বাংলাদেশ Archives - Page 2 of 6 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

illish.jpg

ইলিশ আহরণে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উত্পাদিত হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২১ হাজার টন বেশি। মত্স্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ইলিশ উত্পাদনে বিশ্বে প্রথম। দেশে ইলিশ উত্পাদনের এই রেকর্ড বিশ্বে প্রথম স্থানকে আরো সুসংহত করল। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১০ বছরে দেশে ইলিশ উত্পাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গত ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উত্পাদন ছিল মাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার টন। এবার তা ৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সুরক্ষিত হওয়ায় এবং জাটকা ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখার কারণে ইলিশের উত্পাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মা ইলিশ ও জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করায় মাঠপর্যায়ে এর সুফল পাওয়া গেছে। এর ফলে ইলিশ উত্পাদন ৫ লাখ ১৭ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মোট মত্স্য উত্পাদনের ১২ শতাংশ ইলিশ। এছাড়া বর্তমানে দেশের জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ অবদান রাখছে এই জাতীয় মাছটি।

বিএফআরআই-এর তথ্য মতে, ইলিশ মাছ সারা বছরই কমবেশি ডিম ছাড়ে। তবে প্রধান প্রজনন মৌসুম হচ্ছে আশ্বিন (অক্টোবর) মাস। প্রাথমিক গবেষণার ভিত্তিতে ইতিপূর্বে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে ও পরের ১০ থেকে ১৫ দিন মা ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা হলেও ২০১৬ সালে তা ২২ দিন করা হয়েছে- যা ইলিশ উত্পাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। বিএফআরআই-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ দিন মা ইলিশ সুরক্ষিত হওয়ায় ডিম দেওয়া ইলিশের হার ছিল ৪৬.৪৭ শতাংশ – যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ৪৭.৭৪ শতাংশ। এতে করে ২০১৭-১৮ আর্থিক সালে ৩৬ হাজার কোটি জাটকা ইলিশ পরিবারের সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। ওই সময়ে ইলিশ মাছ ডিম দিয়েছে ৭ লাখ ২৮ হাজার কেজি। অথচ ২০০৮-০৯ সালে যখন ১১ দিন মা ইলিশ আহরণ বন্ধ ছিল তখন ডিম দেওয়া ইলিশের হার ছিল মাত্র ১৭.৬২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরই হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। অক্টোবর অর্থাত্ আশ্বিন মাসের প্রথম পূর্ণিমার ভরা চাঁদে ইলিশ প্রধানত ডিম ছাড়ে। এজন্য চলতি বছরে আশ্বিনের বড় পূণির্মার দিনসহ পূর্বের ১৭ দিন এবং পরের ৪ দিন (১৭+১+৪) ইলিশ আহরণ, বিতরণ, বিপণন, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর সুফলও মিলেছে ইলিশের মোট উত্পাদনে। দেশে ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধির পিছনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে বলে গবেষকরা মনে করছেন। বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরে বরিশাল সদর, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৮২ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে অধিক পরিমাণে জাটকা সুরক্ষিত হওয়ায় চলতি অর্থবছরে ইলিশের উত্পাদন আরো বাড়বে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর মোট ১১টি দেশে বর্তমানে ইলিশ পাওয়া যায়। দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাদেশ আহরণ করে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিয়ানমার (২০-২৫ শতাংশ) এবং ৩য় অবস্থানে ভারত (১০-১৫ শতাংশ)। ইলিশ উত্পাদনকারী অন্যান্য দেশও বর্তমানে বাংলাদেশকে ইলিশ উত্পাদনের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০১৬ সালে ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইলিশের স্বত্ব এখন শুধুই বাংলাদেশের।

উল্লেখ্য যে, মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য অধিদফতর।

ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ,, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ আদেশ অমান্য করলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে মৎস্য অধিদফতর।

মূলত এ মৌসুমে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সাগর থেকে স্রোতযুক্ত মিঠাপানিতে এসে ডিম ছাড়ে বলে জানান মৎস্য গবেষকরা।

