বঙ্গবন্ধু Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

du-sacked-234888.jpg

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে চাকরীচ্যুত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়।

২০১৮ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে নিবন্ধ লেখেন মোর্শেদ হাসান।

সেখানে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে তিনি লেখেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এভাবে কটূক্তি ও ইতিহাস বিকৃতির কারণে তাকে তখনই সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়।

কিন্তু স্থায়ীভাবে চাকরীচ্যুত করার দাবি জানিয়ে আসছিলো বিভিন্ন সংগঠন।

sheikh_mujib.jpg

মনোয়ার হোসেন রতন

বং, বঙ্গ, বাঙলা, সুবেবাঙলা এক সাগর রক্ত গঙ্গার মধ্যে ডুবতে ডুবতে অবশেষে ভেসে উঠলো এক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙ্গালী জাতি হিসাবে আমাদের রয়েছে বহু গর্বের ইতিহাস। অনেক রক্তাক্ত পথ, ভাঙ্গা-গড়া, উত্থান-পতনের বহুপথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন মহান এক পুরুষ, যাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া ছিলো না। শুধু বাঙালী, বাঙালী, বাংলা আর বাংলাদেশ করে করেই জীবন কাটালেন পথে-পথে, আন্দোলনে, সংগ্রামে, রাজপথে, মিছিলে আর ৪,৬৮২ দিন কাটলো জেলে জেলে। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি দু’হাত পেতে ছিলেন ঐ দূর আকাশে। তাঁর বিশাল হৃদয়ের উচ্চতা দিয়ে ভেবেছিলেন এক উচ্চতর জাতি গঠন করবেন। কিন্তু না, মূলত: আমরা ক্ষুদ্র এক প্রজাতি, হীন মন মানসিকতা, আমাদের হৃদয় বৃত্ত, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর, এক পরশ্রীকাতর বর্ণচোরা স্বভাবের জাতি। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, রাতে আমাদের রূপ রঙের বদল হয় গিরগিটির মতো। বাংলাদেশ ভূ-খন্ড, আমাদের মানচিত্র, আমাদের একটা ছোট্ট ঠিকানা রোড নং-৩২, বাড়ি নং- ৬৭৭, সারা বিশ্বের মানুষ চিনতো নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের এক কন্ঠস্বর, বিশাল আকৃতির সিংহ প্রকৃতির, মহান হৃদয়ের এক মানবীয় গুনের মহান পুরুষ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থাকতেন এ বাড়িতে। এ বাড়িতেই আমাদের স্বপ্ন যাত্রা এবং স্বপ্ন ভঙ্গের ইতিহাস রচিত হয়েছিলো। তাঁকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে আমরা পথ হারা পথিক, নীড় হারা পাখির মতো হয়ে পড়লাম। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বিশ্বাস ঘাতকতার নগ্ম ইতিহাস আমাদেরকে বয়ে বেড়াতে হবে। যে বিভক্তি ও বিভাজনের দেয়াল রেখা বিশ্বাস ঘাতকরা তৈরি করে দিয়েছে। আগ্মেয়গিরির জ্বলামূখ থেকে বের হওয়া হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, আমাদের প্রানপ্রিয় জাতির পিতাকে আমরা স্মরন করবো, তাঁর আদর্শ ধারন করে, বিভক্তি ও বিভাজনের প্রাচীর ভাঙ্গবো, স্যালুট দিবো মুজিব কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যিনি বিচার কাজ সম্পূর্ণ করে অনেককেই ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়েছেন। আর শত ধিক্কার দিবো তাদের যারা প্রত্যক্ষ ও পরক্ষোভাবে এ ঘৃণ্য হত্যাকান্ডোর সাথে জড়িত ছিলো।

