মোদি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

modi-magic-20190519220648.jpg

ভারতের সাত দফার ম্যারাথন লোকসভা নির্বাচনের পর দেশটির বিভিন্ন জরিপকারী সংস্থা নির্বাচনের বুথ ফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। এতে গেরুয়া ঝড়ে আবারো দেশটির ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন বলে আভাস দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ বলছে, নয়াদিল্লির মসনদ আবারো দখলে রাখছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। ৫৪২ আসনের মধ্যে ৩৩৬টি আসন নিয়ে ফের সরকার গড়তে চলেছে মোদি নেতৃত্বাধীন এই জোট।

দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য ২৭২ আসনের দরকার হলেও নিউজ১৮ ও আন্তর্জাতিক জরিপসংস্থা আইপিএসওএসের বুথ ফেরত জরিপের ফল বলছে, তিন শতাধিক আসন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ জোট। ৫৪২ টি আসনের মধ্যে ২৭৬টি আসন নিজেদের দখলে রাখতে চলেছে বিজেপি। এনডিএ’র অন্যান্য শরিকদের ঝুলিতে পুরছে ৬০টি আসন।

নিউজ১৮ ও আইপিএসওএসের বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, দেশটিতে এবারের নির্বাচনেও ব্যর্থ হতে যাচ্ছে বিরোধী দল কংগ্রেস। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জুটির ম্যাজিকেও সারা দেশে পঞ্চাশের বেঞ্চমার্কও পার হতে পারছে না কংগ্রেস। কংগ্রেস মোট ৪৬ টি এবং ইউপিএ জোটের অন্যান্য দলগুলো ৩৬টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে ইউপিএর খাতায় জমা পড়ছে মোট ১২৪টি আসন।

জরিপ সংস্থা রিপাবলিক সি-ভোটার তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল বিজেপি আবারও ক্ষমতায় আসছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৫৪৩ আসনের লোকসভায় ৩ শতাধিক আসনে জয়ী হতে পারে বিজেপি। পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং মিত্ররা ১২৮ আসনে জয় পেতে পারে।

টাইমস নাউ-ভিএমআরের বুথ ফেরত সমীক্ষা আভাস দিয়েছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেতে পারে ৩০৬টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ১৩২টি এবং অন্যান্যরা ১০৪টি আসনে জয়ী হতে পারে।

এদিকে, কেন্দ্রে বিজেপির গেরুয়া ঝড়ে মোদি ক্ষমতায় আসলেও পশ্চিমবঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া এই রাজ্যে আবারো মমতা বন্দোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বলে চারটি সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমে বুথ ফেরত জরিপের ফলাফলে দাবি করেছে।

টাইমস নাউ-এর বুথ ফেরত জরিপ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ২৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ১১ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট দুটি আসনে জয় পেতে পারে।

ইন্ডিয়া টিভি ও পোলস্ট্র্যাটের বুথ ফেরত জরিপ বলছে, মমতা বন্দোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসই আবারো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বসছে। ৪২ আসনের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ২৬, কংগ্রেস ২, বিজেপি ১৪ আসনে জয় পাবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপক আলোচিত বামপন্থীরা শূন্য।

ভারতের এবারের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৯০ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সাত দফার এ নির্বাচনে প্রায় ১০ লাখ ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ম্যারাথন ভোটযজ্ঞ শুরু হয়েছিল গত ১১ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোটে ভোটদানের হার ছিল ৬৯.৪৩ শতাংশ। ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয় এবং ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায় ৬৬ শতাংশ ভোট পড়ে। ২৯ এপ্রিল চতুর্থ দফায় ভোটদানের হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ৫৭.৩৩ শতাংশ ভোট পড়ে পঞ্চম দফায়। ৬৩.৩ শতাংশ ভোট পড়েছে ষষ্ঠ দফার ভোটে।

rahul-5ccd76fa28182.jpg

ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শনিবার সকালে দিল্লিতে এমন মন্তব্য করেন রাহুল।

রাহুল নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেন, তিনি মনে করেন সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনী তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আসলে তা নয়। খবর এনডিটিভির।