তবে মাছ বেশি ধরা পড়লেও বরফ-সংকটের কারণে তা সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। যার প্রভাব পড়েছে মাছের বাজারে। সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

amirat.jpg

বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন আরব আমিরাতের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ মুহম্মদ সাইয়েদ হামেদ আলমেহেরি। দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য উভয়পক্ষ ঐক্যমত পোষণ করেছে।

মঙ্গলবার ( ২২ জানুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ মুহম্মদ সাইয়েদ হামেদ আলমেহেরি।

এ সময় আলমেহেরি ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে অভিনন্দন জানান। তারা দু’জনেই বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে মানবসম্পদ রফতানি, ব্যবসা বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান, সামরিকসহ বিভিন্নখাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

rabbg.gif

ভাস্কর মৃণাল হক ফাইবার গ্লাস দিয়ে এই ভাস্কর্যগুলো তৈরি করেছেন

লন্ডনের মাদাম তুসো বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ভ্রমণস্থান। এবার মাদাম তুসো জাদুঘরের অভিজ্ঞতা আপনি অর্জন করতে পারবেন ঢাকাতে বসেই। মাদাম তুসো জাদুঘরের মতো আপনি যদি আপনার প্রিয় তারকাকে দেখতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে গুলশান ১-এর সেলিব্রেটি গ্যালারিতে। সেলিব্রেটি গ্যালারিতে বিগত ও বর্তমান সময়ের বিশ্বের নামীদামী ৩২ জন তারকার ভাস্কর্য্য দেখার সুযোগ মিলবে আপনার।

ভাস্কর্য্য নির্মাণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিসম্পন্ন ভাস্কর মৃণাল হক ফাইবার গ্লাস দিয়ে এই ভাস্কর্যগুলো তৈরি করেছেন।

ভাস্কর মৃণাল হক বলেন, “এই গ্যালারিতে মোট ৪০ টি ভাস্কর্য্যের প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এখনও পর্যন্ত আগত দর্শকদের কাছ থেকে বেশ ভাল সাড়া পেয়েছি। প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের মাঝে বেশ আলোড়ন তুলেছে সেলিব্রেটি গ্যালারি”।

“তবে প্রচারণার অভাবে এই গ্যালারি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ এখনও জানেনা”, যোগ করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে আসা এক দর্শক বলেন, “এখানে এসে আমরা বিশ্বখ্যাত তারকাদের ভাস্কর্য্য দেখার সুযোগ পাচ্ছি। ভাস্কর্য্যগুলো দারুণ! এটা অনেকটা লন্ডনের মাদাম তুসোর মতো”।

রাজধানীর গুলশান ১-এর ২ নম্বর রোডের একটি বাড়ির নীচতলায় প্রায় ১২ কাঠা জায়গার উপর গড়ে উঠেছে সেলেব্রেটি গ্যালারি। গত বছর ডিসেম্বরের ৭ তারিখে গ্যালারিটি তার যাত্রা শুরু করে।

গ্যালারিটিতে যে সব বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য্য রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মাদার তেরেসা, বিপ্লবী চে গুয়েভারা, কিং অব পপ মাইকেন জ্যাকসন, বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু, বিশ্বখ্যাত বৃটিশ অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন, ফুটবলের মহাতারকা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানের ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো, বলিউড তারকা শাহরুখ খান, প্রিন্সেস ডায়ানা, অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন, জ্যামাইকান র‍্যেগ্যে কালচারের জনক বব মারলে, জনপ্রিয় চরিত্র স্পাইডারম্যানসহ আরো অনেকে।

প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে গ্যালারিটি। তবে, প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে টিকেট চালু করার ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাই এখন বিনামূল্যেই নিজের প্রিয় তারকার ভাস্কর্য্য দেখা যাবে সেলেব্রেটি গ্যালারিতে।

ship_home.jpg

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) তাদের বহরে আরও ২৬টি জাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার চীন থেকে ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের সরকারি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোও আনা হবে।