যারা এ জঘন্য হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছিলো, সরাসরি এবং নেপথ্যে ছিলেন, তারা কারা? তারাতো ছিলেন, তাঁর খুবই কাছের, বীর মুক্তিযোদ্ধা! এখন হয়তো বলা হবে পথভ্রষ্ট! পদ-পদবী ক্ষমতার মোহ কত নীচে নামাতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া বিরল। তাঁর হত্যাকান্ডের সাথে যারা প্রত্যক্ষ-পরক্ষো এবং মৌন ভাবে জড়িত ছিলেন তারা সকলেই ছিলেন তাঁর স্নেহধন্য, সহযোদ্ধা, পুত্রসম সন্তানেরা, যাদের যাতায়াত ছিলো ৬৭৭ নং বাড়িতে সময়ে-অসময়ে, যাদের অনেকেই বেগম মুজিবকে “মা” বলে ডাকতেন, বাসায় যখন যা ছিলো তা দিয়েই তিনি খাওয়া-দাওয়া করাতেন, তাদের কত ভালোবাসার, স্নেহের পরশ বুলাতেন। অথচ আমরা কত ভয়ংকর লোমহর্ষক। বাংলার একখন্ড, অখন্ড আকাশ, মাটি, মানচিত্র আর ভূ-খন্ড স্পর্শ করবার সাহস যে পাকিস্তানীরা দেখাতে পারলো না। আমরা তাঁর হৃদয় বক্ষে ১৮টি বুলেটে ঝাঁঝরা করে দিলাম! বাংলার হৃদয় থেকে স্বপ্ন গুলো চলে গেল দূর আকাশে।অত্যন্ত আশ্চর্য এবং জঘন্য বিষয় সেনাবাহিনীর দু’ জন অফিসার মেজর ফারুক, মেজর রশিদ ১৮টি কামান, ২৮টি ট্যাংক ৭০০-৯০০ সৈনিক নিয়ে “রাত্রিকালীন ট্রেনিং” এর নামে বের হলেন, তাদের সাথে যোগ দিলেন বহিষ্কৃত বেশ ক’জন সেনা কর্মকর্তা। বাংলার ভাগ্যাকাশে দূর্যোকের ঘনঘটা, আদর্শহীন এক যাত্রার পদধ্বনি। বড় বড় পদ-পদবীর অফিসার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গোয়েন্দা বিভাগ, ডিজিএফআই, তিন বাহিনী প্রধান, রক্ষীবাহিনী, মুজিব বাহিনী, পুলিশ, বিডি আরসহ আরো আরো অনেকেই কেউ জানতে পারলো না? নাকি নীরবতার মধ্য দিয়ে মৌন সমর্থন ব্যক্ত করলেন! আগামী দিনে, নতুন প্রজন্ম সবই জানতে পারবেন আরো কারা নেপথ্যে মুখোশধারীরা ছিলেন। কি অদ্ভুত এক বিচিত্র চরিত্র নটরাজদের, অসভ্যতার কি নগ্ন চিত্র।

মেজর ফারুক ১ম বেঙ্গল ল্যান্সার রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড ২৮টি ট্যাংক, ৩৫০জন সৈন্য নিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুুত রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে, ভীত সন্ত্রস্থ কর্নেল হাসান রক্ষীবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন নি। এখানে উল্লেখ্য যে, ঐ সময় ফারুকের ট্যাংকে কোন গোলা বারুদ ছিলো না। পরবর্তীতে বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ যার নামের আদ্যক্ষর দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘কে ফোস’ গঠিত হয়েছিলো, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্থ। অথচ তিনিই জয়দেবপুর ডিপোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, গোলা সরবরাহের জন্য, কি আশ্চর্য নায়ক থেকে পরিনত হতে চলেছেন খল নায়কে। ফারুক ছিলেন খালেদ মোশারফের ভাগিনা। ফারুক ছিলেন তিন দিনের মুক্তিযোদ্ধা। ১ম বেঙ্গল ল্যান্সার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন পাকিস্তান প্রত্যাগত লেঃ কর্নেল মোমেন, ফারুকের বস। তিনি সেই সময় ছুটিতে ছিলেন! চিন্তার বিষয় আরো আছে। ১৫ আগষ্ট, ১৯৮৩ এবং ৭ নভেম্বর ১৯৮৩ স্যাটার ডে পোস্টে ফারুক এবং রশীদ যে চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাতে অনেক কিছুই স্পষ্ট করে বলেছেন, যেমন: “খালেদ মোশাররফ ছিলেন ১৫ আগষ্টের বিপ্লবী পদক্ষেপের অন্যতম জোরালো সমর্থক ও পৃষ্ট পোষাক……..”। অন্যান্য বিষয় এবং খল নায়কদের সর্ম্পকে জানা যাবে, ১৯৭৬ সালের আগষ্টের ১ম সপ্তাহে লন্ডন টেলিভিশনে ফারুক, রশীদ সাংবাদিক এ্যান্থনীম্যাস্কার্নহাস কে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, বলেছেন অনেক না জানা কথা, তথ্য এবং চরিত্র সর্ম্পকে..। যেমন: জেনারেল জিয়াকে মুজিবের স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়টি, অন্যান্য আরো বিষয়…। আরো বড় পদ-পদবীর আকাঙ্খা থেকে জন্ম নেয়া তিন নভেম্বরের দিকে তাকালেই চলে আসবে ইতিহাসের আরেক ঘটনা বহুল ৭ নভেম্বর এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ।

