বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

admission-test.jpg

করোনা পরিস্থিতিতে এবার দেশের স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনের মাধ্যমে স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা চান উপাচার্যরা।

এজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির (বিডিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূরের নেতৃত্বে তৈরি করা একটি মোবাইল বেসড সফটওয়্যার প্রস্তাব করেছে উপাচার্যদের সংগঠন।

শনিবার সন্ধ্যায় উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের’ ভার্চুয়াল এক সভায় এ প্রস্তাব আসলে তাতে উপাচার্যরা সম্মত হন।

তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে।

মোবাইল বেইজড এ সফটওয়্যারটির উদ্ভাবক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, পরীক্ষার্থীদের কোন অনিয়মের আশ্রয়ের সুযোগ থাকবে না।

সফটওয়্যারটি মোবাইল বেইজড একটি অ্যাপস, এটি অফলাইন এবং অনলাইন-দুটোতেই কাজ করবে।

যখন শিক্ষার্থীরা অ্যাপসটি ওপেন করবে তখন আমরা তার মোবাইলের ক্যামরার কন্ট্রোলটা নেব এবং সাথে সাউন্ডেরও কন্ট্রোলও।

এছাড়াও তখন সে ফোনে আর কোন অ্যাপস অন করতে পারবে না এবং কোন কাজ করতে পারবে না। যতক্ষণ না আমাদের এই অ্যাপসটি অন থাকবে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা অনলাইনে থেকে যখন অ্যাপসটি অন করবে তখন আমরা তাদের লাইভ মনিটরিং করতে পারবো।

আর অফলাইনে থাকলে ছবি এবং সাউন্ড রেকর্ড করা থাকবে।

এটা পরবর্তীতে আমাদের সার্ভারে চলে আসবে। তখন আমরা বুঝতে পারবো সে নকল করেছে কিনা। এটা হচ্ছে সিম্পল কনসেপ্ট।

এই অ্যাপসের মাধ্যমে এমসিকিউ ও লিখিত টাইপ দু’ভাবে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব বলে জানান অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর।

তিনি বলেন, এমসিকিউ টাইপের পরীক্ষা হলে অ্যাপসটিতে ঠিক মার্ক দেবে।

আর লিখিত টাইপ পরীক্ষায় খাতায় লিখে তারপর ছবি তুলে অ্যাপসটিতে আপলোড করতে হবে।

আপলোড করার পর সেটি আমাদের সার্ভারে চলে আসবে।

ধরেন ৫টি খাতায় লিখছে, তখন ৫টি পেজ ছবি তুলে পাঠিয়ে দেবে। এভাবে লিখিত টাইপ পরীক্ষা নেয়া যাবে।

এদিকে, অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূরের নেতৃত্বে তৈরি করা মোবাইল বেইজড এই সফটওয়্যারটির প্রশংসা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি এবং চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, অনলাইনে পরীক্ষার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের তৈরি করা একটি সফটওয়্যার উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেক উপাচার্য তাতে ‘কনভিন্স’ হয়েছেন। তবে সরকার ও ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বৈঠকে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ নূরের উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে। এ প্রস্তাবে সবাই প্রশংসা করেছেন।

medical-admission.jpg

লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ পরীক্ষা সরাসরি কেন্দ্রে নাকি অনলাইনে হবে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম শনিবার বাংলাদেশ জার্নালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে উপাচার্যদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিন ঘণ্টাব্যাপী সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে হবে নাকি কেন্দ্রে এসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এসএসসি ও এইচএসসি রেজাল্টের নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত হবে কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আরো এক মাস সময় লাগবে।

গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, বৈঠকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কী পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

সভায় অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যলায়ের এক উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেয়ার জন্য বেশকিছু প্রস্তাব এসেছে।

এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ নূরের উদ্ভাবিত সফটওয়্যার বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি যাচাই-বাছাই করবে।

জানা যায়, এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। তবে এই সফটওয়্যারের ব্যবহার এ বছর চালু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

admission-test.jpg

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা না হলেও ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।

জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হলেও, করোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষা পেছাতে পারে।

সেক্ষেত্রে শীতের শেষে ফেব্রুয়ারি বা মার্চে পরীক্ষা নেয়া হতে পারে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি অপেক্ষা করতে না চায় তাহলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন করা হলেও স্বশরীরে পরীক্ষাটি হবে না।

এ সংক্রান্ত আলোচনার লক্ষ্যে ইউজিসি আগামী ১৫ অক্টোবর বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

সমন্বিতভাবে এ পরীক্ষা নেয়া হবে। আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

তবে স্বশরীরে পরীক্ষাটি নেয়া যাবে কি-না, সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না এখনই। পরীক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে তিনটি পদ্ধতির প্রস্তাব এসেছে।

প্রথমে গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির চিন্তা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসি বৈঠকে বসেছিল গত বছরের শেষের দিকে।

প্রথম বৈঠকে এ পদ্ধতি বাদ দিয়ে সমন্বিত এবং পরে ক্যাট পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও করা হয়। ওই কমিটিই ভর্তিতে ক্যাট পদ্ধতির প্রস্তাব করে।

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, গত ২৩ মার্চ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে একটি সভা ছিল।

করোনার কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনলাইনে সভা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার যেহেতু এইচএসসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে।

পরিস্থিতি ভালো হলে অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে, এর বিকল্প নেই।

অন্যদিকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বলেন, আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাবো।

এক্ষেত্রে তিনটি গুচ্ছ হবে। এগুলো হচ্ছে- কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

আগামী ১৫ অক্টোবর এ নিয়ে একটি বৈঠক আছে। সেখানে বিষয়টি আলোচনা হবে বলে আশা রাখছি।

Universityd.jpg

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এইচএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার আয়োজন থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে এবং ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

এদিকে এ বছর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমনটাই জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি সমন্বিত পদ্ধতিতেই আমরা সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারব।

কারণ এখনও তিন মাস বাকি আছে। তিন মাস পরে সেই মূল্যায়নের জন্য কী পরিস্থিতি হয় তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পরীক্ষায় গিয়ে মেধা পুরোপুরি যাচাই হবে সে কথা যদি এখন আমি বলি, আমি কি এখন নিশ্চয়তা দিতে পারি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও স্বশরীরে দেওয়ার মত পরিস্থিতি হবে? আমরা আশা করছি পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো নেওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলো কী পদ্ধতিতে নেওয়া হবে সেটি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।