রোববার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিএসসি’র পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বিএসসি’র চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিক, বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. সাইফুল আলম হামিদী, বিএসসি’র নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) মোহাম্মদ ইউসুফ ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুর কুদ্দুস।

পরে সাংবাদিকদের জানানো হয়, চীন থেকে ইতোমধ্যে ছয়টি জাহাজ বাংলাদেশ কিনেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ এসেছে, বাকি তিনটি আসবে ফেব্রুয়ারিতে।

ছয়টির মধ্যে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। বাকি তিনটি অয়েল ট্যাঙ্কার, ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার মেট্রিক টন।

নতুন করে যে ছয়টি জাহাজ কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, দুটি মাদার ট্যাঙ্কার, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন, দুটি ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার প্রডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার ও দুটি ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ার।

rohingggg.jpg

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের জন্য ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বুধবার বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে অভিনন্দন জানানো জন্য ফোন করলে তিনি এ সমর্থন চান। খবর ইউএনবি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, ফোনে আলাপকালে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আরও বৃদ্ধি পাবে।

eub.jpg

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনেসা তিরিঙ্ক এ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে এক বৈঠকে রেনেসা তিরিঙ্ক এ প্রতিশ্রুতি দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন ঢাকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনেসা তিরিঙ্ক। এসময় রাষ্ট্রদূত রেনেসা তিরিঙ্ক ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে অভিনন্দন জানান। দু’জনেই বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনেসা তিরিঙ্ক বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

hoeeg.jpg

মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’ এবং রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন ‘আরসা’ নিয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতির কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট অফিসের মুখপাত্রের বরাদ দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকার জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিদ্রোহী জঙ্গি গোষ্ঠী আরসার দুইটি ঘাঁটি ও আরাকান আর্মির তিনটি ঘাঁটি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মিয়ানমার। দেশটির এমন মন্তব্যে বাংলাদেশ আহত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোসহ এমন মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

মিয়ানমার সরকারকে দেওয়া প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশে আরাকান আর্মি কিংবা আরসার কোনো ঘাঁটি নেই। মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র আরাকান আর্মি ও আরসা নিয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছে তা মিথ্যা ও মনগড়া।

সন্ত্রাস ও চরমপন্থা নির্মূলে বাংলাদেশ বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ভেতরে বিদেশি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশ বিদেশি কোনো সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকেও প্রশ্রয় দেয় না। বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রহরীরা সার্বক্ষণিকভাবে সীমান্তসহ সারাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার জন্যই মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিরতা বিরাজমান। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় বাংলাদেশের ওপর না চাপালেই বাংলাদেশ সন্তোষ প্রকাশ করবে।

demo.jpg

‘গণতন্ত্র সূচকে’ বাংলাদেশের ৪ ধাপ উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। ২০১৮ সালের পরিস্থিতি বিচার করে পাঁচটি মানদণ্ডে বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ৫.৫৭ স্কোর নিয়ে এই সূচকে বাংলাদেশ ১৬৫টি দেশ ও দুটি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ৮৮তম অবস্থানে। গত বছর ৫.৪৩ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯২তম অবস্থানে।

পাঁচটি মানদণ্ডে ২০১৮ সালের পরিস্থিতি বিচার করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বুধবার (৯ জানুয়ারি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পাঁচটি মানদণ্ড হলো- নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, সমীক্ষায় ২০১৮ সালে বৈশ্বিক স্কোর হয়েছে আগের বছরের মতই ৫.৪৮। অর্থাৎ মোটা দাগে বিশ্বে গণতন্ত্রের দশায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সূচকে ৪২টি দেশের অবস্থানের অবনতি ঘটলেও ৪৮টি দেশের উন্নতি ঘটতে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, গণতন্ত্রের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ভারত (৪১) ও শ্রীলঙ্কা (৭১)।