এর আগে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে মোদির উদ্দেশে রাহুল বলেছিলেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের (ইউপিএ) আমলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল। আপনার আমলে প্রথম সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছে এমনটা নয়।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানানোর পরই পাল্টা আক্রমণ করেন মোদি। কংগ্রেসের দাবিকে মিথ্যা অভিহিত করে শুক্রবার রাজস্থানে তিনি বলেছেন, ইউপিএ আমলে ভিডিও গেমসে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে।

এবার প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যেরই পাল্টা জবাব দিলেন রাহুল। এদিন তিনি বলেন, ইউপিএ আমলের সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে ভিডিও গেমের সঙ্গে তুলনা করে মোদিজি সেনাবাহিনীর অসম্মান করেছেন।

কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ইউপিএ আমলে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছয়বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়। তবে আমরা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নিতে সেসময় এই ঘটনাকে ফলাও করে দেখায়নি।

রাহুল বলেন, এবার হারছেন বলে মোদিজি জানতে পেরেছেন। আর সেটা তার চোখেমুখে ফুটে উঠছে। মোদি সরকারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে কংগ্রেস এবং এই সরকার আর ক্ষমতায় ফিরবে না।

modi09.jpg

১৫ বছর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং পাঁচ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার পরেও মোদির মোট সম্পত্তির পরিমাণ দুই কোটি টাকার একটু বেশি । এছাড়া তার নিজের কোনো গাড়িও নেই।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বারানসীতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শপথ পত্র অনুযায়ী মোদির মূল সম্পত্তি দুই কোটি ৫১ লক্ষ ৩৬ হাজার ১১৯ টাকা৷ জানা গিয়েছে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের গান্ধিনগর শাখায় তার একাউন্টে মাত্র ৪ হাজার ১৪৩ টাকা রয়েছে৷ এছাড়া তার ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮১ হাজার ৫৭৪ টাকার এফডিআর রয়েছে৷ মোদি জীবন বিমা পলিসিতে এক লক্ষ ৯০ হাজার ৩৪৭ টাকা জমা রেখেছেন৷

অন্যদিকে ভারতের এই বিজেপি নেতার কাছে চারটি সোনার আংটি রয়েছে৷ যার মূল্য এক লক্ষ ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি তিনি ৮৫,১৪৫ টাকা আয়করের টিডিএসের জন্য জমা করেছেন৷ এছাড়া তিনি ১,৪০,৮৯৫ টাকা পিএমওতে জমা করেছেন৷

গতবারের নির্বাচনের হলফনামার সঙ্গে এবারের হিসেব কষলে দেখা যায় তার মাত্র ২২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬২১ টাকার সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে।

mamata-modi-hasina-20190424164536.jpg

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এখনও বছরে তিন চারবার উপহার পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি এ কথা জানিয়েছেন।

রাজনীতির বাইরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোদির সঙ্গে আলাপ করেছেন অক্ষয়। মঙ্গলবার অক্ষয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী আলাপচারিতায় মোদি বলেন, শুনতে অবাক লাগতে পারে এবং ভোটের সময় আমার হয়ত বলা উচিত নয় কিন্তু মমতা দিদি এখনও আমাকে উপহার পাঠান। এখনও তার কাছ থেকে বছরে এক বা দুটি পাঞ্জাবি পেয়ে থাকি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, শুধু মমতা নন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে উপহার পাঠান। তবে পাঞ্জাবি নয় মিষ্টি। এটা জানতে পেরে মমতাও তাকে মিষ্টি পাঠাতে শুরু করেন।

মোদি এবং অক্ষয়ের এই আলাপচারিতা বুধবার প্রকাশিত হয়। এর ঠিক একদিন আগেই ভারতের তৃতীয় দফার লোকসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মমতা সম্পর্কে এই বক্তব্য প্রকাশের একদিন আগেই আসানসোলে মোদি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ পদ নিলামের জন্য নয়, যা সারদা বা নারদের টাকা দিয়ে কেনা যাবে। এক মুঠো আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আমাদের দিদি। প্রধানমন্ত্রী পদের নিলাম হলে কংগ্রেস এবং দিদি দুর্নীতি করে যা পেয়েছেন তা কাজে লাগাবেন।

modi09.jpg

ভারতে চলমান লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার ( ২০ এপ্রিল) রাজ্যটির দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে জনসভার পর থেকে মোদিকে নিয়ে এমন গুঞ্জন উঠেছে।

