মেয়ে Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

exam-20181224122752-20181224143638.jpg

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী-পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন শিক্ষার্থী। এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান পিইসি-সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এ পরীক্ষার ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। পরে দুপুর ১টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯০৪ জন পাস করেছে। তার মধ্যে ১২ লাখ ১১ হাজার ৬০০ জন ছাত্র ও ১৪ লাখ ৪১ হাজার ২৯৬ জন ছাত্রী রয়েছে। প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়িতে ছেলেদের পাসের হার ৯৭ শতাংশ ৪৮ শতাংশ, আর মেয়েদের পাসের হার ৯৭ শতাংশ ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন। তার মধ্যে ছেলেরা পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪১১ জন ও মেয়েরা পেয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ জন।

ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২৬৪ জন। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৭ জন। পাস করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৮ জন ছাত্র ও ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৯ জন ছাত্রী।

ফল দেখা যাবে যেভাবে

পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট (http://www.dpe.gov.bd), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়, উপজেলা/থানা শিক্ষা কার্যালয় এবং নিজ নিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

এসএমএসের মাধ্যমে পিইসি পরীক্ষার ফল পেতে হলে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে: ডিপিই<স্পেস>থানা/উপজেলা কোড নম্বর<স্পেস>রোল নস্বর>২০১৮ এবং তা পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

এবতেদায়ি পরীক্ষার ফল পেতে হলে অপশনে গিয়ে লিখতে হবে: ইবিটি<স্পেস>থানা/উপজেলা কোড নম্বর<স্পেস>রোল নম্বর<স্পেস>২০১৮ এবং তা পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

থানা বা উপজেলার কোড নম্বর হিসেবে লিখতে হবে সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইএমআইএস কোড নম্বরের প্রথম পাঁচটি সংখ্যা।

৭ বিভাগে সমাপনীতে পাসের হার

ঢাকা বিভাগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তার মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৯৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৯৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯৭ দশমিক ১২ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৯৮ দশমিক ২০ শতাংশ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ দশমিক ৩০ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

৭ বিভাগে ইবতেদায়িতে পাসের হার

রাজশাহী বিভাগে ৯৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৯৮ দশমিক ৬৭, ঢাকা বিভাগে ৯৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৭ দশমিক ১৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৯৫ দশমিক ৫৮, রংপুর বিভাগে ৯৮ দশমিক ৬১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ দশমিক ৬১ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

শতভাগ পাস ফেল

এবার সমাপনীতে শতভাগ পাস করেছে ৮৩ হাজার ৪৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৮৩টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে ১২ হাজার ৫৭৭টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। শতভাগ ফেল করা মাদরাসার সংখ্যা মোট ২৯টি।

উল্লেখ্য, গত ১৮ নভেম্বর শুরু হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয় ২৬ নভেম্বর। ৬টি বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার পরীক্ষার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দেয়া হয়। দুই সমাপনীতে এবার প্রায় ৫৭ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে এ বছর ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৭০ জন। আর ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

naraoni-das-20181126184755.jpg

স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল নারায়ণী দাসের। কিন্তু বয়সের ভারে যখন শরীর নুইয়ে পড়ার দশা, সেই সময় আশ্রয় নিলেন মেয়ের বাড়িতে। সেখানে শুরুর দিনগুলো ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু মেয়ে এবং জামাইয়ের মনে যে লুকিয়ে ছিল মায়ের সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নিষ্ঠুর এক পরিকল্পনা; সেটা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি বৃদ্ধা নারায়ণী দাস। পেটের সন্তান সহায়-সম্পত্তির লোভে এতটা নির্মম হতে পারে জানা ছিল না তার।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের মাথাভাঙ্গা এলাকায়। নারায়ণী দাসের জীবনের গল্পটা বাস্তবতার কাছে হেরে যাওয়া এক রক্তের বন্ধনের গল্প। সম্পত্তির লোভে জীবিত মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করলেন মেয়ে এবং জামাই।

মা নারায়ণী দাসের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন মেয়ে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করার দীর্ঘদিন পর হঠাৎ ফিরে এলেন মৃত মা! কিন্তু সেদিনও তাকে আর আশ্রয় দেয়নি মেয়ে। শেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অশীতিপর এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে মাথাভাঙ্গার শুটুঙ্গা নদীর চরে, একটি ঝুপড়ি ঘরে।

স্থানীয়রা বলছেন, অনেক সহায়-সম্পত্তি ছিল ওই বৃদ্ধার। স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে একদিন স্বামী মারা যান। ছোট মেয়েকে নিয়েই মাথাভাঙার ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে থাকতেন বৃদ্ধা নারায়ণী দাস। কিছু দিন পরে তার ছোট মেয়ের বিহারে বিয়ে দেন। এর পরে মাথাভাঙ্গার সব সম্পত্তি বিক্রি করে মা নারায়ণী দাসকে বিহারে নিজের কাছে নিয়ে চলে যায় তার ছোট মেয়ে।

কিন্তু ভিটেমাটি ছেড়ে এভাবে বিহারে যাওয়ার পরই বিভীষিকা নেমে আসে বৃদ্ধা নারায়ণী দাসের জীবনে। কিছুদিন পরে নিজের মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার মেয়ে। বৃদ্ধা নারায়ণী ঠিকভাবে চলতে-ফিরতে না পারলেও জীবনধারণের তাগিদে শুরু করেন অন্যের বাড়িতে কাজ। এখানেই শেষ নয়। বছর খানেক পরে বৃদ্ধার ছোট মেয়ে তার আত্মীয়-পরিজনদের জানিয়ে দেয়, মা মারা গেছেন। নিয়ম ও আচার মেনে সামাজিক মতে বৃদ্ধার শ্রাদ্ধ হয়ে যায়।

ছোট মেয়ে ছাড়াও অপর দুই মেয়ে মায়ের শ্রাদ্ধ করে নিজেদের বাড়িতে। কিন্তু শ্রাদ্ধের বেশ কিছু দিন পরে আচমকাই ওই বৃদ্ধা ফিরে আসেন মাথাভাঙ্গায় তার মেজো মেয়ের বাড়িতে। ছোট মেয়ে ও তার জামাই ওই বৃদ্ধাকে পাটনা থেকে শিলিগুড়িতে নিয়ে এসে, মাথাভাঙার একটি বাসে তুলে দিয়ে সটকে পড়েন। বাসের কন্ডাক্টর মাথাভাঙ্গার শনি মন্দির মোড়ে বৃদ্ধাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এলাকার লোকজন চমকে উঠেন তাকে দেখে।

মাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার পরিবর্তে মেজো মেয়ে নারায়ণী দাসকে বাড়িতে ঢুকতেই দেননি। তিনি বলেন, মায়ের শ্রাদ্ধ করেছেন তারা। এখন কী করে তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেবে।

স্থানীয় কিছু মানুষের সহযোগিতায় মাথাভাঙ্গার শুটুঙ্গা নদীর চরে একটি ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধা। ঝুপড়িটি বানিয়ে দিয়েছেন এলাকার মানুষ। বর্তমানে আশপাশের মানুষের দয়ায় কোনোরকমে বেঁচে আছেন এই দুঃখী মা।