মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষারর ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৭৫ জন। আসন সাপেক্ষে তাদের মধ্যে প্রথম ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থীকে সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি তাদের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টেলিটক সিমের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা ফি দিয়ে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে তারা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন। এ আবেদন চলবে আগামী ৫ মে পর্যন্ত।

ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবেন যেভাবে

টেলিটকের যেকোন প্রি-পেইড মোবাইল থেকে আবেদন করা যাবে। এজন্য DGHS স্পেস RSC স্পেস ROLL NO লিখে পাঠাতে হবে 16222 নাম্বারে। ফিরতি এসএমএসে একটি পিন নাম্বার আসবে। ফি প্রদানের জন্য প্রাপ্ত পিন নাম্বার দিয়ে DGHS স্পেস RSC স্পেস YES স্পেস PIN নাম্বার লিখে পাঠাতে হবে 16222 নাম্বারে। এরপর প্রাপ্তি স্বীকার একটি এসএমএস পাওয়া যাবে।

পুনঃনিরীক্ষা ফল আবেদনকারীকে যথাসময়ে জানানো হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এর আগে গত শুক্রবার (২ এপ্রিল) সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৫৫টি ভেন্যুতে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়। জাতীয় মেধার ভিত্তিতে সরকারি ৩৭টি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ৪ হাজার ৩৫০ জন ভর্তিচ্ছু নির্বাচিত হয়েছেন।

Medical-exam.jpg

দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণের বেড়েই চলেছে। এরমধ্যেই শুক্রবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের ৫৫ কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়। দেশব্যাপী ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের পরীক্ষায় বসেছিলেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন পরীক্ষার্থী। প্রতিটি পরীক্ষার হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে করাকরি থাকলেও উল্টো চিত্র ছিল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে।

পরীক্ষার আগে ও পরে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থী এবং তাদের স্বজনরা ভিড় করেন হলের গেটে। এতে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর সামনে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। এমন কি প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায়ও দেখা যায় একই চিত্র।

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও সরকারি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ কেন্দ্রের সামনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা পূর্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তবে পরীক্ষার পুরোটা সময় ধরে এসব কেন্দ্রের বাইরের চিত্র পুরো উল্টো ছিল। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা স্বজনরা যে যার মতো স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে জটলা করে দাঁড়িয়ে বা বসে ছিলেন। একই চিত্র দেখা যায় পরীক্ষার পরেও। একই জায়গায় শতশত শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করেন। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বাসে উঠেছেন।

রাজধানীর উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষারত অভিভাবক নুরুল আজম বলেন, এখানে নিরাপত্তাকর্মী আছেন মাত্র পাঁচ থেকে ছয় জন। তাদের পক্ষে এত ভিড় সামলানো সম্ভব না। তা ছাড়া, অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতার অভাব আছে। ঢোকার সময় গেটের সামনে অভিভাবকরা জটলা বেঁধে দাঁড়িয়েছিলেন। বের হওয়ার সময়ও তাই। শিক্ষার্থীদের যে লাইন তার পাশেই ধাক্কাধাক্কি করছেন অভিভাবকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের গেটের বাইরে আরেক অভিভাবক জানান, একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে একজনের বেশি কেউ আসতে পারবেন না, এরকম একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া দরকার ছিল। দেখা যাচ্ছে, মা-বাবা দুজনই এসেছেন। দুই জনই গেট পর্যন্ত সন্তানকে এগিয়ে দিচ্ছেন। ফলে ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে করোনা মহামারি উপেক্ষা করে এভাবে পরীক্ষা নেওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেককেই ফেইসবুকে ভিড়ের ছবি পোস্ট করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করতে দেখা যায়।

এ বছর ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে চার হাজার ৩৫০টি আসনের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন প্রায় সোয়া লাখ পরীক্ষার্থী। আর ঢাকা মহানগরের ১৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৪৭ হাজার পরীক্ষার্থী। দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা চার হাজার ৩৫০টি। আর ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আরও ছয় হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা গত বছর নেওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সংক্রমণ কিছুটা কমলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ২২ মার্চ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বন্ধে রিট করেছিলেন উত্তরার বাসিন্দা তৈমুর খান। আকস্মিক করোনোভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সেশনে ভর্তির কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি। অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর অনেক আগেই মেডিকেলে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে তাদের অন্য কোনো বিষয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে, এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি দাখিল করা হয়েছিল।

medical-20180901041306.jpg

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। এদিকে, মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে। এজন্য শুক্রবার সকালে পরিবহন সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন করায় পরিবহন সঙ্কট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার মেডিকেল পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টার মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।

ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কয়েকটি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো- পরীক্ষার্থীদের মাস্ক পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হবে। সবক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে অথবা স্যানিটাইজ করতে হবে। কেন্দ্রের আশপাশে গাড়ি রাখা যাবে না। অভিভাবকরা কেন্দ্রের কাছে অবস্থান করতে পারবেন না। ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্টিংয়ের দোকান পরীক্ষার আগের দিন রাত ৮টা থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এদিকে, গত বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মাস্ক পরে কেন্দ্রে আসার জন্য নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশপথে তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানার, জীবাণুনাশক অটো-স্প্রে মেশিনসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে।’

‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ। সেই সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে মোবাইল কোর্ট। পরীক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজ সঙ্গে নিতে পারবেন না। সব পরীক্ষার্থীর দেহ তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হবে। কেন্দ্র ইনচার্জ ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন কাছে রাখতে পারবে না। তল্লাশি কাজে থাকবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সব ধরনের গুজব বা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো রুখতে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন অ্যাপস ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ (হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ভাইভার, ইমু ইত্যাদি) যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করবে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ।’

সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘একটি স্বচ্ছ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। যারা যোগ্য তারাই এই পরীক্ষার মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাবে। করোনাভাইরাসের কারণে গণপরিবহনে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনে সরকারি নির্দেশনা আছে। যার ফলে পরিবহন সঙ্কট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারীরা অবশ্যই পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। যাতে পরীক্ষার্থীরা ২ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ৮টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারেন।’

কর্তব্যে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পুলিশের যেসব সদস্য মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবেন, তাদেরকেও অবশ্যই মাস্ক পরিধানসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

অনুষ্ঠিতব্য মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা মহানগরের ১৫টি কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করবেন প্রায় ৪৭ হাজার শিক্ষার্থী।

medical-admission.jpg

আসন্ন ২০২০-২১ সেশনে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখেই হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এ কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই মিলে যদি সুন্দরভাবে কাজ করি তাহলে পরীক্ষাটা নিতে পারব এবং সফলতার সঙ্গে নিতে পারব। এ বিষয়ে এখানে সকলেই একমত হয়েছেন যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সিকিউরিটি মেনেই কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকবেন। তিনি এ  সব বিষয় দেখবেন। যদি কোনো সমস্যা হয় উনি সেটা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মেডিকেল পরীক্ষা নির্বিঘ্নে নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আহবান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েকটি পরীক্ষায় আপানারা অনেক ভালো দক্ষতা দেখিয়েছেন। এ জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি আশা করব এবারও আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ে যেন কোনো ভুয়া প্রচার-প্রচারণা না হয় এ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আপনারা জানেন এ পরীক্ষায় যারা পাস করবে তারাই ডাক্তার হবে এবং তারা আমাদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২ এপ্রিল দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস এবং ৩০ এপ্রিল ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোর বিডিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত কোনো ধরনের লকডাউনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে করোনা রোগী যে হারে সংক্রামিত হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকারের প্রস্তুতির কাজ কঠিন হয়ে পড়বে।

এ সময় মন্ত্রী জানান, সারাদেশে নতুন করে প্রায় ৩ হাজার নতুন করোনার বেড বাড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, যারা বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গেছেন বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তারাই বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

medical666.jpg

সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে ঈদ-উল-ফিতরের পর নেয়ার দাবি জানিয়েছে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানায় তারা।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, দেশে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও তা এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকসহ প্রায় ৩ লাখ লোকের জনসমাগম ঘটবে। অথচ বাংলাদেশে এখনো করোনা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। এমতাবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক যদি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয় তবে এর দায়ভার কে নেবে বলে?

তারা আরও বলেন, একমাত্র মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ব্যতীত দেশের বাকি সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এমন এক সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছে যখন কি-না করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় নেমে আসার কথা এবং সিংহভাগ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের টিকাও সুনিশ্চিত হয়ে যাবার কথা। তাহলে সকলের ভর্তি পরীক্ষা ঈদের পর হলে কেন আমাদের পরীক্ষা এত তাড়াতাড়ি নেয়া হচ্ছে। শুধু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন এই সময় বৈষম্য?

তারা বলেন, ২ এপ্রিল পরীক্ষা হলে জুন-জুলাইয়ের মাঝেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে। তবে তখনও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হবে না। তখন যেসব শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাবে না, তখন তারা বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হবে। আর যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকে তাহলে তারা যদি সেখানে চান্স না পায়, তাহলে আর বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির সময় থাকবে না। আবার যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষা হবে, তখন তারা যদি সেখানে চান্স পায় অথবা মেডিকেলের চেয়ে ভালো যায়গায় চান্স পায় তাহলে মেডিকেলের ভর্তি ক্যান্সেল করে তাদের সেখানে চলে যেতে হবে। এতে অনেক টাকা নষ্ট হবে।