সূত্র বলছে, পশ্চিমবঙ্গের বাকি আসনগুলোর মধ্যে কোনও একটিতে প্রার্থী হওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘জি নিউজ’।

লোকসভা নির্বাচনে শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ দৃষ্টি ছিল বিজেপির। তাই শেষ মুহূর্তে এখানে মোদিকেই ঢাল হিসেবে দেখাতে চাইছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪২টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিন দফায় মোট ৩৯টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি।

তবে এখনও যে তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে, এখান থেকে কোনও আসনে প্রার্থী হতে মোদির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বুনিয়াদপুরের নির্বাচনী সভায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি বলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক সময় ‘ভালো মানুষ’ ভেবেছিলেন। কিন্তু, এখন ‘স্বীকার’ করছেন যে তিনি তাকে ‘ভুল’ বুঝেছিলেন। মমতাকে নিয়ে মোদির এই কথার সূত্র ধরেই রাজ্য বিজেপি তাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রার্থী হতে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয় নেতারা মোদিকে বুঝিয়েছেন, প্রথম দু-দফা ভোটের পর এখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী হওয়াটাই চমক হবে বিজেপির জন্য।

221610_bangladesh_pratidin_Yogi.jpg

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন উত্তর প্রদেশের কাইসরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী বিনয় কুমার পাণ্ডে।

এই কংগ্রেস নেতার মতে বিজেপি গোমাতা নিয়ে লাফালাফি করে, কারণ গরু হলো নরেন্দ্র মোদি ও যোগী আদিত্যনাথের মা, কাকিমা ও বোনের সমান। গরুদের পরিবার থেকেই এসেছেন মোদি আর যোগী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিনয় কুমার আরও বলেন- রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় যেসব গরু, তারা আসলে সমস্যা তৈরি করে। ওদের নিয়ে সমস্যা হয় চাষীদের, হেটে চলা মানুষের।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গরু দেখিয়ে তিনি বলে, “ওই দেখুন! মোদি আর যোগী কাকিমারা দাঁড়িয়ে রয়েছে”।

স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসের ওই প্রার্থীর এই মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে, আজম খান নিজের রামপুরে কেন্দ্রে প্রচার সভা করেন। সেখানেই প্রতিপক্ষ বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। গেরুয়া দলের অভিনেত্রী প্রার্থী সমন্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করেন আজম খান।

তার অন্তর্বাসের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, তিনি নাকি সতেরো দিনেই বুঝে গিয়েছিলেন জয়াপ্রদার অন্তর্বাসের রং খাকি। সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের সামনেই এই কথা বলেন আজম খান।

ধাপে ধাপে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মাঝে এরকমই একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্যের ঝড় বইছে জাতীয় রাজনীতিতে।

modi09.jpg

ভারতের আঞ্চলিক দল এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করেছেন । আসাম থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য মোদিকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশ থেকে ভোটে দাঁড়াতে বলেছেন।

কটাক্ষ করে আজমল বলেছেন, মোদি বাংলাদেশিদের জন্য আসামের দরজা খুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় তিনি!

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে সম্প্রতি জঙ্গি হামলা হয়। জবাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে সরকার দাবি করে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই বিরোধীদের ‘পাকিস্তানপ্রীতি’র অভিযোগ সামনে নিয়ে আসছে বিজেপি। তারা বিরোধী দলের নেতাদের পাকিস্তান থেকে ভোটে লড়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। এবার পাল্টা জবাব দিলেন আজমল।

আসামের ভোটে এবার বড় ইস্যু ক্যাব (নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল)। ক্যাবের আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় বিজেপি।

ক্যাব নিয়ে বিরোধিতা চলছে আসামে। ক্যাববিরোধীদের উসকে দিয়ে আজমল এখন বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করলেন বিজেপিকে।

বিজেপিও আক্রমণে কম যায় না। তারা আজমলকে পরামর্শ দিয়েছে পাকিস্তান থেকেই ভোটে লড়তে।

মিজোরামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা লাল থানহাওলা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ থেকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