মেজর রশীদ ছিলেন মূলত: লক্ষ্যহীন, আদর্শহীন যাত্রা পথের রাজনৈতিক সমন্বয় সাধক। খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে অন্যান্য সেনাকর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে পূর্ব থেকেই আলাপ আলোচনা চালিয়ে গেছেন। টু ফিল্ড আটিলারী রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন রশীদ, তার বস ছিলেন কর্নেল শাফায়ত জামিল। কর্নেল শাফায়াত জামিলের স্টাফ অফিসার ছিলেন মেজর হাফিজ। মেজর রশীদ ১৮টি কামান এবং ১২ ট্রাক সৈন্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এবং রক্ষী বাহিনীর দিকে অস্ত্র এবং গোলা বারুদ নিয়ে প্রস্তুুত থাকলেন। অন্য কোন দিক থেকে আক্রমণ হলে বা প্রতি আক্রমনের মুখে পড়লে প্রতিরোধ গড়ে তুলবার জন্য। কিন্তুু না, কোন আক্রমনের, প্রতি আক্রমনের মধ্যে তাকে পড়তে হয় নি। তিনি ছিলেন ফারুকের ভায়রা। খন্দকার মোশতাক ছিলেন তার পাশের বাড়ির মানুষ। বঙ্গবন্ধু হত্যা হবার পর রশীদ প্রথমেই ছুটে যান শাফায়াত জামিলের বাসার তাকে গিয়ে বলেন, ”Sir, We have done the job. Sheikh is killed” এ বিচিত্র বর্ণচোরা স্বভাবের মানুষটি পরবর্তীতে ফারুক-রশীদ থেকে বা নতুন সরকার থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবী না পেয়ে, আবার নতুন করে জোটবদ্ধ হন খালেদ মোশারফের সাথে পরবর্তীতে আমরা দেখবো খল নায়কের নতুন অভিনয়, নতুন এক মঞ্চে!

মেজর মহিউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমনের এক অপবিত্র দায়িত্বে ছিলেন, তার সাথে এসে যোগ দেন মেজর নুর, এক সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানীর এডমিন ছিলেন এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের স্টাফ অফিসারও ছিলেন। এরপর আসেন মেজর হুদা, মেজর পাশা। বঙ্গবন্ধু পুুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করলেন অথচ কেউ ফোন ধরলেন না! মিলিটারী সেক্রেটারী কর্নেল জামিল উদ্দিনকে ফোনে বলেছিলেন, জামিল তুমি তাড়া-তাড়ি আসো আর্মির লোকেরা আমার বাসায় আক্রমন করেছে, শফিউল্লাহকে ফোর্স পাঠাতে বলো……..। জেনারেল শফিউল্লাহকে বঙ্গবন্ধু নিজে ফোন করে বলেছেন, আমার বাসায় তোমার ফোর্স এ্যাটাক করেছে, কামালকে হয়তো মেরেই ফেলেছে, তুমি তাড়া-তাড়ি ফোর্স পাঠাও…। অথচ কি অবাক বিস্ময়ের, হতবাক হতভম্ব হবার আশ্চর্য এক বিষয় সেনাপ্রধান জাতির পিতাকে রক্ষা করবার জন্য একজন সৈন্যও পাঠাতে পারলেন না। যিনি কিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় “এস ফোর্সের” মহানায়ক ছিলেন। সেনাপ্রধান হিসাবে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ৭৫ এর মে মাসে বঙ্গবন্ধু আরো ৩ বছরের জন্য তার মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অনেকটা অপাত্রে ভালোবাসা দান করবার মতোই হলো বিষয়টি। যে খুনি চক্রের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেন নি সেই খুনিরা তাকে ২৪ আগষ্ট ৭৫ সালে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেন, তার স্থলে সেনাপ্রধান করা হয় মুক্তিযুদ্ধের “জেড ফোর্সের” জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। আশ্চর্য এক রহস্যের আবর্তে বাংলাদেশ। ঘটনা প্রবাহ চারিত্রিক বিশ্লেষণ সব কিছু-ই এলোমেলো। তার সর্ম্পকে আরো জানা যাবে ৩ এবং ৭ নভেম্বর ৭৫ সালের ঘটনা প্রবাহের মধ্যে। এখানে উল্লেখ্য যে, কর্নেল জামিল তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঠিকই বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাছাকাছি চলেই এসেছিলেন কিন্তু খুনীরা তাঁর কপালে গুলিবিদ্ধ করে তাঁকে হত্যা করলেন। এরপরও বলা যায় কর্নেল জামিলের কপালে রাজ তিলক পড়েছিলো। তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে এসেছিলেন। অন্যদিকে জেনারেল শফিউল্লাহ ১৫ থেকে ১৭ আগষ্ট ৭৫ সালে সু-কৌশলে খুনী ফারুক, রশীদ, মোশতাক সরকারের সঙ্গে বঙ্গভবনে ছিলেন! কি নির্মম, কি পৈশাচিক, কি বর্বর একটা জাতি আমরা। খুনি চক্র হত্যায় মেতে উঠলেন, শেখ কামাল, একজন পুলিশ অফিসার, বঙ্গবন্ধু, বেগম মুজিব, শেখ জামাল, রোজি জামাল, সুলতানা কামাল, ছোট্ট রাসেল, শেখ নাসের। অহংকার করবার মতো গর্ব করবার মতো, যা কিছু ছিলো আমাদের অর্জন, তাঁর সবই ভূলুন্ঠিত হলো। এ কলঙ্কের দায় শুধু খুনিদের নয়, গোটা জাতিকেই নিতে হবে এ দায়ভার। বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত এসে স্পর্শ করলো বাংলার মাটি, রক্ত ভেজা মাটি লাগলো মানচিত্রে, সেই তাজা রক্তের দাগ, রক্ত মাখা মাটি থেকে কখনোই মুছে ফেলা যাবে না। সেই দাগের পদ চিহ্ন নিয়ে জাতিকে পথ চলতে হবে।

