রোজিনা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Hasan6.jpg

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘গত ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক রোজিনার ঘটনাকে পুঁজি করে দেশবিরোধী চিহ্নিত মহল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। কারো কর্মকাণ্ড যেন তাদের হাতে অস্ত্র তুলে না দেয়।’

শনিবার মন্ত্রী তার মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে টিভি নাট্যপরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। গিল্ডের সভাপতি সালাহউদ্দীন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান সাগরসহ নির্বাহী সদস্যবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রোজিনার ঘটনাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে এবং দেশবিরোধী মহল এটি নিয়ে অতি তৎপর হয়ে উঠেছে। আপনারা দেখেছেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফিলিস্তিনে নারী-শিশুসহ শতশত প্রাণহানি ঘটার পর বিবৃতি দিতে অনেকদিন সময় লাগলেও বিচারাধীন রোজিনা ইস্যুতে তারা পরদিনই বক্তব্য দিলো।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশবিরোধী বিভিন্ন চক্র যারা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, কুৎসা রটায়, মিথ্যা অপপ্রচার চালায়, তাদেরও সক্রিয় হতে দেখা গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মুশফিক ফজল জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গিয়ে একটি প্রশ্ন করে এক কর্মকর্তার কাছে থেকে সার্বজনীন গণমাধ্যম বিষয়ক একটি জবাব আদায় করেছে। সেই বক্তব্যকেই রোজিনার বিষয়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টার করেছে। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য আর জাতিসংঘের উদ্বেগ এক নয়।’

‘মন্ত্রী, সচিব বা রোজিনা ইসলাম কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন’ স্মরণ করিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের কোনো কর্মকাণ্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশবিরোধীরা যাতে দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শিক্ষা উপমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মতের অমিল হলেই কাউকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা কখনোই সমীচীন নয়।

পরে মন্ত্রী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রোজিনার বিষয়টি আবেগতাড়িতভাবে না দেখে বাস্তবতার নিরিখে দেখার আহ্বান জানান। বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. আবদুল মজিদ, সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসেন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিরেক্টরস গিল্ডের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহ-সভাপতি ত্রয় মাসুম আজিজ, ফরিদুল হাসান, রফিকুল্লাহ সেলিম, যুগ্ম সম্পাদকদ্বয় পিকলু চৌধুরী, ফিরোজ খান, অর্থ সম্পাদক সাজ্জাদ সনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরারী অমিত, প্রচার সম্পাদক সহিদ উন নবী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোস্তফা মনন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আনিসুল হক ইমেল, আইন সম্পাদক মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মুকতাদির শান ও নির্বাহী সদস্যবৃন্দ মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে যোগ দেন।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যেন ন্যায়বিচার পায় সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আর এ বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় মিন্টু রোডে মন্ত্রীর বাসভবনে রোজিনা ইসলাম প্রসঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যাতে ন্যায়বিচার পান সেটি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হবে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে, রোজিনা ইসলামেরও ভুল হতে পারে। বিষয়টি আবেগের সঙ্গে না দেখে বাস্তবতা প্রেক্ষিতে দেখতে হবে। কেউই ভুলের  ঊর্ধ্বে নয়।

এর আগে এদিন সকালে সময়নিউজকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মামলার তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে।

মামলা তদন্ত করতে কোনো চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা তদন্ত করতে কোনো জায়গা থেকে কোনো চাপ নেই।

এদিকে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি হবে আজ। তবে আদালতে হাজির না করে শুনানি কার্যক্রম ভার্চুয়ালি হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) সময় নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু।

বুধবার (১৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় সাংবাদিক নেতারা তার মুক্তি দাবি জানান।

এদিকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার (১৮ মে) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিককে হয়রানি ও গ্রেপ্তারসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ কথা বলেন।

newsrozina.jpg

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করেন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। নির্যাতনের পর শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে রোজিনাকে তুলে দেওয়া হয়। রাত ১২টার পর তার বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের খবর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাংবাদিককে গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের এই ঘটনায় বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের চেষ্টাও বলে উল্লেখ করা হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ‘দুর্নীতি প্রকাশকারী হিসেবে পরিচিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি দুর্নীতির বিষয়ে শক্তিশালী প্রতিবেদন তৈরির জন্য বাংলাদেশে পরিচিত এক সাংবাদিককে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস আইন লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই আইনে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১৪ বছরের কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিধান রয়েছে।

আল-জাজিরা ‘রোজিনা ইসলাম: কোভিড প্রতিবেদনের জন্য বাংলাদেশে সাংবাদিক গ্রেপ্তার’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন নারী সাংবাদিক। তাকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির শতশত সাংবাদিক প্রতিবাদ শুরু করেছেন।

