ফখরুল Archives - Page 2 of 3 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

fakhrul6.jpg

দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোট এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে উপেক্ষা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সোমবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সোমবার মামলার হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, চোখের সামনে অন্যায় দেখে মানুষ যাতে প্রতিবাদ না করে সেজন্য সরকার হামলা, মামলা ও গ্রেফতার তৎপরতা সীমাহীন মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে। সরকারের এমন ফ্যাসিবাদী আচরণ দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ অধিকারহারা। তাদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করেছে সরকার। দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

dtfakhrul.jpg

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্যায়ভাবে তাসভির উল ইসলামকে জড়িয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের চরম ব্যর্থতায় জনমনে যে ধিক্কার উঠেছে, সেটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই তাসভিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রোববার (৩১ মার্চ) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ২৬ জন নিহত হন। পরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হলে শনিবার রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভির উল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ রোববার তাসভির উল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন। একই মামলায় এফ আর টাওয়ারের জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুককেও রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, মূলত তাসভির উল ইসলাম ওই ভবনের মালিকও নন, ডেভেলপারও নন। তিনি ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা বিল্ডার্সের কাছ থেকে ফ্লোর কিনেছেন মাত্র। তিনি কোনোভাবেই দায়ী হতে পারেন না। সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে তাসভির উল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শুধু জনগণের কাছে বিএনপিকে দোষী করার জন্য। তিনি বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণে সরকারের গাফিলতি এবং আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের দৈন্যদশায় দেশে একের পর এক আগুনে পুড়ে মানুষের মৃত্যুতে যে ট্র্যাজেডির সৃষ্টি হচ্ছে, সেটির দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে সরকার নির্দোষ সাজতে চাচ্ছে।

ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, যে সরকারের আমলে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে নির্মাণকাজ হয়, ভবন নির্মাণের পর হেলে যায়, ভবনের টেকনিক্যাল উপযোগিতা যাচাই না করে মানুষের বসবাস ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও ফায়ার সেফটি কোড অনুসরণ করা হয় না, সেই সরকারের আমলে মানুষের জীবন যে ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। এগুলোর সম্পূর্ণ দায় সরকারের। এই সরকারের আমলে অন্তত মানুষের নিশ্চিন্তে মৃত্যুর সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, অপঘাত, দুর্বিপাক, দুর্ঘটনা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুরই এখন জয়জয়কার। চকবাজারের চুড়িহাট্টা, বনানীর এফ আর টাওয়ার, গতকাল গুলশানের কাঁচা বাজারে আগুনসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণহানিতে চারদিকে শুধু ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, গণবিচ্ছিন্ন জবাবদিহিহীন আওয়ামী সরকার দেশে সুশাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত বলেই জনস্বার্থের বিষয়টি সব সময় তাচ্ছিল্য করছে। ফলে নানা দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষের অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ার জন্যই উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই অপচেষ্টার শিকার কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভির উল ইসলাম।

তাসভির উল ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তাসভিরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব।

fakhrul-20180905235250.jpg

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে আবারও বাকশাল কায়েমের তোড়জোড় করছে সরকার।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতিনিধি সভা ২০১৯’র এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

বাকশাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, অনেক পানি গড়িয়েছে, ৭৫ আর ২০১৯ সাল এক নয়। সুতরাং একদলীয় শাসনের যে স্বপ্ন আপনারা দেখছেন, রাজত্ব চিরস্থায়ী করবেন, এদেশের জনগণ কোনোদিনেই এ অবস্থা মেনে নেবে না।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্র পরিচালনা করার কথা কিন্তু প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তৎকালীন ৭২-৭৫ আওয়ামী লীগ সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হতে শুরু করলেন, যখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হলো তাদের দুর্নীতির কারণে, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হলো, তখন জরুরি আইন চালুর মধ্য দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। সেই বাকশালের পেছনে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য ছিল না। সেই বাকশালের কারণ ছিল তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবার, ক্ষমত কে ধরে রাখবার।

বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, বেআইনিভাবে তাকে আটক রাখা হয়েছে। কোনো আইনেই তাকে আটক রাখা যায় না। প্রতিদিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে নওয়াজ শরীফ কনভিক্টেড, তিনি জামিনে আছেন। আওয়ামী লীগের যারা কনভিক্টেড তারাও জামিনে। নাজমুল হুদা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন, ১৪ বছর সাজা হয় তার, পাঁচ দিন পর বের হয়েছেন। সেখানে এক বছরের উপরে হলো দেশনেত্রীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। এর আগে একবার হাসপাতালে নিয়ে এসে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর সাড়ে তিন মাস কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আমাদের আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। আমরা পরাজিত হব না। আমাদের দেশনেত্রীকে মুক্ত করে গণতন্ত্র মুক্ত করব। রাষ্ট্রকে গণতন্ত্র ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খানের সভাপতিত্বে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহীম বীর প্রতীক প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

fakhrul-20180905235250.jpg

বোমা হামলায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা মঈনুদ্দিন আকতার চেয়ারম্যান নিহতের ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের মহাভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দুঃশাসন যেন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকার দেশকে বিএনপিশূন্য করতে এখন মাঠে নেমেছে। স্বৈরাচারী সরকার বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মী এবং প্রতিবাদী জনগণের রক্তে হাত রঞ্জিত করে ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস না করে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্বের গণধিকৃত সকল স্বৈরাচারকে টেক্কা দিয়ে জনসমর্থনহীন সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। মহাসমারোহে ভোটডাকাতির পর নির্লজ্জ সরকারের আসকারায় শাসকগোষ্ঠীর মদদপুষ্ট ক্যাডাররা দেশব্যাপী খুন-জখমে মেতে থাকতেই আনন্দবোধ করছে। স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের বর্তমান হিংস্ররূপ দেখে দেশের মানুষ আজ বাকরুদ্ধ। অশুভ আশঙ্কা, আতঙ্ক ও ভয়ের এক দুর্বিষহ পরিবেশ জনজীবনকে সারাক্ষণ উদ্বিগ্ন করে রেখেছে।’

ফখরুল বিবৃতিতে বলেন, ‘বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা মঈনুদ্দিন আকতার চেয়ারম্যানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল- বর্তমান স্বৈরশাহী দেশে বিরোধীদলহীন নিষ্ঠুর একদলীয় রাষ্ট্র কায়েমে বদ্ধপরিকর। তবে তাদের এই সাধ কোনোদিন পূরণ হবে না। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ, তারা বহুমত, পথ ও বিশ্বাসের ঐতিহ্যকে কোনোদিন বিসর্জন দেবে না।’

তিনি বিবৃতিতে বলেন, ‘এই কাপুরুষোচিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহতের জন্য আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি, তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। দোয়া করি- মহান রাব্বুল আলামিন যেন মরহুম খাজা মঈনুদ্দিন আকতার চেয়ারম্যানকে বেহেস্ত নসিব এবং শোকবিহব্বল পরিবারের সদস্যদেরকে এই গভীর শোক সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন।’

fakhrul-20180905235250.jpg

চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন।

বিমানবন্দরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদসহ আরও কয়েকজন নেতা মির্জা ফখরুলকে বিদায় জানান।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমও সিঙ্গাপুর গেছেন। দেশটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন ফখরুল।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেবেন। বিএনপি মহাসচিবের ঘাড়ে ইন্টারন্যাল ক্যারোটিভ আর্টারিতে জটিলতা রয়েছে। সর্বশেষ গতবছরের ৩ জুলাই ব্যাংককের ব্রামরুনগ্রাদ হসপিটালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন ফখরুল।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর যান ফখরুল। সেখানে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

fak78.jpg

৩০ ডিসেম্বর ভোটের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন বলেন, আজকে ইকোনোমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে ‘আওয়াজ’ নামে এক সংগঠন আয়োজিত ‘সহিংসতা ও নারী: বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে দলটি গণতন্ত্রের কথা বলেছে, সংগ্রাম করেছে, সেই দলটি আজকে আবার দ্বিতীয়বারের মতো গণতন্ত্রকে হত্যা করল। প্রথমবার করেছে ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। আজকে আবার এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করল।’

আওয়ামী লীগ ছলে বলে কৌশলে দেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবাই জানি গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে একটি দলের শাসন চলছে। তারা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে ধংস করে দেয়ার উপক্রম করেছে। গত নির্বাচনে দেখলাম অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের ক্ষমতায় নেয়ার জন্য রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।

ঐক্যফ্রন্টের ভাঙন নিয়ে মিডিয়ার সংবাদ প্রচারের সমালোচনা করে ফ্রন্টের মুখপাত্র ফখরুল বলেন, আজকে কিছু পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান। অথচ আওয়ামী লীগ যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধংস করে দিলো, সংবিধানকে লংঘন করলো সে বিষয়গুলো বলার সাহস তারা পান না।

বিএনপিতে কোনো সংকট নেই দাবি করে দলটির মহাসচিব বলেন, সমস্যা-সংকট আজকে গোটা জাতির, সমস্যা বিএনপির নয়। আজকে দেশ ধংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি ধংস হয়ে যাচ্ছে। সব অধিকার ধংস হয়ে যাচ্ছে, আর আপনারা বলছেন—বিএনপির সমস্যা। বিএনপির কোনো সমস্যা নাই।