মেজর ডালিম এক প্লাটুন ল্যান্সার সৈন্য নিয়ে আক্রমন করলেন শেখ সেরনিয়াবাতের বাসায়, হত্যা করলেন, শেখ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধু, পাঁচ বছরের নাতি, দুই নাতনী, তাঁর ছোট্ট ছেলে, ভাতিজা, আয়া, কাজের ছেলে, চারজন অতিথিসহ সবাইকে। তাঁর বড় ছেলে হাসনাত ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। অথচ কি বিস্ময়ের বিষয় একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ডালিম, যুদ্ধ ক্ষেত্রে আহত হয়েছিলেন। তিনিই রেডিওতে ঘোষণা দিলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিষয়টি।

রিসালদার মোসলেম উদ্দিন আক্রমন করলেন শেখ মনির বাসায়। হত্যা করলে, শেখ মনি এবং তাঁর অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে। মেজর ফারুকের বিশস্থ রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, খন্দকার মোশতাক এবং মেজর রশীদের নির্দেশে জেলের মধ্যে হত্যা করেন তাজউদ্দিন, সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানকে ৩ নভেম্বর ৭৫ সালে। ঘটনা প্রবাহ থেমে নেই।

মেজর শাহরিয়ার রেডিও স্টেশন, বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ মার্কেট এবং বিডিআর আক্রমন মোকাবেলা করবার জন্য দায়িত্ব নিয়ে প্রস্তুুত। কিন্তু না, এখানেও কোন প্রতি আক্রমন গড়ে উঠলো না।

সবশেষ! এবার নাট্যমঞ্চে আরো কিছু নটরাজদের কর্মকান্ড, গতি বিধি লক্ষ্য করবার মতো অবিশাস্য বিষয় রয়ে গেল। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবার বারো ঘন্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীসভা, প্রশাসন দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহম্মদ, তার সেক্রেটারী মাহাবুবুল আলম চাষী, ডিফেন্স উপদেষ্টা জেনারেল ওসমানী, চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান, সেনাবাহিনীর নতুন চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ১৬ অক্টোবর বিমান বাহিনী প্রধান এ.কে. খন্দকার কে সরিয়ে জার্মানী থেকে এম.জি. তোয়াবকে ডেকে এনে এয়ার চীফ বানানো হয়। ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় সফদারকে। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার ক’জন বাদে সবাই খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী সভায় স্থান করে নেন। নতুন রাষ্ট্রপতির সহযোগিতায় কাগজ-পত্র তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর। মাওলানা ভাসানী নতুন সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন পাঠিয়েছেন। ৮৩ দিনের শাসন আমল। অল্প ক’দিন পরেই শুরু হবে রাজনৈতিক গতি প্রকৃতির নতুন এক র্ঘূণি। আবার উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গের চরিত্রে ফুঁটে উঠবে অন্য এক আবহ, রূপ, রং। চরিত্রের রহস্যময় আর্বিভাব হবে। না পাওয়ার বেদনা থেকেই জন্ম নেবে ক্ষোভ। খালেদ মোশাররফ এবং শাফায়াত জামিল তৈরি করবেন নতুন নাটক, মঞ্চ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করবেন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়া, আরো এক উপন্যাস তৈরি করে হবেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট! সত্যিই সেলুকাস! কি বিচিত্র এ দেশ! ব্যক্তিগত লাভ এবং লোভের মধ্যে আড়াল থেকে হাসছেন নতুন আরেক নটরাজ, দূর্বলতাকেই শক্তিতে পরিনত করে বসবেন বাংলার মসনদে। রাজত্ব চালাবেন দীর্ঘ বছর….। অত:পর