এবারের সূচকে যেখানে ৪২টি দেশের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে, সেখানে ৪৮টি দেশ নিজেদের রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে পেরেছে। উন্নতির ছাপ পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোতেই বেশি।

কিন্তু ২০১৭ সালের চেয়ে কম মানুষ গতবছর গণতন্ত্রের সুফল পেয়েছে। কোনো না কোনো ধরনের গণতন্ত্র বিরাজ করছে এমন দেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ২০১৮ ছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৭.৭ শতাংশ। আগের বছর এই হার ৪৯.৩ শতাংশ ছিল।

নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার- এই পাঁচ মানদণ্ডে একটি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ভিত্তিক এই সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সব সূচক মিলিয়ে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

২০১৮ সালে কোনো না কোনো ধরনের গণতন্ত্র বিরাজ করছে এমন দেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৭.৭ শতাংশ।

৯.৮৭ স্কোর নিয়ে এবারও এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। শীর্ষ দশে আরও আছে আইসল্যান্ড, সুইডেন, নিউ জিল্যান্ড, ডেনমার্ক, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ড। তালিকার তলানিতে আছে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান ও সৌদি আরবকেও একই কাতারে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশকে এই প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায়. যেখানে ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ ৩৯টি দেশ রয়েছে। এসব দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৬.৭ শতাংশ বসবাস করে। ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ দেশের তালিকায় স্থান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিবেচনায় বিশ্বের ৩৫.৬ শতাংশ মানুষ এখন স্বৈরশাসনে জীবন কাটাচ্ছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিবেচনায় বিশ্বের ৩৫.৬ শতাংশ মানুষ এখন স্বৈরশাসনে জীবন কাটাচ্ছে। তালিকার তলানিতে আছে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান ও সৌদি আরবকেও একই কাতারে রাখা হয়েছে।

8hafez.jpg

বাংলাদেশের শিশু-কিশোর হাফেজ-কারিরা আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন ও কেরাত প্রতিযোগিতায় বরাবরই সুনাম অর্জন করছে । হৃদয়কাড়া সুর ও সুমধুর তেলাওয়াত নজর কাড়ছে বিশ্ববাসীর। তাদের অনন্য অবদানে প্রায়ই বিশ্বমিডিয়ায় শিরোনাম হচ্ছে ষোলো কোটি মানুষের ‘বাংলাদেশ’।

সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত আটজন হাফেজে কোরআনের কথা –

১. হাফেজ আবদুল্লাহ আল মামুন

গেল বছর (২০১৭) বিশ্বজয় করেছে হাফেজ আবদুল্লাহ আল মামুন। সৌদি আরবের ‘বাদশা আবদুল আজিজ আল সৌদ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’য় ৭৩টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে।

১১ অক্টোবর আয়োজিত ওই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৭৩টি দেশের কিশোর ও তরুণ হাফেজরা অংশ নিয়েছিল। চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। হাফেজ আবদুল্লাহ আল মামুন দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে। পুরস্কার হিসেবে পায় ক্রেস্ট এবং ১ লাখ ২০ হাজার রিয়াল।

হাফেজ মামুন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ কারি নাজমুল হাসান প্রতিষ্ঠিত ঢাকার যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার হিরাকান্দা তার গ্রামের বাড়ি। বাবার নাম মো. আবুল বাশার।

হাফেজ মামুন এর আগেও মিশরের রাজধানী কায়রোয় ৫৫টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম স্থান অর্জন করে।

২০১৬ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে।

২.হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ১০৩টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে কুমিল্লা দাউদকান্দির হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। ২০১৭ সনের ১৫ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ১০৩ প্রতিযোগীর সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে।

সুমধুর তেলাওয়াত ও মুগ্ধকর সুরে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে সেরা বিজয়ীর খেতাব অর্জন করে তরিকুল। পুরস্কার হিসেবে পায় ২ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম (প্রায় ৫৬ লাখ টাকা)। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স আহমদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুম তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