দেশ ও জাতিকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে দেশে জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই, যে দেশে সংবিধানসম্মত একটি নির্বাচন করতে গিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দখল করে নেয়া হয়, সেখানে নারী নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর বিচার পাওয়া যাবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংসদ চলছে, এই সংসদ কার কথা বলবে? এই সংসদ কি নারীদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলবে? বলবে না, কারণ হচ্ছে তাদের লোকেরাই এই কাজগুলো করছে।

একাদশ সংসদের বৈধতা নেই দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের এই সংসদ বসানোর নৈতিক কোনো বৈধতা নেই। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে গোটা জাতির সঙ্গে নিষ্ঠুর প্রহসন-তামাশা করা হয়েছে।

দেশে ফ্যাসিস্ট শাসন চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো দেশে ফ্যাসিবাদ যখন চলে তার সর্বপ্রথম কাজ একটা ভয়ের সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা, জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেয়া। এই ভীতিতে বাস-রেস্টুরেন্টে কেউ কথা বলতে চান না। সরকারের-আওয়ামী লীগের সফলতা এই জায়গায়, তারা একটি ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এটা কি তার প্রাপ্য? তিনি জামিন পেয়েছেন অথচ তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৮ হাজার মামলা করা হয়েছে। এগুলোতে ২৭ লাখকে আসামি করা হয়েছে।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হবে জানিয়ে ফখরুল বলেন, আজকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। সুতরাং এখন সাহস নিয়ে লড়াই করতে হবে।আপনারা ভয় পাবেন না। সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর সাহিদা রফিক। বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. তাজমেরী এস ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম প্রমুখ

fakhrul6.jpg

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য ‘প্রতারণামূলক’ অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচনে মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। তারা (ক্ষমতাসীনরা) একটা ভয়াবহ রকমের নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি করেছে, যা ইতিপূর্বে বাংলাদেশ কখনো দেখেনি। সেই ভোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতা আবার দখল করে নিয়েছেন। আবার এসেছেন, এসে তারা দেশ পরিচালনা করবেন। বলছেন বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদে যাওয়ার জন্য। এটা আরও একটা প্রতারণা জনগণের সঙ্গে করা হচ্ছে। বোকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে মানুষকে।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া দেন।

একাদশ সংসদে যাওয়ার বিষয়ে দলের অবস্থান আবারও পরিষ্কার করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কীভাবে এটাকে সংসদ হিসেবে ধরে নেয়া হবে। আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। এই মুহূর্তে সংসদ যাওয়ার বা শপথ নেয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি নির্বাচন বাতিল করেন, আবার নতুন নির্বাচন দেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করেন। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেন। সবাই অংশগ্রহণ করবে। তারপরে যে ফলাফল আসবে সেই ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদ এবং সরকার গঠন হবে। আমরা তো আগেই বলে দিয়েছি। নতুন করে বলার কিছু নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যে যে ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন প্রথমেই যে, কেন তার বিজয় হলো? সেই ব্যাখ্যাই প্রমাণ করে যে তারা আসলে কোনো বিজয় অর্জন করেনি। জনগণের ভোটকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়ে ক্ষমতা দখল করে বসেছেন। প্রথম তার (প্রধানমন্ত্রী) ব্যাখ্যাটা সেটাই প্রমাণ করে। কারণ সঠিক ভোটে জিতলে কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকা, মিডিয়া এবং বিভিন্ন দেশগুলো বক্তব্যের মধ্যে এসেছে যে, এই নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি এবং এখানে মানুষের মতামতের প্রতিফলন হয়নি। ভয়াবহ রকমের নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি করেছে।

fakhrul-20180905235250.jpg

বিএনপিকে বিভক্ত করার চক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘আজকে অনেক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সেই চক্রান্তগুলো হচ্ছে বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য। এই চক্রান্ত হচ্ছে বিএনপিকে বিভক্ত করে তার শক্তিকে ছোট করে দেয়া- বিএনপিকে যেটা এখন পর্যন্ত পারেনি, এর আগেও এমন চেষ্টা করা হয়েছে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, কোনোদিনই তারা (সরকার) সেটা পারবে না। যতবার বিপর্যয় এসেছে ততবার বিএনপি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে উঠেছে এবং নতুন জীবন লাভ করেছে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকোর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক মিলাদ মাহফিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিকে বুঝে সেই রাজনীতির পক্ষে আমাদেরকে অত্যন্ত শক্তভাবে অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে, বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীর রাজনীতিকে ধারণ করে। সেজন্যই বিএনপির প্রতি তাদের এতো দুর্বলতা, বিএনপিকে তারা ভালোবাসে। সেই ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোকে শক্তিশালী করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ যে দানব গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, আমার স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেজন্য তারা একের পর এক গণবিরোধী কাজগুলো করে চলেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একদিকে আরাফাত রহমান কোকোর রুহে মাগফেরাত কামনা করবো, তাকে স্মরণ করবো। অন্যদিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অতিদ্রুত আমরা সংগঠিত হয়ে তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।’