ভারতীয় সরকারি বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বলছে, বাংলাদেশের অনুসন্ধানী প্রতিবেদককে ঔপনিবেশিক আমলের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টও রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯২৩ সালের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনের আওতায় সোমবার মধ্যরাতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার রোজিনা ইসলাম পুলিশি হেফাজতে সোমবার রাত কাটিয়েছেন। এছাড়াও সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারের খবর ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু, মধ্যপ্রাচ্যের দৈনিক গালফ নিউজ, এবিসি নিউজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইস্টারন্যাশনাল, নিউইয়র্কভিত্তিক দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (জিআইজেএন) সংগঠনগুলো রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছে।

monir444.jpg

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার কথা জানিয়েছে তার পরিবার। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম, সহকারী সচিব জাকিয়া পারভীন, পুলিশ কনস্টেবল মিজানসহ যারা জড়িত ছিলেন তাদের নামে মামলা করব। আমরা আমাদের উকিলের সাথে কথা বলেছি। তিনি আসার পর তার সাথে আলোচনা করে মামলা করব।’

গতকাল সোমবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে সেখানকার কর্মকর্তারা রোজিনা ইসলামকে অবরুদ্ধ করেন। পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর তাকে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়। রাতে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়। রাত ১১টার পর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গোপনীয় নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার’ অভিযোগ আনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় বলা হয়, বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে সচিবের একান্ত সচিবের দপ্তরে ঢোকেন। তখন একান্ত সচিব দাপ্তরিক কাজে সচিবের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় রোজিনা ইসলাম দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি তোলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা বিকেলে সচিবালয়ে এবং রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা রোজিনা ইসলামকে ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া এর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন।

journalist_rozina.jpg

অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলায় গ্রেপ্তার প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার তার জামিনের বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

বিচারক শুনানি শেষে রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রোজিনা ইসলামের পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে ৮টার দিকে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানা থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে রোজিনা ইসলামকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সরানো ও মোবাইলে নথির ছবি তোলার’ অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির বাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী।

sa4.jpg

আপনি অনেক নিউজ করেছেন অনেক লেখালেখি করেছেন আপনাকে এখন মাটিতে পুঁতে ফেলব। সোমবার (১৭ মে) প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকিয়ে রেখে এভাবে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার ছোট বোন সাবিনা ইয়াসমিন জুলি।

সোমবার (১৭ মে) রাতে বোনের সঙ্গে দেখা করে রাজধানীর শাহবাগ থানায় তিনি সাংবাদিকদের সাবিনা ইয়াসমিন জুলি এসব কথা বলেন। সাবিনা ইয়াসমিন জুলি বলেন, রোজিনা ইসলাম আমার বড় বোন। আমি প্রথম জানতাম না কি হয়েছে। পরে থানায় এসে আপার সঙ্গে কথা বলে সব শুনেছি। বোন আজকে টিকা নিয়েছে সে খুব অসুস্থ। এখন দেখলাম তার গায়ে অনেক জ্বর। টিকা নেওয়ার পর সচিবালয়ে যায়। সেখানে তার সঙ্গে সোর্সের দেখা করতে। দেখা হওয়ার পর সোর্স আমার বোনকে কিছু ডকুমেন্ট দেয়।

তিনি বলেন, ডকুমেন্ট পাওয়ার পর তখন তিনি স্বাস্থ্য সচিবের রুমে যাওয়ার জন্য বাইরে অপেক্ষমাণ কনস্টেবল মিজানকে জিজ্ঞেস করে ভিতরে কেউ আছে কি-না। তখন মিজান বোনকে বলে ভেতরে কেউ নেই, আপনি ভেতরে গিয়ে বসেন। তখন আমার বোন বলে আমি ভেতর যাব না, আমি তথ্য নিতে এসেছিলাম। তারপর মিজান বলে, আপনি রুমের ভেতর বসেন। স্যার এখনি চলে আসবেন। এই কথা বলে মিজান আমার বোনকে রুমের ভেতরে বাসায়।

রোজিনা ইসলামের ছোট বোন বলেন, কক্ষে বসে আপা একটি পত্রিকা পড়ছিলেন। তখন কনস্টেবল মিজানসহ আরও কয়েকজন আপার ব্যাগ কেড়ে নেয়। তখন তারা বোনকে হুমকি দিয়ে বলে এতদিন অনেক নিউজ ও লেখালেখি করেছেন আপনাকে মাটির মধ্যে পুঁতে ফেলব। পরে বোনকে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়।

তিনি বলেন, আমার বোন পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাকে অনেক হয়রানি করা হয়েছে। কনস্টেবল মিজানসহ ছয়-সাত জন আপাকে ঘিরে রাখে। মিজান তাকে মারতে গিয়েছিল। পরে তারা আমার আপার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে তারা বোনের ব্যাগের মধ্যে কিছু কাগজ ঢুকিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।

কোন পর্যায়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ব্যাগের ভেতরে কাগজ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সাবিনা ইয়াসমিন জুলি বলেন, এত কিছু আমি বলতে পারব না। যেহেতু আমি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত নই। ব্যাগের মধ্যে কাগজ ঢুকিয়ে দিয়ে তারা বলে আমরা দেখে নেব।

সাবিনা ইয়াসমিন জুলি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের কিছু অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করার পর থেকে বোনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এখন বোনের শারীরিক অবস্থা ভালো না। আমার বোনের চিকিৎসার প্রয়োজন। তাকে যদি এখন চিকিৎসা দেওয়া না হয় তাহলে তার শরীরটা আরও খারাপ হয়ে যাবে। আমরা খুবই উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।