জামাত-ই-উলেমা-হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি সুয়াইব কোয়াশমি আসামের নাগরিকদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিজেপির রাজ্য দপ্তরে বসে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

hehy.jpg

সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেছেন, মোদিকে অপরাজেয় ভাবার কোনও কারণ নেই। ২০০৪ সালের কথা মনে আছে তো? ওই সময় সবাই ভেবেছিলেন বাজপেয়ীজিই ক্ষমতায় আসছেন। কিন্তু জিতেছিল কংগ্রেসই।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) লোকসভা নির্বাচনে লড়তে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে রায়বরেলীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

২০০৪ সালে সংবাদমাধ্যমের অধিকাংশেরই ধারণা ছিল, ক্ষমতায় আসছে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ। কিন্তু সেটা ঘটেনি। ক্ষমতায় এসেছিল কংগ্রেস।

সাংবাদিকরা সোনিয়াকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি মনে করেন নরেন্দ্র মোদি অপরাজেয়? জবাবে তিনি বলেন, একদমই নয়। ২০০৪ সালের কথা ভুলে যাবেন না। ২০০৪ সালে বাজপেয়ীজিকেও অপরাজেয় বলে মনে হত। কিন্তু আমরাই জিতেছিলাম।

এদিন সনিয়ার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

মায়ের কথা শেষ হতে না হতেই রাহুল সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের রাজনীতিতে অনেকেই নিজেদের অপরাজেয় মনে করেছেন। তাদের মনে হয়েছে, তারা দেশের মানুষের চেয়েও উচ্চতায় অনেক বড় হয়ে গিয়েছেন। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু পরে সবাই বুঝেছেন, মানুষের থেকে বড় কেউই নন।

১৯৯৬ সালে প্রথম বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার ক্ষমতাসীন হয় কেন্দ্রে। অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে। তারপর ১৯৯৮ আর ৯৯ সালে সরকার গঠন করে বিজেপি। ২০০৪ সালে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে কংগ্রেস। বামপন্থী ও আরও কয়েকটি দলের সমর্থন নিয়ে।

সেই সময় কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন সনিয়া। অনেকেই চেয়েছিলেন সনিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু সনিয়ার ইচ্ছাতেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মনমোহন সিংহ।

modi-imran-20190410104352.jpg

লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে অন্যরকম আমেজ তৈরি হয়েছে ভারতে। সেই প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানেও। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এমনটাই প্রকাশ পেয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইমরান বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে নরেন্দ্র মোদি জয়ী হয়ে ফের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসলে কাশ্মীর নিয়ে একটা আলোচনার পথে আসা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিজেপি না এসে যদি ক্ষমতায় অন্য কোন দল আসে তাহলে কাশ্মীর সমস্যার কোনও সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার মতে, আফগানিস্তান, ভারত, ইরান, এই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান পাকিস্তান এবং পাক নাগরিকদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহ মাহমুদ কুরেশি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, ভোটের আগে চলতি মাসেই পাকিস্তানে ফের একবার স্ট্রাইক চালাতে পারে ভারত। আগামী ১১ এপ্রিল থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোট শুরু হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ২৩ মে।

mamata-modi.jpg

একই দিনে প্রথমে শিলিগুড়ি, তারপর কলকাতার ব্রিগেড। পরপর দু’টি জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর দিনহাটার জনসভায় পাল্টা বক্তব্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর দুই নেতা একই দিনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন পশ্চিমবঙ্গে।

‘রাজ্যের বিকাশে স্পিড ব্রেকার হয়ে বাধার সৃষ্টি করছেন’— শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে মমতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন মোদি। পাশাপাশি বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান অভিযান নিয়েও তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এরপর ব্রিগেডের সভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেন নরেন্দ্র মোদি। অভিযোগের জবাব দিতে মমতা বেছে নেন কোচবিহারের দিনহাটার জনসভাকে। দুপুরেই উত্তরবঙ্গের পথে রওনা হওয়ার সময় তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, সমস্ত অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য তিনি বেছে নেবেন দিনহাটাকেই। সেইমতো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোদিই ছিলেন তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। নরেন্দ্র মোদিকে ‘এক্সপায়ার্ড প্রাইম মিনিস্টার’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