হাফেজ তরিকুল রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও গ্রামে তার জন্ম। বাবার নাম মো. আবু বকর সিদ্দিক।

তিনি অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুল শিক্ষক। সাত ভাইবোনের মধ্যে তরিকুল পঞ্চম। হিফজের পাশাপাশি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তরিকুল। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সেবামূলক কাজ ও বাবা-মাকে হজ করাতে চায় সে।

হাফেজ তরিকুল ২০১৪ সালে মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘আল কোরআনের আলো’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়, ২০১৫ সালে বাংলাভিশনে ‘পবিত্র কোরআনের আলো’ প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ, ২০১৭ সালে এনটিভিতে ‘পিএইচপি কোরআনের আলো’ প্রতিযোগিতায় পঞ্চম ও ২০১৭ সালে হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের ‘জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায়’ দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।

৩. হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি

বাহরাইনে শায়েখ জুনায়েদ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫৪টি দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের কিশোর হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি। ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। একই বছর কুয়েতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭২টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় হয় সে।

হাফেজ ত্বকির গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন ডালপা গ্রামে। ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর তার জন্ম। তার বাবা মাওলানা বদিউল আলম। পারিবারিক শিক্ষা শেষে ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর লিচু বাগান হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসায় হিফজ শুরু করে হাফেজ ত্বকি। এখানেই হিফজ শেষ করে। তারপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শুরু করে।

২০১৪ সালে বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভিতে প্রচারিত ‘পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিভার সন্ধানে’ কেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতাসহ ২০১৭ সালে হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে।

৪. হাফেজ ইয়াকুব হোসাইন তাজ

আন্তর্জাতিক কেরাত ও হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী আরেক বাংলাদেশি ক্ষুদ্র তারকার নাম হাফেজ ইয়াকুব হোসাইন তাজ। ২০১৭ সালে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল জিম টিভির কেরাত ও হিফজ রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে ২৮টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কিশোর এই হাফেজ।

হাফেজ ইয়াকুব ঢাকার তানযীমুল উম্মাহ হিফজ মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ১০ বছর বয়সি এই হাফেজের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে। তার বাবার নাম মো. হোসাইন।
হাফেজ ইয়াকুব এর আগে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পঞ্চম স্থান লাভ করেছিল। সেবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ৯৬টি দেশের প্রতিনিধি।

৫. হাফেজ নাজমুস সাকিব

আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ নামজুস সাকিব একাধিকবার বিশ্ববুকে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চাতায় নিয়ে গেছে। শুরুটা ২০১২ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশ কেরাত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। সেবার ২৭টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে নাজমুস সাকিব।

তারপর ২০১৩ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ৮৬টি দেশের প্রতিযোগীকে টপকে প্রথম স্থান অর্জন করে। ২০১৪ সালে পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ৭৩ দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। ওই বছরই ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে।

২০১৫ সালে সুদানের রাজধানী খার্তুমে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা মহাদেশ কেরাত প্রতিযোগিতায় ৬৫টি দেশের মধ্যে প্রথম হয়। একই বছর কাতারে অনুষ্ঠিত ১৮ দেশের মধ্যে প্রথম হয়।

২০১৬ সালে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছে এই হাফেজে কোরআন।

তার গ্রামের বাড়ি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানাধীন ইতাইল পল্লীতে। বাবার নাম মো. আবুল কালাম আজাদ। মা সালমা বেগম। ২৯ মার্চ ২০০১ সালে তার জন্ম। ২০০৬ সালে ময়মনসিংহের আমলাপাড়া আনোয়ারা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় তার পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়। এ মাদ্রাসা থেকেই হিফজ শেষ করে হাফেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

২০০৮ সালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সেখানে তিন বছর অধ্যয়ন করে বর্তমানে ঢাকার বারিধারা মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত।

