রুহুল কবির রিজভী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

RIZVI84.jpg

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সর্বকালের ব্যর্থ একজন সড়কমন্ত্রী। যেহেতু মন্ত্রণালয় চালাতে তিনি ব্যর্থ, তার নেতৃত্বের কারণে সড়কে শুধু লাশের ছবি, সেহেতু এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে তাকে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। নইলে সড়কে মৃত মানুষের আত্মা শান্তি পাবে না।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদেরর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রতিদিন দেখছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব সারা দেশে ছোটাছুটি করছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবের দৌঁড়াদৌঁড়ি কেবল ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ। প্রতিদিন সড়কে লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়-সড়কে মৃত্যুর মিছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হচ্ছে প্রায় ২০ জন মানুষ। দুঃশাসনের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ছে সড়ক ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সরকারের লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

রিজভী আরও বলেন, রাজধানীতে একদিকে তীব্র ট্রাফিক জ্যাম অন্যদিকে পরিবহন নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ মানুষ। সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী প্রতিদিন বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকেন। তিনি গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও অকালে হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যাওয়া রোধ করতে ব্যর্থতার জবাব দেবেন কি?

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, রাতের আধারে ভোট দিয়ে বিচার বিভাগ ধ্বংস করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি কাজে ব্যবহার করে, বিরোধী দলকে নির্মূল করে, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হরিলুট করে এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে শেখ হাসিনা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতের আধারে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গণতন্ত্রের সমাধিসৌধের ওপর কোন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান, তা জানতে চান রিজভী।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার মুখে সুশাসন এর অর্থ হলো দেশব্যাপী মৃত্যুর দোলাচলে এক ধরনের অভিযান, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে ভরে রাখা। কারণ তিনি নাটকীয় ভঙ্গিতে যা বলেন তার উল্টোটাই বাস্তবায়ন করেন।

রিজভী বলেন, পৃথিবীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার রেকর্ড একমাত্র শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনা সাড়ম্বরে এখন ভালো উদ্যোগের কথা বলে মানুষের মন থেকে তার অপকৃতি মুছতে পারবেন না। সময় থাকতে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নইলে সরকারের বিপজ্জনক অবতরণ হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত পদত্যাগ করে দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

rizbi123.jpg

৩০ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতে ঘা লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের ঘন অন্ধকার ভেদ করে টিআইবি রিপোর্টে ভোট ডাকাতির মহাসত্য প্রকাশ হওয়াতে সরকারের মন্ত্রীরা ও নির্বাচন কমিশন মুখ লুকাতে পারছে না। সে জন্য আর্তচিৎকার করে সত্য লুকানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ নেই। মানুষ যা জানার নির্বাচনের আগের দিন রাত থেকেই জেনেছে।

নির্বাচনীব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরদিনের জন্য কোলবালিশের মতো আঁকড়ে ধরে রাখতে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই ভোটারদের ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছে সরকার। গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে রেখে, বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে, ভোটারদেরকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে, নির্বাচন কমিশনে মোসাহেবদের বসিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বাচন মেনে নেয়নি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনে মহাভোট ডাকাতি নিয়ে প্রতিবেদন, মন্তব্য ইত্যাদি করেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো বলেছে- এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এই ভুয়া ভোটের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তদন্ত দাবি করেছে।

একাদশ নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিশ্ববাসী এ নির্বাচন ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে।

দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে, তারা প্রয়োজন হলে জীবন দিয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে।

h4rc.jpg

ঢাকা-৭ (লালবাগ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সহ-সভাপতি এবং সাবেক কমিশনার মোশারেফ হোসেন খোকন নিখোঁজ হয়েছেন।

আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী প্রেসব্রিফিংয়ে দলটির সিনিয়র যগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, দুপুরে মনোনয়ন পত্র দাখিল করে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পর থেকে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ নেয়ার পরও তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছেনা।

প্রেসব্রিফিংয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই তাকে গ্রেফতার করেছে দাবি করে অবিলম্বে মোশারেফ হোসেন খোকনকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

rizb.jpg

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) স্কাইপি বন্ধ করে দেয়ার খবর পাওয়া গোছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিআরসি ইন্টারভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কাইপির সেবা বন্ধ করে দিয়ে এক ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।’

সোমবার রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘ ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারসনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে ইন্টারনেট ভিত্তিক সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন সাহেব বলেছেন-বিএনপি’র মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যের পরপরই সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিআরসি কর্তৃক স্কাইপি বন্ধ করে দেয়াতে আবারও প্রমাণিত হলো-নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী জোটের একচেটিয়া দখলে থাকবে।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নমিনেশন প্রত্যাশীদের সাথে স্কাইপিতে কথা বলা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। কমিশন সচিব এ বিষয়টি নিশ্চিত করার পরও তড়িঘড়ি করে বিটিআরসিকে দিয়ে স্কাইপি বন্ধ করে দেয়া সরকারের নিম্নরুচির পরিচায়ক। সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে নেয়ার জন্য ক্লান্তিহীনভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। বিএনপি’র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তৎপরতাকে বাধা প্রদান করার জন্য সরকার সবধরনের শক্তি প্রয়োগ করছে।’

