মমতা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

mamata99.jpg

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন্দ্র প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করেছে। এর জন্য ওদের পস্তাতে হবে।

সোমবার (৩১ মে) আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নর্থ ব্লকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি এসেছিল নবান্নে। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে আলাপনকে তার মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগের ঘোষণা করেন মমতা।

তিনি বলেন, এভাবে তাকে থামানো যাবে না। এমনকি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশবিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতাদের একজোট হওয়ার ডাক দেন তিনি।

মমতা বলেন, সকলকে এক হয়ে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা উচিত। বিরোধীদলগুলির মুখ্যমন্ত্রীরও একজোট হওয়া উচিত। বিজেপি স্বৈরাচারীর মতো ব্যবহার করছে। হিটলার, স্ট্যালিনের মতো ব্যবহার করছে। কিন্তু এভাবে আমাদের আমলাদের স্বাধীনতা, সম্মান কেড়ে নিতে দেব না ওদের।

রাজ্যের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপনকে নিয়ে গত চারদিন ধরেই কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন চলছে। আলাপনের অবসরের দিন চারেক আগে তাকে হঠাৎ দিল্লিতে ডেকে পাঠায় কেন্দ্র। সোমবারও এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। আলাপনকে যে দিল্লিতে কর্মিবর্গ মন্ত্রকে যোগ দেওয়ার জন্য ছাড়া হচ্ছে না, তা জানিয়ে এবং পাশাপাশিই তাকে দিল্লিতে বদলির নির্দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে ওই চিঠি দেওয়া হয়।

সে প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখনও আমার চিঠির উত্তর দিতে পারেননি। আলাপনকে কেন ডাকা হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট কারণ দেখায়নি কেন্দ্র। অথচ তারপরও ফের চিঠি দেওয়া হয়েছে আলাপনকে। নর্থ ব্লকের কাজে ডেকে পাঠিয়েছেন।

মমতা আরও বলেন, এ ভাবে আমাদের থামাতে পারবে না। আমলাদের স্বাধীনতা, সম্মান কেড়ে নিতে পারবে না। কেন্দ্রীয় সরকার তিন মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। এর জন্য একদিন ওদের পস্তাতে হবে।

সূত্র: আনন্দবাজার

mamata-modi98.jpg

পশ্চিমবঙ্গে ‘ইয়াস’ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতিতে দীঘা ও সুন্দরবন উন্নয়নের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ চেয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘায় ‘ইয়াস’ সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা সফর করেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যাতে ইয়াস দুর্যোগ পরবর্তী অবস্থা খতিয়ে দেখেন এবং পর্যালোচনা বৈঠক করেন।

নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের বোন ও ভাইদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য সম্ভাব্য সব রকমের সহায়তা দেওয়া হবে। আমি সকলের মঙ্গল কামনা করছি।’

এ সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত রিপোর্ট তুলে দেন এবং রাজ্যের জন্য আর্থিক প্যাকজে দেওয়ার দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে (নরেন্দ্র মোদি) দুটো প্রকল্প আমরা দিয়েছি। একটা হল দীঘা উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ, আরেকটা হল সুন্দরবন উন্নয়ন করার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের কথা আমরা বলেছি।’

তিনি খানিকটা হতাশার সুরে বলেন, ‘পাবো না হয়তো আমরা কিছুই। কিন্তু যাইহোক প্রধানমন্ত্রীকে এটা আমরা দিয়ে আমি এটাই বলে এসেছি যে, আপনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন, তাই অতদূর থেকে আমি এসেছি। আমি এই কাগজটা আমি ও আমার মুখ্যসচিব দু’জনে দিয়ে গেলাম। আমার দীঘায় যাওয়ার কর্মসূচি থাকায় আমি সেখানে যাচ্ছি।’

kol8.jpg

ভারতের ওডিশা রাজ্যে সরাসরি আঘাত হানা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনের শিকার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত এক কোটি মানুষ ও তিন লক্ষাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়াসের ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুরু হওয়া জলোচ্ছ্বাস অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করে দিয়ে তিনি দাবি করেন, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যে পরিণত হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এসময় তিনি জানান, মাছ ধরতে যাওয়ায় ‘দুর্ঘটনাবশত’ একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ইয়াসের বিপর্যয় মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি দেখভালে মঙ্গলবার নবান্নের কন্ট্রোল রুমে রাত কাটানো মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ইয়াসের আঘাত থেকে বাঁচাতে ঝড়টি আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিতে থাকা রাজ্যের ১৫ লাখ ৪ হাজার ৫০৬ জন মানুষকে নিরাপদে সরানো হয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শিগগিরই ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা ও উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলায় সফর করব। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালাব।’

