বাইডেন Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Rashed-Chowdhury.jpg

দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়ে নতুন মার্কিন প্রশাসনকে আমরা বলবো।’

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রায় ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগের ফলে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী হয়ে ওঠে। এখন হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার পালাবদল হলেও যাতে চলমান আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়, বাংলাদেশ সেই অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্রকে জানাবে।

উইলিয়াম বার এ বিষয়ে একই বছরের ১৭ জুন এক অন্তর্বর্তী আদেশে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলকে রাশেদ চৌধুরীর মামলাটি পুনর্বিবেচনার নোটিশ দেন। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার লক্ষ্যে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল ওই মামলায় জড়িত বিভিন্ন পক্ষের মতামত চান। ঢাকার কর্মকর্তারা মনে করেন, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের ওই সিদ্ধান্ত এখনো বলবৎ আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার ফলে ফেরত আনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ আশা করে, এতে আইনি যে প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছে, তাতে কোনো প্রভাব পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ বিষয়টি তুলবে। একই সঙ্গে এটি দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি এখনো পালিয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে ও নুর চৌধুরী আছেন কানাডায়। বাকি তিনজন খন্দকার আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান অজানা।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি এখনো পালিয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে ও নুর চৌধুরী আছেন কানাডায়। বাকি তিনজন খন্দকার আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান অজানা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যায় রাশেদ চৌধুরী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে ২০০৪ সালে অভিবাসন বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আপিল করে। ২০০৬ সালে ওই আপিল খারিজ হয়ে যায়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। ২০১৬ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই আলোচনার কোনও অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পরে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়টি একাধিকবার বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। ২০২০ এর জুনে তৎকালিন অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।

biden-usa.jpg

বিদায়ী ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শের তেমন তোয়োক্কা না করলেও করোনার ব্যাপারে বাইডেনের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। তাই তো ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্পের দেখানো পথে না হেঁটে নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বিদায়ী ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, ২৬ জানুয়ারি থেকে ব্রাজিল ও ইউরোপের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আর থাকবে না।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন এই কড়াকড়ি আরোপের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মার্কিন নাগরিকদের ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এতে করোনা ঝুঁকিতে থাকা ইউরোপের ২৬টি দেশসহ ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ডের নাগরিক মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করতে পারবে না।

এই তথ্য নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগের উপপরিচালক ড. অ্যানি সাসট জানিয়েছেন, নতুন ধরনের করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়তে থাকায় আমরা এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্ত করেছি। আমরা আশা করছি, এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনার বিস্তার রোধ করা অনেকটাই সহজ হবে।

অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা করোনার আবিষ্কৃত টিকা দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা দেওয়া করোনার নতুন ধরনের ওপর কার্যকর হবে না।

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার এই নতুন ধরনের নাম দেওয়া হয়েছে ফাইভ জিরো ওয়ান ওয়াই ডট ভি টু। এই ধরনটি বিদ্যমান করোনাভাইরাসের চেয়ে ৫০ ভাগ বেশি সংক্রমিত করার ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এটি কমপক্ষে ২০টি দেশে দেখা দিয়েছে। আর একারণে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন নতুন আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছে মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগ।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যেই এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা দেওয়া করোনার নতুন ধরনটি পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাজ্যে পাওয়া বি ডট ওয়ান ডট ওয়ান ডট সেভেন ডট ধরনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে পাওয়া গেছে। তবে এই ধরনটিকে আবিষ্কৃত টিকাতেই ঠেকানো সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বাড়তি সতর্কতায় সব বিমান, ফেরি, ট্রেন, বাস, ট্যাক্সি ও রাইড শেয়ারিং পরিবহনের যাত্রীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। শুধু খাবার খাওয়া আর পানি ও পানীয় পান করার জন্য অল্প সময়ের জন্য মাস্ক খোলা যাবে বলেও ওই কড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণকারী সব যাত্রীকে তিন দিনের মধ্যে করা করোনা নেগেটিভ সনদ রাখতে হবে।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারিতে স্বল্প পরীক্ষার ক্ষমতাসম্পন্ন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য করোনা নেগেটিভ সনদের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে যে শিথিলতার কথা বলা হয়েছিল এবার তা থাকছে না। যদিও এই ব্যাপারে রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কয়েকটি বিমান পরিবহন সংস্থা।

তবে, বিভাগটি বলছে একদম ঢালাওয়াভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখবে সংস্থাটি। বর্তমানে ১২০টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কঠোরতায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর সাত দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা হবে ফেরার পাঁচ দিনের মধ্যে।

অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে কতটা কড়াকড়ি আরোপ করা হবে তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি মার্কিন প্রশাসন বা দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই করোনা মহামারি মোকাবিলা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইতোমধ্যে করোনায় দেশটির অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।

রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বর্তমানে বেকারভাতা গ্রহণ করছে। আর প্রায় তিন কোটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এজন্য শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) বাইডেন দুটি নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন। একটি শিশুদের জন্য খাদ্য সহায়তার পরিসর বৃদ্ধি অন্যটি সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তার চেক দ্রুত ছাড় করা সম্পর্কিত।

যেসব শিশু স্কুলে সরবরাহ করা খাবারের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, সেসব শিশুর পুষ্টি চাহিদার কথা মাথায় রেখে সরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন বাইডেন। এছাড়া যেসব পরিবার বেশি দুর্দশাগ্রস্ত, তাদেরকে সরকারি আর্থিক সহায়তার চেক দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন।

বাইডেন অভিষেকের আগেই করোনা মোকাবিলায় তৃতীয় নাগরিক প্রণোদনা হিসেবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এই প্যাকেজ কংগ্রেসে নিয়ম মেনে পাস হতে সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষেরা যাতে আর সমস্যায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এ দুই নির্বাহী আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাইডেন।

নির্বাহী আদেশ দুটি সম্পর্কে হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক ব্রায়ান ডিজ বলেন, করোনা মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভীষণ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ (নির্বাহী আদেশ) প্রস্তাবিত নাগরিক প্রণোদনা আইনের কোনো বিকল্প নয়। এটি বরং লাখো মার্কিন পরিবারকে এই সময়টাতে জীবিত রাখতে করা হচ্ছে।

biden64.jpg

ক্ষমতা গ্রহণের দুদিনের মধ্যেই অন্তত ২৫টি নির্বাহী আদেশে সই করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ক্ষমতা গ্রহণের দিন তিনি ১৫টি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি আরো ১০টি নির্বাহী আদেশে সই করতে যাচ্ছেন।

তার আদেশ অনুসারে টিকা প্রদানের গতি বাড়ানো হবে এবং প্রতিদিন আরো বেশি সংখ্যক লোকের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া মাস্কের মতো জরুরি জিনিসের উৎপাদন বাড়াতে জরুরি আইন প্রয়োগ করা হবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের সিদ্ধান্তের দিকে না তাকিয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাইডেন নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক দিনের মধ্যেই।

মহামারিতে যেভাবে কাজ করা দরকার সেভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ব্যাপকভাবে সমালোচনার শিকার হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত চার লাখ ছয় হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে আর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ।

এ দিকে, প্রথম দিন বাইডেন যে সব নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তার মধ্যে ছিলো করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়া নাগরিকদের জরুরি সাহায্য প্রদান, ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও লিঙ্গ ও জাতভেদে মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

Momen.jpg

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ায় গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সেইসঙ্গে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় করোনার ভারতীয় টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে উপহার হিসেবে পাঠানো ভারতের সরকারের ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনের বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

ভ্যাকসিন হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই তাকে অভিন্দন জানিয়েছেন। আবারো তাকে অভিনন্দন জানাই আমরা।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের জন্য এটা একটা সুখবর।

biden64.jpg

শপথ নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু উল্লেখযোগ্য নীতি পাল্টে দেয়ার কাজ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শপথ নেয়ার পর হোয়াইট হাউসে যাওয়ার সময় তিনি টুইটে বলেন, ‘আমাদের সামনে যে সংকট রয়েছে সেটি সামাল দিতে অপচয় করার মতো কোন সময় নেই।’

করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১৫টি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। অন্য নির্বাহী আদেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে ঠিক উল্টে দিয়েছে। বিবিসি।

বুধবার সকালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর বাইডেন ওভাল অফিসে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। করোনাভাইরাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে শপথ অনুষ্ঠান বেশ আলাদা হয়েছে। শপথ ও অন্য অনুষ্ঠানে মাত্র হাতে গোনা কয়েক জন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের কাছে শপথ নেয়ার পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, “গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।” ট্রাম্প শাসনের অশান্ত বছরগুলোর পর একতার বার্তা দিয়ে দেয়া বক্তব্যে তিনি “সব আমেরিকানদের”- এমনকি যারা তাকে ভোট দেয়নি তাদেরও প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাহী আদেশের বর্ণনা করে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন “শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলোই সংশোধন করবেন না বরং তিনি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

গতকাল বুধবার রাতে হোয়াইট হাউসের প্রথম রাতের বাসিন্দা হিসেবে ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন টুইটবার্তায় হোয়াইট হাউসের একটি ভিডিওচিত্র প্রচার করেছেন। সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সবার চেয়ে বড় এমন কিছুর প্রতি আপনাদের বিশ্বাস স্থাপনের জন্য ধন্যবাদ। আমরা একত্রে একটি সুন্দর বিশ্ব নির্মাণ করব।’

বাইডেন প্রেসিডেন্সির আওতায় প্রথম অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তিনি কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বার্থকে প্রচার করবেন নাকি “সাদামাটা সত্য” উপস্থাপন করবেন। এর উত্তরে তিনি বলেন, “মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার” সাথে তিনি “সরকারে স্বচ্ছতা এবং সত্য ফিরিয়ে আনতে” প্রেসিডেন্টের সাথে কাজ করবেন।

biden-trudue.jpg

বিদেশি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সবার আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ফোন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিতর্কিত কিস্টোন পাইপলাইনের বিষয়ে কথা বলতে তিনি ট্রুডোকে ফোন করবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি। রয়টার্স।

হোয়াইট হাউসে সাকির প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো হবেন তার (বাইডেনের) প্রথম বৈদেশিক কল।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন নির্মাণে বাইডেনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা কথা বলবেন।

বাইডেন অফিসে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হল কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিতর্কিত পাইপলাইন নির্মাণ বন্ধের সিদ্ধান্ত। জাস্টিন ট্রুডো বাইডেনের এই পদক্ষেপকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এক বিবৃতিতে ট্রুডো বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতিকে যেমন স্বাগত জানাই, তেমনি প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তেও আমরা হতাশ। যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন সেগুলো পূরণের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে।’

‘দূষণ কমাতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়, কভিড-১৯ মোকাবিলায়, মধ্যবিত্তদের জন্য চাকরি তৈরি ও টেকসই অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আমি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে কাজ করব’, বলেন ট্রুডো। বাইডেনের আদেশের পরে পাইপলাইন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টিসি এনার্জি বুধবার তাদের চলমান নির্মাণকাজ বুধবার বন্ধ করে দেয়। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ তাদের চাকরি হারাবেন বলে জানায় তারা।

কানাডা ২০১০ সালে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৫ এই প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে ২০১৭ তে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, কানাডা সবসময় এই প্রকল্পের পক্ষে সমর্থন দিলেও পরিবেশবাদী সংস্থা ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এর তীব্র বিরোধীতা করে আসছে।

Biden67-1280x731.jpg

আলোচনা সমালোচনার মধ্যে নানা অঘটন ঘটিয়ে মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন জো বাইডেন। করোনাভাইরাস মহামারীকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার বাইবেলে হাত রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বাইডেন। সমসাময়িককালে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন সঙ্কটকালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা। বিবিসি।

তার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন কমলা হ্যারিস। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট; দেশটির প্রথম কালো এবং প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্টও তিনি। ক্যাপিটল ভবন প্রাঙ্গণে লেডি গাগার পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীতের পর শপথের মঞ্চে আসেন কমলা হ্যারিস; তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারক সোনিয়া সোটোমেয়ার। এরপর জেনিফার লোপেজের গানের পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ; শপথ নিতে দাঁড়ান বাইডেন। তাকে শপথ পড়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। শপথ নেওয়ার সময় যে বাইবেলে হাত ছিল বাইডেনের তা তার পরিবারের এবং ১২৭ বছরের পুরোনো।

শপথ নেওয়ার পর অভিষেক ভাষণে ঝঞ্ঝামুখর সময় পেরিয়ে আশার বাণী শোনান নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমেরিকার দিন, গণতন্ত্রের দিন, ইতিহাস গড়া আর প্রত্যাশার দিন, নবসূচনা আর ক্ষত নিরাময়ের দিন।’ ট্রাম্প জমানায় গড়ে ওঠা বিভেদের প্রাচীর ভেঙে ঐক্যের ডাকও দিয়েছেন বাইডেন।

সামনে এগিয়ে যেতে সবাইকে পাশেও চেয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমেরিকার নতুন ইতিহাস রচনা করব। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সব সময় আপনাদের পাশে থাকব। “আমরা অনেক দূর এগিয়েছে। আরও এগোতে চাই। আমরা এক হলে আরও ভালো কাজ করতে পারি। আমাদের অনেক ক্ষত মেরামতের প্রয়োজন আছে। অনেক কিছু গড়ার আছে।’ পাশে থাকা নতুন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, “আমার এই সফরে তোমার সঙ্গ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসা পঞ্চদশ ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন বাইডেন। যার সঙ্গে বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছিলেন, সেই বারাক ওবামাও ছিলেন অভিষেক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্টদের বিল ক্লিনটন উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে নিয়ে। অংশ নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশও। বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেড়শ বছরের মধ্যে এই প্রথম বিদায়ী প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতেই হল নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক।

নির্বাচনের ফল মানতে নারাজ ট্রাম্প আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন না। বাইডেন যখন হোয়াইট হাউজের নতুন বাসিন্দা হতে শপথের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ট্রাম্প তখন হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ছিলেন মেরিল্যান্ডে অ্যান্ড্রুস বিমান ঘাঁটিতে। সেখানেই তিনি তার বিদায়ী আয়োজন সারেন। সংক্ষিপ্ত এক ভাষণে তিনি নতুন প্রশাসনের সাফল্য কামনা করলেও একবারের জন্য বাইডনের নাম নেননি। ‘আমরা আবার ফিরে আসব’- বলে সেই ভাষণ শেষ করে স্ত্রীকে নিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচে রওনা হন ট্রাম্প।

করোনাভাইরাসে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি, মহামারীর ধাক্কায় নাজুক অর্থনীতি, ভেঙে পড়া পররাষ্ট্র নীতি আর দেশে বিভেদের যে বীজ তিনি রেখে গেছেন, তা সামাল দিতে হবে এখন ‘বুড়ো’ বাইডেনকে। মহামারীতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ রোগের সংক্রমণ এবং মৃত্যু উভয় তালিকাতেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক নম্বরে। মহামারী মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসন রেখে গেছে লেজেগোবরে এক অবস্থা।

আর ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বলে প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নামিয়ে গেছেন অনেকটাই নিচে। ফলে সেদিক সামলে ওঠাও বড় চ্যালেঞ্জ বাইডেনের সামনে। আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম টুইটে তিনি বলেছেন, তার হাতে নষ্ট করার মতো সময় একেবারে নেই।

ট্রাম্প জমানায় ডুবিয়ে দেওয়া সেই আমেরিকাকে তুলতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ১৫টি অগ্রাধিকার মূলক কাজ করতে যাচ্ছেন বাইডেন। অভিষেকের আগেই এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যে ১৫টি নির্দেশে তিনি সই করছেন, তার অন্তত ৬টিই থাকছে অভিবাসন নিয়ে।

যার মধ্যে প্রথমত, ট্রাম্প যে সাত মুসলিম প্রধান দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পথ বন্ধ করেছিলেন, সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন বাইডেন। মেক্সিকো সীমান্তের দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করবেন। দেশে অবৈধ অভিবাসীদেরকে বৈধতা দিতে একটি ইমিগ্রেশন বিলও ঘোষণা করবেন।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার কাজটিও শুরুতেই করতে চান বাইডেন। বাইডেনের প্রথম অগ্রাধিকারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলাও রয়েছে। সংক্রমণ রুখতে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলাসহ সিডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী সব স্বাস্থ্যবিধি কেন্দ্রীয় সরকারি ভবন, কর্মচারীর ক্ষেত্রে মেনে চলার নির্বাহী আদেশ দেবেন তিনি।

সব গভর্নর, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, মেয়র, ব্যবসায়িক নেতা ও অন্যান্য সবাইকে মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্য সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানও তিনি জানাবেন। কঠিন এক পরিস্থিতি যে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন, লড়াই চালিয়ে এতদূর আসা বাইডেন সেটা ভালোই উপলব্ধি করছেন। আর তাই ওয়াশিংটনে শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ডেলাওয়্যারে নিজ শহরে জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখন সময়টা অন্ধকার, কিন্তু আলো সবসময়ই আছে।”

trump52.jpg

নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জো বাইডেন। পাশাপাশি প্রথম কোনো নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কামালা হ্যারিস। চার বছরের মেয়াদ শেষে বিদায় নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাপিটল হিলের চত্বরে তাদের অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় হোয়াইট হাউস ছেড়ে ফ্লোরিডার পথে রওনা দেন ট্রাম্প।

যেতে যেতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান দেখেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই ফ্লাইটের এক যাত্রী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্প ফ্লোরিডা পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে শেষবারের মতো নামিয়ে দেয় বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান।

ঠিক ওই সময়ই বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ক্যাপিটল ভবনে পৌঁছান ট্রাম্প প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প, জামাতা জ্যারেড কুশনার, কুশনারের প্রেমিকা কিম্বার্লি গিলফয়েল, ট্রাম্পকন্যা টিফানি ও তার বাগদত্তা, ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পও। ক্ষমতা ছাড়ার পর ট্রাম্প পরিবার আপাতত কিছুদিন ফ্লোরিডার বিলাসবহুল মার-এ-ল্যাগো রিসোর্টে থাকবেন।

trump774.jpg

আর কিছুক্ষণের মধ্যে অভিষেক হচ্ছে জো বাইডেনের। এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষবারের মত হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে যাওয়ার আগে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য রেখে গেছেন একটি চিঠি। হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জো বাইডেনকে লেখা একটি চিঠি রেখে গেছেন।

এর আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন তিনি জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না।

গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল কখনোই মেনে নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতেও তিনি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ করেন নি।

এদিকে অভিষেক হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউজে যাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে অভিষেক অনুষ্ঠানটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচী, যেখানে বাইডেন এবং কামালা হ্যারিস নিজ নিজ পদের জন্য শপথ গ্রহণ করবেন।

আরো পড়ুন: জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে যা যা ঘটবে

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে এগারোটায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটা) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন আইনসভা ক্যাপিটল ভবনের প্রাঙ্গনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়া হবে। এর আধঘণ্টা পর মধ্যাহ্নের সময় জো বাইডেন এবং কামালা হ্যারিস শপথ নেবেন।

জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিসকে শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ও বিচারপতি সোনিয়া সটোমাইয়র। শপথ গ্রহণের সময় তারা বলবেন, ‘আমি বিশ্বস্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দায়িত্ব সম্পাদন করব, এবং আমি আমার সামর্থের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করবো।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেকের দিনজুড়ে থাকে জমকালো সব অনুষ্ঠান। নয়া প্রেসিডেন্টরা সবচাইতে জনপ্রিয় তারকাদের হাজির করেন এই দিন। এবারও করোনার মধ্যে তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তার সমর্থক লেডি গাগা। তিনি জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন। তার পরে মঞ্চে গান গাইবেন জেনিফার লোপেজ।

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সরাসরি অনুষ্ঠানের বদলে হবে টিভি শো। যেখানে উপস্থাপনা করবেন টম হ্যাংকস। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জন বন জোভি, ডেমি লোভ্যাটো এবং জাসটিন টিম্বারলেক। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ টিভি নেটওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলোতে সম্প্রচারিত হবে।