মনে প্রশ্ন জাগে, মেজর ডালিম সেনা হেড কোয়ার্টার থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর সেনা প্রধান শফিউল্লাহকে ধরে নিয়ে যান রেডিও ষ্টেশনে। অথর্ব সেনাপ্রধান কোন এ্যাকশন নিতে পারলেন না? রক্ষীবাহিনীর চীফ ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামান কোথায় ছিলেন? মুজিব বাহিনী, পুলিশ, বিডিআর অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা, নৌ, বিমান বাহিনী কেউ-ই এগিয়ে আসলেন না কেন? গোয়েন্দা অফিসার কর্নেল সালাউদ্দিন মারফত সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ এবং ডিজিএফআই ব্রিগেডিয়ার রউফ বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমনের সংবাদ পাওয়ার পরও কেন নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন? তিন বাহিনী প্রধান ৪৬ বিগ্রেড শাফায়াত জামিলের অফিসে বসে মিটিং করলেন কিন্তুু শাফায়াত জামিল আসেন নি কেন? এরপর সকাল ১১.৩০মিঃ, ১৫ আগষ্ট, নতুন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাকের প্রতি তিন বাহিনী প্রধান আনুগত্য ঘোষণা করলেন কেন? জিয়া, খালেদ, শাফায়াত রহস্যজনক ভূমিকার কারন কি ছিলো? আরো নানা প্রশ্ন থেকে যায়।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পরে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে উঠলো না। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেন। নানান ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে কর্ণেল লতিফের নেতৃত্বে দুই ব্যাটালিয়ন সৈন্য পাঠিয়ে তাঁর প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আটকে দিলেন। অবশেষে দীর্ঘ বছর তাঁকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হলো। সারা বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা এক হাওয়ায় কোথায় হারিয়ে গেলো! দু’এক জায়গায় প্রতিবাদের চেষ্টা হয়েছিলো কিন্তু সংগঠিত হতে পারে নি। যা অবশ্যই সাংগঠনিক দূর্বলতার নামান্তর। সংগঠিত হ’তে না পারার ব্যর্থতা।

bang52.jpg

দেশের সকল মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কর্নার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার অধিদপ্তর থেকে সব মাদ্রাসায় এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রশাসন মো. সাইফুল ইসলামের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় সকল দপ্তর/সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কর্নার স্থাপনে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কর্নার স্থাপন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। সে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সব মাদরাসায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কর্নার স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

pm-hasina-20191018170436.jpg

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়ত দেশের জন্য অনেক কিছু করত। মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়সে কেমন হতো দেখতে তাকে? বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত চোখে থেমে যান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। ঠিক যেই মুহূর্তে রাসেল জন্মায় তখন আব্বা খুব ব্যস্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী। তিনি সেই নির্বাচনে প্রচারণার কাজে চট্টগ্রামে ছিলেন। অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। রাসেলের জন্ম হওয়ার পর আমরা তাকে খবর দেই।

তিনি বলেন, আমরা চার ভাই-বোন উদ্বিগ্ন হয়ে বসে ছিলাম এই ছোট্ট শিশুটির জন্ম মুহূর্তটা এবং তারপর তাকে কোলে নেয়া। তাকে লালন-পালন করা তার পাশে থাকে। জাতির জনক ৬৭ সালে যখন কারাগারে গেলেন রাসেলের বয়স তখন ২ বছরও হয়নি। তখনই সে বাবার স্নেহ বঞ্চিত হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারাগারে যেতাম আব্বার সঙ্গে দেখা করতে। রাসেল কিছুতেই আসতে চাইতো না। সে বাবাকে ছাড়া আসবে না। বাবাকে নিয়ে ঘরে ফিরবে। সেই সময় আমার বাবা বলতে বাধ্য হলেন, এটা আমার বাড়ি। আমি আমার বাড়িতে থাকি। তুমি তোমার মায়ের বাড়িতে যাও। তখনও সে ভালো করে কথাও বলতে পারে না। তারপরে সে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করত। তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে আসতে হতো।

তিনি বলেন, যে দিন আমরা জেলখানায় দেখা করতে যেতাম সেই দিন সে খুব অস্থির থাকত। ঘুমাতে চাইতো না, খেতে চাইতো না। অনেক সময় মধ্য রাতে উঠে বসে থাকতো, আমাদের সবাইকে ডাকতো। আমরা সব ভাই-বোন গিয়ে তার কাছে বসতাম। সে কিছু বলতে পারছে না। সে তার মনের ব্যথাটা জানাতে পারছে না। কিন্তু তার বেদনাটা আমরা বুঝতে পারতাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবেই সে বড় হয়ে ওঠে। বাবাকে বাবা বলে ডাকা শুরু করে। কিন্তু আব্বা, আব্বা বলে যে ডাকবে। অনেক সময় আমার মাকে যখন সে আব্বা বলে ডাকতো, তখন বলতেন আমি তোমার আব্বা। আমাকে আব্বা বলে ডাকো। কারাগারে গিয়ে একবার সে আব্বার মুখের দিকে তাকাতো, আব্বা বলে ডাকতো। আবার মায়ের দিকে তাকাতো। তখন মা বলেছিলেন, ও যেহেতু আব্বা আব্বা বলে কান্নাকাটি করে তাই আমি বলেছি আমাকেই আব্বা ডাকতে।