মমতা বলেন, ‘এখন সরকারের হাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব এসেছে। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই প্রাথমিকভাবে আমাদেরকে এই হিসাব জানিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা (তিন দিন) সময় লাগবে।’

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ভারতের পূর্বাঞ্চলের ওডিশা রাজ্যের ধামরা বন্দরের অদূরে উপকূলে আছড়ে পড়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। তবে ওডিশায় আঘাত হানার পর শক্তি হারিয়ে সেটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

mamata4.jpg

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর আসন থেকে বিধায়ক পদ ছেড়ে দিচ্ছেন শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভায় ওই আসন থেকে লড়তে পারেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল সূত্রের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা।  তাই তার পুরনো আসন ভবানীপুর থেকে লড়েন শোভন দেব।  ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অভিনেতা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে পরাজিত করেন তিনি।  অন্যদিকে নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান মমতা।

আনন্দবাজার বলছে, নন্দীগ্রামে মমতা জয় না পাওয়ায় নিয়মমাফিক তাকে অন্য কোনো আসন থেকে জয় লাভ করে আসতে হবে। তাই নিজের পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই মমতা উপনির্বাচনে লড়াই করবেন।  সেই লক্ষ্যে আজ শুক্রবার বিধানসভায় গিয়ে পদত্যাগ করবেন তৃণমূলের বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিক শোভন দেব। এর পরই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।

তৃণমূলের নিবেদিত প্রাণ শোভন দেব অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতাও।  তিনিই দলটির প্রথম বিধায়ক।  একসময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন শোভন দেব। তৃণমূল গঠনের পর ১৯৯৮ সালে বারুইপুরের বিধায়ক পদ ছেড়ে রাসবিহারি উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হন। কংগ্রেস বিধায়ক হৈমী বসুর মৃত্যুতে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছিল। শোভন দেবের সেই উপনির্বাচনে জয়েই প্রথম বিধানসভায় প্রবেশ তৃণমূলের।

Monojs.jpg

ভারতের হয়ে ১২টি ওয়ানডে খেলেছেন, খেলেছেন ৩টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিলো ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, সর্বশেষ ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৫ সালে। আইপিএলে খেলেছেন ৯৮টি ম্যাচ। সাকিবের সাথে এবার আইপিএলে খেলছেন কলকাতার হয়ে। বিধানসভার নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন মনোজ। এবার মন্ত্রিসভায় কোনো চিত্রতারকাকে রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ঠিকই মন্ত্রী বানিয়েছেন একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে।

সোমবার কলকাতার রাজভবনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মনোজ। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। কেকেআর ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা এতদিন পালন করে এসেছেন এই দায়িত্ব।

শপথ গ্রহণের পর গণমাধ্যমকে মনোজ বলেন, কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি এমন সম্মানের একটা পদ পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এতজন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য থেকে মন্ত্রী নেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৩ জনকে। এর মধ্যে আমি আছি। এটা আমার জন্য বিরাট পাওয়া। দিদি আমাকে এমন সম্মান দিয়েছেন, আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

মন্ত্রী হয়ে গেছেন তাহলে এখন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কী হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে মনোজ বলেন, আমি এখনো ক্রিকেটকে বিদায় জানাইনি। অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি। খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে মন্ত্রিত্ব অনেক বড় ও কঠিন দায়িত্ব। এটা সামলে ক্রিকেটে মনোযোগী হতে পারব কি না সেটাই প্রশ্ন। দেখা যাক, পরে কি হয়। আপাতত সামনে তো কোনো খেলা নেই।

৫ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর শপথ নিয়েছেন বিধায়করাও। আজ সোমবার (১০ মে) গঠিত হয়েছে রাজ্যের নয়া মন্ত্রিসভা। শপথ নিয়েছেন ৪৩ জন জয়ী বিধায়ক।

mamata-tmc.jpg

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে তিনি শপথ নিয়েছেন। সোমবার (১০ মে) শপথ নেবেন তার নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

