অভিযানে জনতা ব্যাংকের জেষ্ঠ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান, একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ, চতুর্থ বর্ষের মোহায়মিনুল ইসলাম গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রিমন হোসেন, ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান তাজুল, অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা কলেজের পিওন মোশাররফ হোসেন মোশা এবং ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসিম বিশ্বাস।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ৩০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পায় সিআিইডি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে মানিলান্ডরিংয়ের মামলা করা হয়েছে।

ssc-20190128093241.jpg

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে তুলে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রুপ ও পেজ খুলে মাত্র ১০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন বিক্রির অফার দেয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র হাতে তুলে দেয়া হবে বলেও শতভাগ গ্যারান্টি দেয়া হচ্ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন।

এ পরীক্ষা সামনে রেখে গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মনিটরিং ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আজ (২৭ জানুয়ারি) থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার থাকবে। এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যদি বিশেষ কোনো কারণে কারো দেরি হয় সেই ক্ষেত্রে দেরির কারণ ও পরীক্ষার্থীর নাম-ঠিকানা লিখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে আরেকটি পদক্ষেপ হচ্ছে, মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা। কেবল কেন্দ্র সচিব ক্যামেরাবিহীন ও ইন্টারনেট সংযোগ পায় না এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা ও প্রশ্ন বহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ কোনো মোবাইল ফোনই ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার কাজে জড়িত নন এমন কেউ কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। এসব নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি পেতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করব- সংশ্লিষ্ট সবাই সুষ্ঠু পরীক্ষা গ্রহণে সহায়তা করবেন।

যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তাদের নজরদারি করা হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী এমন তথ্য জানানোও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় প্রশ্নফাঁসের একাধিক চক্র।

সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমের বিভিন্ন সাইটে দেখা গেছে, ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ এবং হোয়াটস অ্যাপে ১০টির বেশি এমন গ্রুপ রয়েছে যারা প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক। এর মধ্যে আছে- এসএসসি অল বোর্ড কোশ্চেন আউট ২০১৯, এসএসসি কোশ্চেন আউট-২০১৯, এসএসসি কোশ্চেন সল্যুশন, জেএসসি-এসএসসি-এইচএসসি কোশ্চেন আউট, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ এসএসসি ব্যাচ ২০১৯, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ এসএসসি ২০১৯ কিউ গ্রুপ, এসএসসি মিশন ২০১৯সহ বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।

এসব গ্রুপে সক্রিয় কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারি। এ ছাড়া আরিয়ান খান, জাহিদুল আলম সরকার, জুয়েল আহমেদ, জীবন আহমেদ, নাহিদ আলী, এমএক্স মুহিতসহ অনেকেই। তবে এসব আইডির নামগুলো পরিবর্তন করতেও দেখা গেছে।

ফেসবুকে তাদের পোস্ট করা বিজ্ঞাপনগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে তাদের প্রলোভনগুলো প্রায়ই একই রকম। শিক্ষাথীর্দরে উদ্দেশে বলা হচ্ছে- ‘এসএসসি ২০১৯ এর প্রশ্ন দিবো, কোনো অ্যাডভান্স লাগবে না। ১০০ ভাগ কমনের পর টাকা দিবা। প্রতি প্রশ্নের টাকা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দিতে হবে ৩০০ টাকা করে। তাই প্রশ্ন নিতে চাইলে জলদি ইনবক্স করো।’

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের যত প্রোলভোনই আসুক এরসবই ভুয়া বলে উল্লেখ করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। খুবই কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এবার প্রশ্নফাঁস এবং নকল রোধে কঠোর নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।’

ssc1

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে মন্ত্রণালয়ের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয় জানাতে গিয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়েও ভিন্ন কিছু কৌশল আমরা নিয়েছি। এবার প্রশ্নপত্রের সেট অনেক বেশি। তবে কত সেট হবে তা আগে থেকেই জানানো যাবে না। প্রয়োজনে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন থেকে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র পোস্ট ও গুজব রটনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে ১০টি স্পেয়ার হিট টিমও গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে বসানো হবে ম্যাগনেট, অপ্টিক ও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর। ফলে কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সুযোগ নাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যেসব গ্রুপে যারা প্রশ্ন সরবরাহ করবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সেগুলো ভুয়া বলেও দাবি করে সংস্থাটি।

ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে যে চক্রটি এইসব ভুয়া পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আমাদের টিম অভিযান চালচ্ছে। তাদেরকে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই তাদের আটক করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে বলে গত কয়েকদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস রোধে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে প্রতিটি কেন্দ্রে। খাম কেউ আগে খুলে ফেললে ধরা পড়ে যাবে।’

এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রণালয় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার থেকে সারাদেশের সবধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে। এইসব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে অভিযোগ রয়েছে এখনও দেশের কোথাও কোথাও কোচিং সেন্টার খোলা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বমোট ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে দাখিলে অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ১০হাজার ১৭২জন। এসএসসি ভোকেশনালে পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭২জন। সারাদেশে মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ৩ হাজার ৪৯২টি।