যা বললেন মমতা—

• বিজেপিকে বদলান। ভারতবর্ষকে রক্ষা করুন। দিল্লিতে চাই জনগণের সরকার। রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টিতেই জিতবে তৃণমূল।

• লোকসভা ভোটে ৪১ শতাংশ আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছি আমরা।

• টাকা দিয়ে ভোট কেনা যাবে না। আপনারা কেউ টাকা নিয়ে বিজেপিকে ভোট দেবেন না। নোটবন্দির নামে জনগণের টাকা লুঠ করা হয়েছে।

• বাংলায় ৪২ আসনে একটা তো পেয়ে দেখাও!

• ‘টাচ মি ইফ ইউ ক্যান। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’

• প্রচারে ভারতীয় সেনা নিয়ে কোনও কথা বলা যাবে না, জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কী করছেন উনি? দেশটাকে জবরদস্তি করে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত আছি।

• বাংলায় এনআরসি চালু করতে দেব না।

• অসমে ২৩ লাখ মুসলিম বাঙালিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। হিন্দুদেরও বাদ দেওয়া হচ্ছে।

• জোড়াফুলে ভোট দিন, দিল্লিকে বদলে দিন। জোড়াফুলে ভোট দিন, মোদিকে সরিয়ে দিন।

• বাংলার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে কোনও লাভ নেই। আগে দিল্লি সামলা। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা।

• তোমার রাজত্বে ১২০০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। বিজেপি লুটেরাদের টিকিট দেয়। অস্ত্রব্য়বসায়ীদের টিকিট দেয়। আমরা মিথ্যা বলি না, কুৎসা করি না, দাঙ্গা করি না।

• কৃষকদের টাকা, শস্যবীমার টাকা, খাজনা মকুবের টাকা, সব আমরা দিই। পরিবারের লোকের কাছে জমি হস্তান্তর করতে গেলে মিউটেশন ফি তুলে দিয়েছি।

• রাজবংশী লোকেদের দিল্লি নিয়ে গিয়ে কত কিছু করে দেবে বলেছিল। কিছুই করেনি। আমরা রাজবংশী অ্যাকাডেমি তৈরি করে দিয়েছি। কামতাপুরিদের জন্য কাজ করেছি।

• চিটফান্ডের বিরুদ্ধে আমরাই তদন্ত শুরু করি। অসনের ডেপুটি সিএম সারদাকাণ্ডে কত টাকা নিয়েছেন?

• এক জনের জন্য রাস্তা বন্ধ, আকাশ বন্ধ। মানুষকে ভয় পায় বলেই এত বেশি নিরাপত্তা। কোনও সম্পর্ক নেই মানুষদের সঙ্গে।

• ক্ষমতা থাকলে টিভি বিতর্কে আসুন। অথবা প্রকাশ্যে আসুন। আমি আপনার সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কে নামবো।

• উনি না জানেন জন্ম, না জানেন মৃত্যু। আমাদের জগাই-মাধাই বলেছেন উনি। উনি হলেন গদাই।

• আমি এখন মোদীবাবুকে এক্সপায়ারি বাবু বলে ডাকবো। উনি আর প্রধানমন্ত্রী নন। উনি বলেছেন আমরা উন্নয়ন করিনি। গরিবদের জন্কৈয কাজ করিনি। কৈফিয়ত দিন। আমি তর্কের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। উনি গায়ের জোরে মিথ্যা বলছেন। উনি এক্সপায়ারি প্রাইম মিনিস্টার।

• তফশিলি জাতি এবং উপজাতি হিসেবে শংসাপত্র পেতে গেলে যে নিয়ম আছে, তা পাল্টানোর দরকার। আমরা সাড়ে সাত বছরে ৯ লক্ষ তফশিলি শংসাপত্র দিয়েছি। এর আগে ৭০ বছরে দেওয়া হয়েছিল মাত্র আড়াই লক্ষ শংসাপত্র।

• আমি অনেকবার দিনহাটায় এসেছি। ছিটমহলের সমস্যার সমাধান করেছি। জমি নিয়ে জট কাটিয়েছি। ১১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে ছিটমহলের উন্নয়নের জন্য।

• দিনহাটার মঞ্চে বক্তব্য দেন শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা