বাংলাদেশ Archives - Page 2 of 2 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

icet.jpg

বাংলাদেশ আগামী দুই (২০১৯-২০) বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ব্যুরো’র সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগ এ ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী রোম স্ট্যাচুটের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ১৭তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হয়।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য হিসেবে ২০১৯ সালের জন্য বাংলাদেশ,দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশ,দক্ষিণ কোরিয়া এবং ফিলিস্তিন ব্যুরোর প্রতিনিধিত্ব করবে।

২০১০ সালে আইসিসির সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যুরোর সদস্য হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছে। ১২৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ২১টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ‘ব্যুরো’ আইসিসির শীর্ষ পরামর্শক পর্ষদ হিসেবে পরিগণিত।

সাধারণত ব্যুরো আইসিসির বাজেট চূড়ান্তকরণ, বিচারক, প্রসিকিউটর, ডেপুটি প্রসিকিউটর নির্বাচন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এ অধিবেশনে ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত চলবে।

passport.jpg

বিশ্ব পাসপোর্ট র‌্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানে নেই বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে ৮৬তম অবস্থানে, যা গত বছর ছিল ৮৩তম। পাসপোর্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের জায়গা দখল করে নিয়েছে কাতার। গত বছর এই অবস্থানে ছিল জার্মানি। কাতারের পাসপোর্টধারীরা প্রাক-ভিসা ছাড়াই ১৬৭টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন।

ভিসামুক্ত যাতায়াত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও ভিসা আবশ্যক— এই তিনটি ক্যাটাগরি বিবেচনা করে পাসপোর্টের র‌্যাংকিং করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৪৩টি দেশে ভিসামুক্ত যাতায়াত ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পায়।

গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ৮৬তম হলেও একক পাসপোর্ট পাওয়ার র‌্যাংকে রয়েছে ১৯১তম অবস্থানে, যা গত বছর ছিল ১৯৯তম। এক্ষেত্রে ৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

japan-big-20181119125426.jpg

জাপানে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬৪ লাখ শ্রমিক সংকট দেখা দিবে বলে জানিয়েছে একটি জরিপ। চুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় এবং পারসল রিসার্চ অ্যান্ড কন্সাল্টিংয়ের যৌথ এই জরিপে উল্লেখ করা হয়,  জাপানের শ্রমবাজার স্থিতিশীল রাখতে মজুরি বৃদ্ধি, অর্থনীতি এখনকার হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন বজায় রাখতে চাইলে ২০৩০ সাল নাগাদ জাপানে শ্রমিকের দরকার হবে ৭ কোটি। তবে তারা বলছে শুধুমাত্র ৬ কোটি ৪০ লাখ শ্রমিক দেশে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৪০ লাখ শ্রমিকের ঘাটতি সেবা খাতে,  চিকিৎসা ও কল্যাণ খাতে ১৮ লাখ ৭০ হাজার এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় খাতে ৬ লাখ শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাসাহিরো আবে বলেছেন,  সরকার ও বাণিজ্য খাতকে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে দেশটির নারী ও বৃদ্ধদের দক্ষতা কাজে লাগানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করে দেখতে হবে। এদিকে গত মঙ্গলবার জাপান সরকার জানিয়েছে সেদেশের অনুমিত হিসাব অনুযায়ী, অভিবাসন আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনের আওতায় আগামী অর্থবছরে ৪৭ হাজার বিদেশি শ্রমিক জাপানে প্রবেশ করতে পারেন। মঙ্গলবার জাপানের সংসদের অধিবেশনে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন সংশ্লিষ্ট এমন একটি বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, যার আওতায় আগামী বছরের এপ্রিল থেকে আরও বেশি সংখ্যক বিদেশি কর্মীদের জাপানে প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে।

জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,  আগামী অর্থবছরে জাপানে ৬ লাখেরও বেশি শ্রমিকের ঘাটতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা মনে করেন,  যদি বিলটি পাশ হয়, তবে ওই সময়ের মধ্যে ৩৩ থেকে ৪৭ হাজার বিদেশি শ্রমিককে জাপানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে। আর ২০১৯ থেকে পরবর্তী ৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার বিদেশি শ্রমিক জাপানে প্রবেশ করতে পারেন।

গত বুধবার জাপান সরকার জানিয়েছে সংসদে নতুন বিল পাস হলে আগামী পাঁচ বছরে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি দক্ষ বিদেশি শ্রমিক ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে সেদেশে প্রবেশ করতে পারবে। সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান মতে,  ১৪টি নির্দিষ্ট শিল্পের মধ্যে শুধুমাত্র নার্সিং কেয়ার সেক্টরে সুযোগ হবে ৫০-৬০ হাজার বিদেশি শ্রমিকের। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মীর দরকার পড়বে রেস্তোরাঁ খাতে। এই খাতে ৪১ থেকে ৫৩ হাজার শ্রমিক,  কন্সট্রাকশন খাতে ৩০-৪০ হাজার এবং বিল্ডিং ক্লিনিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৮-৩৭ হাজার বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন পড়বে।

ইতোমধ্যে জাপান সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ভিসা নিষিদ্ধ করলেও শ্রমিক সংকট কাটাতে স্টুডেন্ট ভিসা এবং ইন্টার্ন ট্রেইনি ভিসার মাধ্যমে অনেককেই কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল ইন্টার্ন জাপানে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে গত বছর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আই এম জাপানের সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলামের ভাষ্য- দক্ষ জনশক্তি দিয়ে জাপানে শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশে সফররত আই অ্যাম জাপান (IM Japan)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ইয়োশিহিরো হোতা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।  তিনি বলেন,  বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি নিয়োগ করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পাবনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা সফর করছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তির দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছি। আশা করছি,  জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত জনশক্তি নিতে পারবে। এতে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শেখানোসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি এবার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার জন্য জাপান আগ্রহ দেখিয়েছে।

জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন,  জাপানের চাহিদা মূলত দক্ষ শ্রমিকের। এই চাহিদার সঙ্গে ম্যাচ করতে আমাদের একটা সমস্যা আছে। দেশটি গতবছরও একটা উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে। জাপানে বেতন,  খাওয়া এবং থাকার পরিবেশ খুবই ভালো। কিন্তু সেখানে যে ধরনের শ্রমিক দরকার সেটা অনেক সময় পাওয়া যায় না। আমাদের এককেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই বাজারে সুযোগ আছে ভালো।

সেজন্য আমাদের দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে হবে,  ভাষা শিক্ষা দিতে হবে। আমাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর (টিটিসি) মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া যায়। সরকারকে সেভাবে প্ল্যান করে আগাতে হবে। এই বাজারে আমরা সুযোগ করে নিতে পারলে অন্য বাজারেও প্রবেশ করা আমাদের জন্য সহজ হবে,- বলেন শরিফুল হাসান।

uk-20181116161807.jpg

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ২৪তম। আর স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক দিয়ে অবস্থান দশ নম্বরে। গত ছয় বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

রিপোর্টে এ তথ্য জানা গেছে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে স্বপ্নের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ক্রমেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। গত শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৯৬ তে উন্নীত হয়েছে। এ হার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির গড় হার ১ দশমিক ৫ শতাংশকে ছাড়িয়ে গেছে।

২০১৮ সালের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ বিষয়ক ‘ওপেন ডোরস রিপোর্ট’-এ এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দশ লাখের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষে তা ১০ লাখ ৯০ হাজারে ওঠে যা একটি রেকর্ড। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বছর টানা ১২ বছরের মতো বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

cwfc.jpg

উন্নতমানের হসপিটালিটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য বিখ্যাত ব্রিটিশ হসপিটালিটি স্কুলটির ঢাকাতে নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্রাঞ্চে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে হসপিটালিটির মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ওয়েলকাম স্কিলস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অফ হসপিটালিটি স্বাগত জানাচ্ছে ছাত্রদের এবং হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম খাতে পেশাজীবীদের। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে তাদের বিশেষভাবে নির্ধারিত পাঠক্রমের সাহায্যে। তারা নানা ধরণের প্রশিক্ষণ সুযোগ সুবিধাসহ একটি ক্যাম্পাস তৈরি করছে রাজধানীর ৬৩ প্রগতি সরণী, বারিধারায়।