মিলাদে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হারুনূর রশীদ, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শিরিন সুলতানা, মীর নেওয়াজ আলী, হালিমা নেওয়াজ আরলি প্রমূখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

jobaidaaa.jpg

বিএনপিকে নতুন করে গঠন করতে এবং ত্যাগী ও তরুণদের সুযোগ দিতে চান দলটির নেতারা। এজন্য দলের প্রয়োজনে পদ ছেড়ে দিতে রাজি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গত ১৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিএনপির এই তিন নেতা তাদের বক্তব্যে এ কথা জানান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর দল পুনর্গঠনের জোর দাবি যখন বিএনপির ঘরজুড়ে, ঠিক তখন তিন নেতার এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে কে হবেন দলের নতুন কাণ্ডারি? যেসময় দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ বিভূঁইয়ে জীবন কাটাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। দলের এমন মুহূর্তে সর্বোচ্চ ফোরামের দায়িত্ব নিতে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সেটি ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি তারেক রহমানের স্ত্রী।

বিএনপির রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের বড় পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান সক্রিয় হবেন, দলের ভেতরে-বাইরে এই দাবি জোরালো হয়ে উঠছে দিন দিন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ডা. জোবাইদার সক্রিয় হওয়ার পক্ষে। এই নিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্লিন ইমেজের জোবাইদা রহমান যাতে বিএনপির হাল ধরেন, দলের ভেতর থেকেও এক ধরনের চাপ রয়েছে। কিন্তু জিয়া পরিবারের অনাগ্রহের কারণেই তিনি রাজনীতিতে আসছেন না। তবে ইতোমধ্যে জোবাইদা দলের প্রাথমিক সদস্য পদ নিয়েছেন।

এছাড়া আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথিরও রাজনীতিতে আগ্রহ রয়েছে। তাকে এবার দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের উপর, এমনটাই জানিয়েছে দলের হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা রেখেই কমিটি দেন খালেদা জিয়া। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা। লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে দলে নিয়মিত সময় দিতে পারেন না।

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতে আছেন। কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তাও জানা যাচ্ছে না, স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠকেও যোগ দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন স্থায়ী কমিটির এমন দুই সদস্য অবসরে যেতে চান বলে জানা গেছে। ফলে স্থায়ী কমিটির ৯টি পদ কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে। এতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের চেয়ে থাকতে হয় লন্ডনের দিকে।

সূত্র জানায়, বিএনপির দায়িত্ব নিতে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে যে কয়জন এগিয়ে আছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন হামলা, মামলায় জর্জরিত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দলের অস্তিত্ব নিয়ে যখন সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, সেই সময়ে তরুণ নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া বুমেরাং হবে নাকি জাতীয়তাবাদী দলের নতুন ইতিহাস তৈরি হবে সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে বিএনপির আগামী সম্মেলন পর্যন্ত।

faki.jpg

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন একটা কাজ করেছে- তা হলো আওয়ামী লীগকে চিরদিনের জন্য মানুষের মন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পরাজয় বিএনপির হয়নি, পরাজয় হয়েছে আওয়ামী লীগের। নৈতিকভাবে তাদের পরাজয় হয়েছে। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, জনগণ থেকে একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

শুক্রবার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে আলোতে উঠে আসতে হবে। এ জন্য যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটা আপনাদের, আপনাদেরই রক্ষা করতে হব। জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পরাজিত হওয়া যাবে না। পরাজিত বোধ করলেই পরাজিত।

তিনি বলেন, আমাদের যেসব ভাইয়েরা পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত, কারারুদ্ধ তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। যেসব ভাইয়েরা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। সে জন্য আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমগ্র দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। আমাদের ভাইদের মুক্ত করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। এই শপথ নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ হলো সেই দল যারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে। রাষ্ট্রকে তারা ধ্বংস করে দেয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর তাদের রাগটা ওই জায়গায়, তিনি দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সে জন্য জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অপপ্রচার চালান। তাতে কোনো কাজ হবে না। মানুষের হƒদয় থেকে তাকে মুছে ফেলা যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড.আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আব্দুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভ‚ইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।