তিনি বলেন, ‘গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপাসনের কার্যালয়ে ইন্টারনেট ভিত্তিক সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করতেই স্কাইপি বন্ধ করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আওয়াজ ভেসে উঠলেই সরকার মূর্ছা যায়, আর সেজন্যই দুর থেকে ভেসে আসা শব্দকেও আটকানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী সংকীর্ণ রাজনীতির বলয় থেকে কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবে না। সরকার ও সরকার প্রধান ভিন্ন মত, বিরোধী দল, বিরোধী কন্ঠস্বর নীরব করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’

রিজভী আরো বলেন, ‘জনগনের নিরাভিমান আনুগত্যই শেখ হাসিনার কাম্য। যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের ফাঁড়া কাটবে না এবং দেশ থেকে বিপদ দূর হবে না। সরকার কর্তৃক জনাব তারেক রহমানের কন্ঠের আওয়াজকে বাধা দেয়ার অর্থই হচ্ছে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা। আর এজন্য স্কাইপি বন্ধ করা হয়েছে। আসলে সরকার বলপ্রয়োগ করেই ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে, জনগণের সমর্থন নিয়ে নয়। আমি সরকারের এই ন্যাক্কারজনক সংকীর্ণ মানসিকতার ধিক্কার জানাই এবং অবিলম্বে ইন্টারভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যম স্কাইপি খুলে দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। ’

rizvi890.jpg

দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় টেলিভিশনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘টিভি খুললেই দেখছি-অনেক চ্যানেলে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিএম’ এর অ্যাডভারটাইজমেন্ট চলতে থাকে। কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝাও যায় না, বিজ্ঞাপনদাতা কে? কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝা যায় যে, বিজ্ঞাপনদাতা মন্ত্রণালয়।’

বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এ বিজ্ঞাপন তো দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় প্রচারিত হচ্ছে। আর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আওয়ামী লীগ ভোটের সুবিধা নেবে। এটা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগের বিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এসব দেখে না দেখার ভান করছে। অবিলম্বে সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে বিজ্ঞাপণ প্রচার বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া গণমাধ্যমে সকল দলের সমান সুযোগের ব্যবস্থা নিতে আহবান জানাচ্ছি।’

‘নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এ ধরণের বিজ্ঞাপন প্রচারে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না? নির্বাচন সামনে রেখে এখন কেন সরকারি অর্থে এ ধরণের প্রচার চালু রাখা হচ্ছে?’ প্রশ্ন করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলে দাবি করেন রিজভী। এজন্য ভোট কেন্দ্র থেকে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দাবি তার।

গতকাল নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, সাংবাদিকের ব্যাপারে আমাদের একটা নীতিমালা আছে সেই নীতিমালা অনুসারে উনারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে পারবেন অল্প সময়ের জন্য। ছবিও নিতে পারবেন। তবে কেউ সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে রির্টানিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসি এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের খয়ের খাঁ। সরকারের হুকুমে নানা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এমনিতে একের পর এক কালাকানুন তৈরি করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। গণমাধ্যমের উপর চলছে সরকারি নিবর্তনমূলক খড়গ। এছাড়া বিভিন্ন গোয়ন্দা সংস্থা প্রতিনিয়ত মিডিয়াকে ওয়াচ এর নামে ধমকিয়ে যাচ্ছে। ভোট ডাকাতি, কারচুপি ও ভোট সন্ত্রাসের খবর যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্যই গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে এ কঠোর নীতিমালা করা হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘এখনও সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মামলা, বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বাড়িতে বাড়িতে হামলা ও হুমকি ধামকি অব্যাহত আছে। গতকালও একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনা দরকার। কমিশনারের কথায় পরিষ্কার হলো যে, কমিশনের কথা মানছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

রিজভী দাবি করেন, ‘বিতর্কিত কর্মকর্তাদের এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রাখা হয়েছে, যারা গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে সহায়তা করেছে। এছাড়াও দলীয় ক্যাডারদের বেছে বেছে নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচনী প্রশাসন না সাজালে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা মহানগর (উত্তর) শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করার পরও এখনও পর্যন্ত আটকের বিষয়টি স্বীকার করছে না। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এটি একটি পুরনো পদ্ধতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক পারভেজকে আটক করা হলেও তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকারের জন্য পারভেজের পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি অবিলম্বে পারভেজকে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানান।

geaw.jpg

‘নয়াপল্টনে সহিংসতার ঘটনা বিএনপির নির্বাচন বানচাল পরিকল্পনার অংশ’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উল্টো এ ঘটনার পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটা ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কাজ।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইসির প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে, আজকের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন দায়ী, তারা পুলিশকে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া পূর্বপরিকল্পিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির কোন নেতাকর্মী পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়নি। সরকারের পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

রিজভী বলেন, এ সরকার জনবিচ্ছিন্ন, আর তাই ২০১৪ সালে মতো বিনা ভোটে ক্ষমতায় যেতে সব ধরনের য়ড়যন্ত্র করছে। বিরোধী দলকে স্তব্ধ করতে এবং দেশে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, সেজন্য এমন কোন নির্যাতন নেই যা করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে বিএনপির কার্যালয়ে সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হচ্ছেন অথচ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অথচ আজ বিনা উস্কানিতে দলের নেতাকমীদের উপর হামলা হলো।

প্রসঙ্গত, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল কার্যালয়ের সামনে আসে।এ সময় বিএনপির মনোনয়ন ডত্যাশী আরও কয়েকটি মিছিল দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। তখন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুটপাতের দিকে অবস্থান নেওয়ার জন্য রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং তাদের ফুটপাতের দিকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং রাবার বুলেট ছোড়ে। তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।