WSISH এর সব কোর্স ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে, ইংরেজি মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক বোর্ড দ্বারা স্বীকৃত। তারা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট জাতীয় নানা ধরণের পেশায় বিশেষজ্ঞতা অর্জনের জন্যে সব ধরনের কোর্স প্রদান করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েলকাম স্কিলস ডিপ্লোমা ইন মাল্টি স্কিলড হসপিটালিটি, প্রফেশনাল কুকারি ও কাস্টমার সার্ভিস, এ ছাড়াও তারা পেশাজীবীদের জন্য নানা ধরণের এপ্রেন্টিসশীপ ও শর্ট কোর্স রেখেছে তারা তাদের পাঠসূচিতে।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকমন্ডলী সকলেই এসেছে হস্পিটালিটিতে শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণে বহু বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবং সবাই সংশ্লিট খাতে দক্ষ। হসপিটালিটি শিল্পে প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ড্র–পেনিংটন ওয়েলকাম স্কিলসের ঢাকা শাখায় প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেছেন। তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সিইওও হসপিটালিটি শিল্পে প্রখ্যাত কুলসুম হুসিন এবং প্রিন্সিপাল অ্যাসোসিয়েট ও রয়েল একাডেমি অফ কালিনারি আর্টসের সদস্য ডেভিড ফসকেট তাদের দক্ষ দলটির নেতৃত্বে আছেন।

ঢাকার বারিধারায় নির্মাণরত ওয়েলকাম স্কিলসের ক্যাম্পাসটিতে থাকছে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের সব রকম সুযোগ সুবিধা যেমন প্রশিক্ষণের জন্য হোটেলের মতো লবি ও রিসেপশন, উন্নতমানের ক্লাসরুম, হোটেল বেডরুম ও হাউসকিপিং ল্যাব, লাইভ-ট্রেনিং রেস্টুরেন্ট ও বার, প্রোডাকশন ও ট্রেনিং কিচেন ইত্যাদি। ক্যাম্পাসটিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত করা হবে।

ওয়েলকাম স্কিলস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অফ হসপিটালিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কলসুম হোসেন আন্তর্জাতিক হসপিটালিটি শিক্ষা খাতে তার অসামান্য অবদানের জন্য ক্যাটিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এ ছাড়াও ইনস্টিটিউটটি হসপিটালিটি শিল্পে তাদের প্রভাবের জন্য একাধিক পুরষ্কার এবং সম্মাননা অর্জন করেছে।

২০০৩ সালে শুরু হয়ে, ওয়েলকাম স্কিলস ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি শিল্পে একটি সুপরিচিত নাম। বাংলাদেশে উন্নতমানের হসপিটালিটি শিক্ষা দিয়ে তারা দেশের হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চায়।

foreign-student-20181107121248.jpg

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৭ সালে বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩৫টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। একই বছরে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেন। ২০১৬ সালে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। সেই হিসাবে এক বছরে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার কারণেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৩৮ জন। যার মধ্যে ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯৭৭ জন ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬১ জন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। তার মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯২৭ ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৫ জন অধ্যায়ন করেন। সে হিসাবে গত এক বছরে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আমাদের দেশে আসছে। তাই আমরা এই বিষয়টিতে অতিমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে বিদেশিরা সহজেই আমাদের দেশে পড়তে পারে।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, অন্যান্য দেশে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করছে, আমাদের বাজেট কম হওয়ায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের যতটুকু রয়েছে, ততটুকুই নিবেদন করে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমনে এক ধরনের মিথস্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার গুণগতমান পরখ করার সুযোগ আসে মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ‘সহজে যেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা সকল তথ্য-সহায়তা পায় সেজন্য ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে একটি ডেস্ক খোলা হয়েছে। নতুন করে বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও আবাসন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

ইউজিসির প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, বিশ্বের ৩৫টি দেশের শিক্ষার্থীদের পদচারণা রয়েছে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশের শিক্ষার্থীরাই প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়।

উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যেসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে সে দেশগুলো হলো কানাডা, চীন, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, মালি, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, সিয়েরালিওন, মালয়েশিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, ঘানা, জাম্বিয়া, জিবুতি, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, ইতালি এবং ইরান। বাংলাদেশের ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টিতে এসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত ছিল।

বিদেশি শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে বৈশিক যোগাযোগ, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে মাল্টিকালচার চর্চা হয়। তবে বর্তমানে যে পরিমাণে শিক্ষার্থী আসছে তা পর্যাপ্ত নয়। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এটি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’

বর্তমানে আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে বেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পার্শবর্তী দেশ নেপাল, ভুটান ও ভারত থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী আনতে হলে সেসব দেশে শিক্ষামেলা ও প্রচার-প্রচারণা বাড়ানের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের জন্য হোস্টেল সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশি শিক্ষার্থী বেশি আসলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যায়গুলো এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

গত আট বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি ও হ্রাস পেয়েছে। তার মধ্যে ২০১০ সালে ছিল ৩৫৯ জন, ২০১১ সালে ২১০, ২০১২ সালে ৫২৫, ২০১৩ সালে ৩২৬, ২০১৪ সালে ৪৩২, ২০১৫ সালে ৫৯৩, ২০১৬ সালে ৩৫৫ এবং ২০১৭ সালে ৪৬১ জন। সেই হিসাবে তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যা বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের চাইতে ২০১৭ সালে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম, তুলনামূলক কম শিক্ষা খরচ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সহজতর ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে যতজন এসেছে তার চাইতে ১০ গুণ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে আমাদের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিকীকরণ করছে। বিদেশ থেকে যাতে শিক্ষার্থী পড়তে আসে, এজন্য নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষার্থী টানতে প্রতিবছর এসব দেশ থেকে প্রতিনিধি এসে উচ্চশিক্ষা ফেয়ার করছে। শুধু মালায়েশিয়ায় বাংলাদেশি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। তাদের কাছে বাৎসরিক এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে দেশটি। অথচ আমরা সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ছিল দেড় লাখের বেশি। এর বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১৯ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ মোট আসন সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আসন ফাঁকা থাকছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফাঁকা আসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পূরণ করা গেলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে অভিমত দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো স্থান। এটিকে যদি আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি হবে তবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ফেয়ারে অংশগ্রহণসহ প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানো সম্ভব। এতে শুধু আর্থিক লাভবান নয়, বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে আমাদের চাইতে কম খরচে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তা রেখে কেন আমাদের দেশে আসবে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের কোনো উদ্যোগ ছাড়াই বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ছে। তাই এটিকে ধরে রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

yudvabone-20180917224052.jpg

এশিয়ার উদ্ভাবনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিম্নে। আর শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। বেশিরভাগ সূচকে সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করে সিঙ্গাপুর এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটি গত বছরের তুলনায় বৈশ্বিক তালিকার দুই ধাপ ওপরে উঠে এসেছে। বৈশ্বিক উদ্ভাবনী সূচক-২০১৮ বিশ্লেষণ করে এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক (এএনএন) এ তথ্য জানিয়েছে।

এএনএনের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে উদ্ভাবনের সূচকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান এশিয়ার সেরা উদ্ভাবনী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উদ্ভাবনের দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়া উচ্চআয়ের দেশগুলোর মধ্যে থেকে উদ্ভাবনে অধিক বিনিয়োগ করে এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির শুধুমাত্র বিনিয়োগই বৃদ্ধি করেনি, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মানেরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে। এরপরেই এশিয়ার তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান।

বাংলাদেশ, কাজাখস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তানসহ তালিকায় নিচের দিকে থাকা দেশগুলো ভবিষ্যতে উত্তরোত্তর উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী এক দশকে জ্বালানিক্ষেত্রে উদ্ভাবন, উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রগুলো, যেখানে সফলতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া কীভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে উদ্ভাবনের সূচনা হয় ও পর্যায়ক্রমে তার উন্নয়ন ঘটে তার বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।