ওই খবরে বলা হয়, রাত পোহালেই নতুন মন্ত্রিসভা তৈরি করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই বিধায়করা নিজেদের মতো করে খোঁজখবর করতে শুরু করেছেন। কে মন্ত্রী হবেন আর কে মন্ত্রী হবেন না তার হিসেবনিকেশ করছেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই চারদিক বিচার করে মন্ত্রিসভার তালিকা তৈরি করে ফেলেছেন। যা সকলেরই অজানা। সোমবারই শপথ নিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বেলা ১১টা নাগাদ বিধানসভাতেই রাজ্যের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। তারপর বিকেলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক রয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে। অমিত মিত্রকে অর্থমন্ত্রী করে ৬ মাসের মধ্যে জিতিয়ে আনা হবে। আবার এই দফতরের মন্ত্রী হতে পারেন অভিরূপ সরকারও। এমনটাও হতে পারে। যোজনা কমিশনের ধাঁচে কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হতে পারে। সেখানে অমিত মিত্রকে নিয়ে আসা হতে পারে উপদেষ্টা করে।

আর একজন প্রতিমন্ত্রী রাখা হবে। নতুন–পুরনো মিশেলেই এই মন্ত্রিসভা তৈরি করা হবে। বেশ কয়েকটি নতুন মুখকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে খবর। সুশান্ত মাহাতো, বীরবাহা হাঁসদাকে সেক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। জুন মালিয়া কিংবা রাজ চক্রবর্তীর মধ্যে একজনকে দেখা যেতে পারে মন্ত্রিসভায়। তবে এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হতে চলেছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

খাদ্যমন্ত্রীই থাকছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। একুশের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন পেয়েছেন মুর্শিদাবাদ ও মালদহ থেকে। সেক্ষেত্রে এই দুটি জেলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মালদা থেকে সাবিত্রি মিত্র ও সাবিনা ইয়াসমিন এবং মুর্শিদাবাদ থেকে সুব্রত সাহা এবং অপূর্ব সরকারের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর পূর্ব মেদিনীপুর থেকে অধিকারী পরিবারের প্রধান বিরোধী অখিল গিরির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার উত্তর ২৪ পরগনা থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পরিবহণ মন্ত্রী হিসাবে মদন মিত্র ও শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে ব্রাত্য বসুর নাম তালিকায় রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস আরও জানায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে তৃণমূল কংগ্রেস ৩১টি আসনের মধ্যে ৩০টি আসন পেয়েছে। তাই এখান থেকেও নতুন মুখ আসতে পারে। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা মন্ত্রী হতে পারেন। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকেও মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হতে পারে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হতে পারেন মেখলিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত পরেশচন্দ্র অধিকারী, জলপাইগুড়ি থেকে মন্ত্রী হতে পারে প্রদীপ বর্মা, উত্তর দিনাজপুর থেকে মন্ত্রী হতে পারেন গোলাম রব্বানি, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মন্ত্রী হতে পারেন বিপ্লব মিত্র, হুগলি থেকে মন্ত্রী হতে পারেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তবে ইন্দ্রনীল সেন, মানস ভুঁইয়া, মনোজ তিওয়ারি মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

mamata222.jpg

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন।বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের অভিনন্দন বার্তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ মে) পাল্টা চিঠি দেন মমতা।

চিঠিতে শেখ হাসিনার উদ্দেশে মমতা বলেন, আপনার শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আপ্লুত। আপনাকে জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।এই জয় বাংলার মা-মাটি-মানুষের জয়। উন্নয়নের জয়। আর সর্বোপরি, একতা, শান্তি, সম্প্রীতি, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং সৌভ্রাতৃত্বের জয়।

মমতা বলেন, গত ১০ বছরে অনেক কাজ আমরা করেছি। আগামীদিনেও আরও অনেক কাজ আমরা করব। বাংলার মানুষ যে ভরসা আজ আমাদের ওপর রাখলেন, আমরা তার যােগ্য সম্মান দেব। বাংলাকে সাফল্যের নতুন শিখরে পৌঁছে দেব- এই আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, দুই বাংলার মধ্যে ভৌগলিক সীমারেখা থাকলেও চিন্তা-চেতনা-মননে আমরা একে অপরের অত্যন্ত আপন। এই ভালােবাসার বন্ধন আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

মমতা বলেন, আপনাকে (শেখ হাসিনা), রেহানাকে ও সমগ্র বাংলাদেশবাসীকে আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানালাম। আপনাদের শুভকামনাই হবে আমাদের চলার পথের পাথেয়।ভালাে থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।লে

উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় বুধবার (৫ মে) এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ উপলক্ষে আপনাকে (মমতা) আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল বিজয় আপনার ওপর পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সুগভীর আস্থার প্রতিফলন।

kangana22.jpg

আবারও আইনি ঝামেলায় পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কুরুচিকর’ ও ‘বিভ্রান্তিমূলক’ তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেখানকার উল্টোডাঙা থানায়।

তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগ গ্রহণ করে উল্টোডাঙা থানার ওসি কান্তিময় বিশ্বাস বলেছেন, ‘অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ বরাবরই লাগামছাড়া মন্তব্য করে বিতর্কের শীর্ষে থাকেন বলিউডের এই অভিনেত্রী।

ভারতের ওই রাজ্যে ভোট পরবর্তী সহিংসতার ছবি তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানান, বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে।

ভোটের ফল প্রকাশের পরদিন, ৩ মে কঙ্গনার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে কলকাতা পুলিশে ইমেইল করে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আইনজীবী সুমিত চৌধুরী। এবার উল্টোডাঙা থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন শাসকদলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত।

mamata99.jpg

এবার বাইরে থেকে মন্ত্রীদের কেউ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসতে হলে নেগেটিভ আরটি-পিসিআর রিপোর্ট দেখাতে হবে। বৃহস্পতিবার (৬ মে)এ কথাই স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘‌করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও এক দল এসেছিল।তারা চা খেয়েছে। তারপর চলে গিয়েছে।এবার থেকে যদি কোনও মন্ত্রীরা বাইরে থেকে আসেন, তাদের কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। যদি তাঁরা বিশেষ বিমানেও আসেন, তাহলেও তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। করোনা ধরা পড়লেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। নিয়ম সকলের জন্যই সমান হওয়া উচিত। ’‌

রাজ্যের হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের রিপোর্ট তলব প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‌২৪ ঘণ্টাও একটা সরকারের হয়নি। তার মধ্যে চিঠি চলে আসছে। তার মধ্যে টিম চলে আসছে। মন্ত্রী চলে আসছে। বিজেপির নেতাদের বলব সংযত হোন। মানুষের রায় মেনে নিন। মানুষের রায় মেনে নিতে পারেননি বলেই এই সব ঘটনা ঘটছে।’‌

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উদয়ন গুহর হাত ভেঙে দিয়েছে। যেখানে বিজেপি ভালো ফল করেছে, সেখানেই হিংসা বেশি হচ্ছে। বিজেপি নিজেই গুণ্ডামি করেছে। আমাদের ছেলেদের বলব, শান্ত থাকো, বিজেপি নিজেই উসকানি দিচ্ছে। গতকাল শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে যখন গিয়েছিলাম, তখন কাউন্সিলার বাবাইকে বললাম, তোরা সবাই শান্ত আছিস তো?‌-বলল, আমরা কোথায় অশান্তি করছি। বিজেপিই তো অশান্তি করছে।’

বিজেপিকে কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌৬ মাস ধরে রাজ্যে এসে বাংলা দখল করতে গিয়ে ভারতকে পুরো ধ্বংস করে দিয়েছে। কই অক্সিজেন যখন রাজ্যের মানুষ পায় না, তখন টিম আসে না তো। ভ্যাকসিন যখন পায় না, তখন টিম আসে না তো। হাথরাসের ঘটনা হলে টিম আসে না তো। দিল্লির দাঙ্গায় মানুষ মরলে টিম আসে না তো।সাংবাদিক খুন হলে টিম আসে না তো।’‌

mamataa.jpg

টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (৫ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে শপথ নেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ শেষ করেই মমতা জানান, তাঁর প্রথম কাজ হবে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। শপথ নেওয়ার পরে নবান্নে গিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজ্যপালের কাছে শপথ বাক্য পাঠ করার পরে মমতা বলেন, তাঁর সরকারের প্রথম কাজ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা। রাজভবন থেকে সরাসরি নবান্নে গিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানেই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।

বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে মমতার। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে সবাইকে জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে গত রবিবার (২ মে) নির্বাচনের ফল পরিষ্কার হতেই কালীঘাটে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বলেছিলেন, তাঁর প্রথম কাজ হবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। শপথ নেওয়ার পরেও সেই একই কথা শোনা গেলো তাঁর মুখে।