তিনি বলেন, সেই জন্যই সে জেলখানায় গিয়ে একবার বাবার দিকে তাকায়, আরেকবার মায়ের দিকে তাকায়। একটা ছোট্ট শিশু পিতার স্নেহ বঞ্চিত। আমরা তো বঞ্চিত ছিলামই। কিন্তু এই ছোট বাচ্চাটাও।

একাত্তরের যুদ্ধচলাকালীন সময়ের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসাই কাউকে কিছু বলতো না। তার চোখে সব সময় পানি। যদি কখনো বলতাম তোমার চোখে পানি কেন? বলতো চোখে কী যেন পড়েছে। ওই টুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখতো আমার ভাবতেও অবাক লাগে।

তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই কামাল সে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিল। জামাল বন্দি খানা থেকে বের হয়ে সেও মুক্তিযুদ্ধে চলে গেছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যখন আক্রমণ হতো, বিশেষ করে যখন এয়ার রেইড হতো। রাসেল সব সময় পকেটে একটু তুলা রাখতো। নিজের কানে দিত, ছোট্ট জয়ের কানে দিয়ে দিত। যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোনো ক্ষতি না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাসেল সব সময় খুব খেয়াল রাখতো জয়ের প্রতি। স্বাধীনতার পর আব্বা যখন ফিরে আসলো। আপনারা দেখবেন সব সময় আব্বার পাশে রাসেল। রাসেল যেন আব্বাকে ছাড়তে চাইতো না।

তিনি বলেন, রাসেলের খুব সখ ছিল সে বড় হয়ে আর্মি অফিসার হবে। সেই ভাবে সে কিন্তু নিজেকেও তৈরি করতো। ছোট ছোট গরিব শিশুদের প্রতি তার দরদ ছিল। যখন গ্রামে যেত তখন অনেক শিশুদের জড়ো করতো। সে কাঠের বন্দুক বানাতো। এই শিশুদের জন্য মাকে বলতো যে কাপড়-চোপড় কিনে দিতে হবে। মা ঠিকই কাপড়-চোপড় কিনে দিতো।

শেখ হাসিনা বলেন, ওদেরকে নিয়ে সে প্যারেড করাতো। প্যারেড করানো শেষে তাদের খাবার দাবার দিত। আর সবাইকে ছোট ছোট এক টাকার নোটের বান্ডিল থেকে একটা করে টাকা দিত। এটা সে করবেই।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের ছয় বছর পর যখন দেশে আসি, যখন টুঙ্গিপাড়া যাই সেখানে একটা আলমারি ছিল। সেই আলমারির ভেতরে দেখি অনেকগুলো ছোট ছোট শিশুদের জামা তখনও পড়ে আছে। আমি জানতাম যে এইগুলো রাসেল ওই গ্রামের গরিব শিশুদের মাঝে বিতরণ করতো। তাদের আর্থিক সহায়তা দিত।

শেখ হাসিনা বলেন, তার ভেতরে এই যে একটা দরদি মন ছিল। হয়তো বেঁচে থাকলে এই দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারতো। আজকে মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়স পূর্ণ করেছে। এ বয়সে রাসেল কেমন হতো দেখতে? বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত চোখে থেমে যান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমি তার বড় বোন আমি কোলে পিঠে করেই তাকে আসলে মানুষ করেছি সব সময়। আমাদের অতি আদরের ছিল সে। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকেও বাঁচতে দেয়নি।

narail-korbani-20190813213917.jpg

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির নামে গরু কোরবানি করে আসছেন যুবলীগ নেতা কাজী ছরোয়ার হোসেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজও (মঙ্গলবার) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির নামে গরু কোরবানি করেন তিনি।

জানা গেছে, নড়াইলের নড়াগাতি থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগুডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী লোকমান হোসেনের ছেলে কাজী ছরোয়ার হোসেন। ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শকে বুকে লালন করে ছাত্রলীগের রাজনীতি হাতেখড়ি তার। বর্তমানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তিনি।

কাজী ছরোয়ার হোসেন বলেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির নামে গরু কোরবানি করে আসছি। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা থেকে আমি এ কাজ করে আসছি।

bangabandhu43.jpg

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করতে ভারতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

সেখানে তারা চলচ্চিত্রটি নিয়ে দেশটির দূরদর্শন টিভি, অল ইন্ডিয়া রেডিওর কর্মকর্তা ও নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া নির্মাণ খরচও চূড়ান্ত করবে দলটি।

প্রতিনিধি দলের অপর চার সদস্য হলেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বিএফডিসির পরিচালক (প্রডাকশন) নুজহাত ইয়াসমিন, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র বিভাগ) প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ডকুফিল্ম ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’-এর নির্মাতা রেজাউর রহমান খান পিকলু।

রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকা থেকে দিল্লী গেছেন।

সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, এবার চলচ্চিত্রটির বাজেট ও অনুপাত নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশে থেকে কী কী সুবিধা ও খরচ করা হবে তা ঠিক করা হবে। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় টেলিভিশন দূরদর্শন ও অল ইন্ডিয়া রেডিওর সঙ্গে বেশ কয়েকটি আলোচনা হবে। সবকিছু শেষে আগামী ৯ এপ্রিল প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।

এর আগে, ভারত-বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করতে গত ১ এপ্রিল ঢাকায় আসেন ছবিটির পরিচালক ভারতীয় নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।

তিনি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এ একটি বৈঠকেও অংশ নেন। সাক্ষাত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও। ঘুরে দেখেন গাজীপুরের শফিপুরে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি।

এর আগে ২০১৭ সালে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধুর ওপর চলচ্চিত্র ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করে। বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটি তার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ সালের ১৭ মার্চের মধ্যে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

43y7.jpg

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় শিল্পী বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।

বুধবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে কে অভিনয় করবেন- এ প্রশ্নের জবাবে শ্যাম বেনেগাল বলেন, এখনও এ বিষয়ে কোনো ধারণা আমার নেই। এটা নিয়ে প্রথমবার আমার বাংলাদেশে আসা। মূল বিষয় হচ্ছে, তার (বঙ্গবন্ধুর) মতো, চরিত্র হবে বাংলাদেশ থেকে। তিনি অবশ্যই তার মতো যুৎসই হবেন, অভিনয় করার জন্য। এটা অবশ্যই কঠিন কাজ। আমাদের সেই ব্যক্তি প্রয়োজন যিনি উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হবেন, তার বাচনভঙ্গিও হবে তার মতো। এটা নির্ধারণ করা খুব সহজ বিষয় নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত। এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিহাসের প্রতি সৎ থাকা বড় একটি বিষয়। আমি সেটাই করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এটা হবে একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র, এর মধ্যে আরও অনেক কিছু আসবে- এটি একটি জাতির জন্মের কথা বলবে, এর একটি মহাকাব্যিক দিকও থাকবে। যিনি একটা দেশের বিজয় নিয়ে এসেছেন। এছাড়া গ্রিক থিয়েটারের মতো ব্যক্তিক ট্রাজেডিও থাকবে। কাজটা সঠিকভাবে করা বেশ কঠিন। কিন্তু আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।

ভারতীয় পরিচালক বলেন, যৌথ প্রযোজনার হলেও সিনেমার পুরো চিত্রায়ন হবে বাংলাদেশে। আমি আশা করি দু’দেশের সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করবেন।

শ্যাম বেনেগাল বলেন, আমরা সবাই আশা করি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শেষ নাগাদ ও ২০২১ সালের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তির মধ্যেই সিনেমাটির নির্মাণ শেষ হবে। সিনেমার মূল ভার্সন হবে বাংলায়। এছাড়াও অন্য সাবটাইটেল থাকবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য শ্যাম বেনেগাল ঢাকায় আসেন গত ১ মার্চ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।

tipo-munshi-bg-20190324232658.jpg

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন কিন্তু এর সুফল দেখতে পাননি। ফলে তার স্বপ্নও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তাই তার কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধারণ করে নিজের ঘুম হারাম করেছেন।’

রোববার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন ও মহান স্বাধীনতা দিবস-২০১৯ এর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। তিনি দলকে সংগঠিত করেছেন। এখন বঙ্গবন্ধুর দেখা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধারণ করে নিজের ঘুম হারাম করেছেন। ৭২ বছর বয়সেও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করছেন।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘একজন মানুষ (বঙ্গবন্ধু) স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তার সুফল পাওয়ার আগেই চলে গেছেন। সেই সুফল দেয়ার জন্যই কাজ করছেন শেখ হাসিনা।’ তাই বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও জঙ্গিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সব ধরনের সহযোগিতা করতে সাংস্কৃতির কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনা ও জঙ্গিমুক্ত সমাজ গড়তে দেশব্যাপী সাংস্কৃতি চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য আগামীতে প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি স্কুলে সাংস্কৃতি চর্চার জন্য শিক্ষক দেয়া হবে।’ সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করেছে বলেনও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরামের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ হিল বারী প্রমুখ।

bangar.jpg

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস আগামীকাল ১৭ মার্চ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগামীকাল বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস উদযাপন করবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে ১৮ মার্চ সোমবার আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এদিন বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াও প্রতিবারের মত এবারও বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সকাল দশটায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন। পরে তারা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নিবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা ব্রান্ডিং এর লোগোর রেপ্লিকা উপহার হিসেবে গ্রহণ করবেন।

এছাড়াও ‘বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, বঙ্গবন্ধুকে লেখা শ্রেষ্ঠ চিঠি পাঠ, সেলাই মেশিন বিতরণ, ‘আমার কথা শোন’-শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন, জাতীয় শিশু দিবসের আলোচনা সভায় যোগদান ও প্রধান অতিথির ভাষণ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী ।

কাব্য নৃত্যগীতি আলেখ্যানুষ্ঠান উপভোগ, শিশুদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ এবং বই মেলা উদ্বোধন ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু কিশোর দিবস উপলক্ষে আগামীকাল সব সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বহির্বিভাগে সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

এদিন সকল হাসপাতালে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হবে। শিশু ওয়ার্ডগুলোকে সুসজ্জিত করা হবে। বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিও দোয়া মাহফিল।

এছাড়াও এ উপলক্ষে এ দিন বিএসএমএমইউ-এর বহির্বিভাগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রোববার সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন,উপজেলা ও জেলায় কুরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক মিশনের ৪৬৩টি মক্তবে এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার সারাদিন ধরেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের রেকর্ড বাজানো হবে। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে সারাদেশে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।

তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যূত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন।

তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

অন্যদিকে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে (৬ মার্চ) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহু আকাঙ্খিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম।

সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন।

বিবিসি’র এক জরীপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী নির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।

বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেয়া হয়। বিদেশী ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেন।

বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তী কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখেনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি।’ ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোট-নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ক্যাস্ট্রোর সাক্ষাত ঘটে।

শ্রীলংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।’

kamal-salim-20190310220012.jpg

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে সুযোগ সন্ধানী আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ড. কামাল যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না -তা কীভাবে বলা যায়? প্রশ্ন তুলেছেন।

শেখ সেলিম বলেন, কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জার্মিনীতে ছিলেন। লন্ডনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রেস কনফারেন্স করে নিন্দা করার জন্য বলেছিলেন। উনি প্রেস কনফারেন্স করেন নাই। আমার কাছে ছবি আছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর কামাল হোসেন আর কর্নেল হুদা এক অনুষ্ঠানে বসে সামনাসামনি বসে পানীয় জাতীয় কী যেন খাচ্ছিলেন। উনি (ড. কামাল) যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, কীভাবে বলা যায়?

তিনি আরও বলেন, তিনি (ড. কামাল) এখন খুব গণতন্ত্র বলে চিৎকার করছেন। অথচ উনি ১/১১ সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি সংশোধনী এনেছিলেন যে, অনির্বাচিত সরকার দুই বছর থাকতে পারবে।

রোববার (১০ মার্চ) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য শেখ সেলিম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খুনি মোস্তাক আর জিয়া বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে আমাদের স্বাধীনতাকে হত্যা করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করেছে, আমাদের সমস্ত কিছুকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি (জিয়া) স্বাধীনতা বিরোধীদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। জিয়া পাকিস্তানি আনুগত্যে একটি রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নিশ্চিহ্ন করার জন্য তিনি একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ড. কামালের সমালোচনা করে শেখ সেলিম বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে জেলে গেছেন, তার জন্য তিনি (ড. কামাল) কান্না শুরু করছেন। তার (খালেদা জিয়া) মুক্তি দিতে হবে। একজন আইনজীবী হয়ে উচ্চ আদালতের শাস্তি পাওয়া আসামির মুক্তি চান, চোরকে মুক্তি দিতে হবে?

ড. কামালকে ভাড়াটিয়া নেতা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার এতিমের টাকা খেয়ে জেলে আর তারেক রহমান দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তারা (বিএনপি) নেতা খুঁজছেন। তারা পরিত্যক্ত নেতা পাইছেন। যে নেতা বঙ্গব্ন্ধুর সময় একবার জিতেছিল। তাছাড়া জীবনে আর কোনো দিন জিতেননি। সেটাও বঙ্গবন্ধু ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কামাল হোসেন বিএনপিকে নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে আসেন। তারা নির্বাচন বানচাল করার জন্য এসেছিল, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এসেছিল। তারা নির্বাচন করার জন্য আসেন নাই। তারেক জিয়া লন্ডনে বসে মিটিং করেছে। নির্বাচন বানচার করার জন্য এবং আরও অঘটন ঘটানোর জন্য।

শেখ সেলিম বলেন, কূটনৈতিকদের কাছে ছোটাছুটি আরম্ভ করেছে। নির্বাচন হবে আমাদের এখানে, নমিনেশন দিচ্ছে লন্ডন থেকে। সেখানে বাণিজ্য হচ্ছে, তারেকের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে। নির্বাচনে ইইউ’র কাছে, জাতিসংঘের কাছে ধর্না দিচ্ছে, লবিস্ট করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তারেক জিয়া সন্ত্রাসী, লন্ডনে গিয়ে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছে। অবিলম্বে তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।