৬. হাফেজ আবু রায়হান

বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বলকারী আরেকজন হাফেজের নাম আবু রায়হান। মার্চ ’১৮-এ কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল জিম টিভির একটি রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সে। অনূর্ধ্ব পনেরো বছর বয়সিদের নিয়ে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি কেরাত প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে।

১২ বছর বয়সি হাফেজ আবু রায়হান মাত্র আট বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। খুদে এই হাফেজ নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে অবস্থিত মুফতি আবদুল কাইয়ুম প্রতিষ্ঠিত বল্লভদী আল ইসলামিয়া একাডেমি শিক্ষার্থী।
বড় হয়ে বিশ্বব্যাপী কোরআনের আলো ছড়াতে চায় সে।

৭. হাফেজ হেলাল উদ্দীন

পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের সুনাম বয়ে এনেছে হাফেজ মুহাম্মাদ হেলাল উদ্দীন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে মক্কায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮০ দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মক্কার আমির খালেদ আল-ফয়সাল, প্রধান বক্তা ছিলেন, পবিত্র হারাম শরিফের ইমাম আবদুর রহমান আল-সুদাইস। বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের হাতে ৭৫ হাজার সৌদি রিয়াল চেক, সনদ এবং ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি।

হাফেজ মুহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন কারি নেছার আহমাদ আন নাছিরী পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদি খান উপজেলার গোবরদি বয়রাগাদী (নুরপুর) গ্রামে তার জন্ম। বাবা হাফেজ মাওলানা মো. মঈনুদ্দীন। মা আলেমা মারুফা।

৮. হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া

‘কুয়েত অ্যাওয়ার্ড’ নামে আন্তর্জাতিক কেরাত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনে কিশোর হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া। ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৫৫টি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক কেরাত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অর্জন করে।

প্রতিযোগিতাটি উদ্বোধন করেন কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমাদ আল জাবের আল সাবাহ। হাফেজ জাকারিয়া ৩০ পারা কোরআন হিফজ গ্রুপে চতুর্থ স্থান অর্জন করে ৭ হাজার কুয়েতি দিনার ও সম্মাননাপত্র লাভ করে। কুয়েতে অনুষ্ঠিত কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এটাই সর্বোচ্চ সফলতা।

এর আগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে মিশরের কায়রোয় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ৫০ হাজার পাউন্ড জিতে নেয় হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া।

একই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৮০টি দেশের প্রতিযোগীকে হারিয়ে তৃতীয় ও সুর ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান লাভ করে। এছাড়াও কাতার, জর্ডান ও মিশরের কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে জাকারিয়া।

হাফেজ জাকারিয়ার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ। তার বাবা হাফেজ মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ মানিকগঞ্জ হরিরামপুরের একটি মসজিদের ইমাম। হাফেজ জাকারিয়ার সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশন আয়োজিত হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করার মধ্য দিয়ে। সেবার দেশের বাছাইকৃত প্রায় ৩০ হাজার হাফেজের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার পায় সে।

garments.gif

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লীগ টেবিল’-এ ১৯ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লীগ টেবিল ২০১৯’-এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের ১৯৩টি অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনা করে এই র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে স্থলসীমান্ত রয়েছে দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশের। ১৬ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ম জনবহুল রাষ্ট্র।

গত এক দশক যাবত দেশটির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। চার হাজার ৬শ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয়ের বিশ্বব্যাংকের র‌্যাঙ্কিং অনুসারে এটি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদাজনিত ব্যয়, সরকারের ব্যয়, রেমিট্যান্স এবং রপ্তানির দ্বারা চালিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্থনীতির আধুনিকায়নে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিচালনার লক্ষ্যে সরকারকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়দানের কারণে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে- তাও উল্লেখ করা হয়। তৈরিপোশাক বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। ২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী দেশটির রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ তৈরিপোশাক খাত থেকে আসে। দেশটির আয়ের আরেকটি প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। এছাড়াও, বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ মানুষ কৃষিখাত সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত।