শিক্ষামন্ত্রী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

dipumoni5.jpg

করোনাভাইরাসের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে ফল দেয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেছেন, এসএসসি ও জেএসসির রেজাল্ট নিয়েই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সেক্ষেত্রে এসএসসির ফল ৭৫ শতাংশ এবং জেএসসি ২৫ শতাংশ গুরুত্ব পেতে পারে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ শিক্ষামন্ত্রী বলেন।

এ সময় মাধ্যমিকে ভর্তির বিষয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ভর্তির সময় চলে এসেছে।

তবে চলতি বছর আগের নিয়মে ভর্তি সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তিনটি বিকল্প থেকে একটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা স্কুলে ভর্তির জন্য তিন বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে প্রথমটি সরাসরি স্কুলে এনে ভর্তি করা। তবে এ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না।

পদ্ধতির কথাও চিন্তা করেছি। দ্বিতীয় বিকল্প অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া, এটি করা গেলে নিরাপদ হবে।

তবে সবার ডিভাইস নেই। আবার সংযোগের সমস্যা আছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তৃতীয় বিকল্প হলো লটারির মাধ্যমে ভর্তি। এবার লটারির মাধ্যমেই ভর্তি করা হবে। ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।

যোগ্যতাভিত্তিক হবে না। এতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।

নীতিমালায় ঢাকায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে।

education-ministry-5de7ddcc75812.jpg

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও কারিগরি শিক্ষার পরীক্ষাগুলো আগামী এক মাস পর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কারিগরি শিক্ষা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব পরীক্ষাগুলো আটকে রয়েছে সে সব পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আশাকরি মাসখানেক পরেই পরীক্ষাগুলো নিয়ে নিতে পারবো। এসব পরীক্ষার পরীক্ষার্থী কম। সারাদেশে একেক কেন্দ্রে ভাগ ভাগ করে আমরা পরীক্ষাগুলো নিতে পারবো পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনার প্রস্তুতি নেন মাসখানেক। চূড়ান্ত পর্যায়ে অটোপাস দেওয়া সম্ভব না।

এইসএসসি অটোপাস হয়েছে তাতে অনেকে লিখেছেন, অটোপাস দিতে হবে। মনে রাখতে হবে আরও একটি পরীক্ষা দিয়ে তাদের ভর্তি হতে হবে।

হয়তো অনেকে এখানেই শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন।

তাই পরীক্ষাগুলো ছাড়া আপনাদের অটোপাস দেওয়া হয়, তাহলে কর্মজীবনে বাধা সৃষ্টি হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা যাতে প্রস্তুতি নিতে পারেন সে কারণে মাসখানেক সময় দিয়েই সূচি ঘোষণা করা হবে।

করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা আছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনালের কিছু পরীক্ষা হয়নি।

কারিগরিতেও কিছু পরীক্ষা বাকি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

Dipu-moni.jpg

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে সে বিষয়ে বুধবার (২৫ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এ সময় দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এম এ খায়ের গণমাধ্যমকে মঙ্গলবার এ বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় তিনি বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তির বিষয়ে বুধবার দুপুর ১২টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন। চলমান মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে ভর্তি হবে সেসব নিয়ে মন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

জানা গেছে, প্রতি বছর প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়।

তবে করোনার কারণে নতুন শিক্ষাবর্ষে (২০২১ সালে) ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে লটারির মাধ্যমে সব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ফরম বিক্রি করা হবে। এরপর তা যাচাই-বাছাই করে লটারির জন্য নির্বাচন করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

একাধিক ধাপে লটারির আয়োজন করে ভর্তি করা হবে শিক্ষার্থী। লটারির ফলাফল স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মমিনুল রশিদ বলেন, বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে সকল স্তরে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

করোনার ঝুঁকি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এ পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভর্তি নীতিমালা জারি করা হতে পারে।

dipu-moni-24-11-2020.jpg

গবেষণার ক্ষেত্রে ‘কাট-পেস্ট’ আমাদের একটি বড় রোগে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) আয়োজিত একটি সফটওয়্যার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট আসার পর থেকে গবেষণার ক্ষেত্রে ‘কাট-পেস্ট’ আমাদের একটা বড় রোগে পরিণত হয়েছে।

এ কাজটি করতে গিয়ে অনেকে পুরো প্যারাগ্রাফটি হুবহু তুলে দেন। এতে যেখান থেকে প্যারাটি নেওয়া হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানের নামও চলে আসে।

অনেক সময়ই এই ঘটনা ঘটে। আমাদের উচিত মৌলিক কিছু করা, সৃজনশীল কিছু সৃষ্টি করা। সকলকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গবেষণা অনেক বড় বিষয়। দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিষয়ে ভালো গবেষণা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের ভাষাগত দুর্বলতা আছে।

যার কারণে অনেক ভালো গবেষণাও বড় জায়গায় পৌঁছায় না। শুধু যে ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা আছে তা নয়, বাংলা ভাষাতেও অমাদের অনেক দুর্বলতা আছে। আর এর মূল সমস্যা হচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে ডা. দীপু মনি আরো বলেন, এটি আমাদের জন্য খুব প্রয়োজন।

আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষা দুটোই প্রয়োজন রয়েছে। এই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

dipu-moni-20190217192625.jpg

নতুন কারিকুলামে নবম ও দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ থাকছে না, হবে সমন্বিত কারিকুলাম।

এটি কার্যকর হবে ২০২২ সালে। জাতীয় সংসদে এমনটিই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

একাদশ জাতীয় সংসদের দশম (মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ) অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে বক্তব্য দেয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, আপনারা জানেন যে আমাদের কারিকুলামের পুরো পর্যালোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরিই চূড়ান্ত রূপটি প্রকাশ করব।

সেখানে কিন্তু আমাদের সকল ধরনের শিক্ষাতে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসা এই বিভাগগুলো নবম-দশম শ্রেণিতে আর রাখছি না।

সকল শিক্ষার্থী সব ধরনের শিক্ষা নিয়ে স্কুলের ১০টি বছর শেষ করবে।

নতুন পাঠ্যক্রম ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে’ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাতে বাংলাদেশের ইতিহাস, আমাদের ইতিহাস-সংস্কৃতি তাকে মূল উপজীব্য করেই, আমাদের একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলা করা, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন… বঙ্গবন্ধু যে সোনার মানুষ চেয়েছিলেন সেই সোনার মানুষ গড়তে কারিকুলাম হবে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়।

এদিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষামন্ত্রী জানান, করোনা মহামারির কারণে সহসাই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে সরকার বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।

dipumoni88.jpg

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনার কারণে আমাদের শিক্ষা খাত নানা রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। কিন্তু এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা সরকার ভাবছে না।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে ফিজিক্যাল ডিসটেন্স মেইনটেইন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ।

পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিশুদের সাথে তাদের অভিভাবকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেতে হয়। সে ক্ষেত্রে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

দীপু মনি বলেন, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধি পেতে পারে।

অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানসম্মত শিক্ষা অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমস্ত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও করোনার কারণে এবছরের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস সমাপ্ত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তাছাড়া কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসসমূহ অনলাইনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের শিশুরা সাইকলজিক্যাল বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে।

তিনি আরো বলেন, করোনায় শিক্ষাখাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সহায়তা করেছে।

করোনা পরিস্থিতে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না।

তাই সরকার এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করছে।

সভায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো করোনাকালীন সময়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম ও অনলাইন ক্লাস চালু করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মতবিনিময় সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

dipumoni5.jpg

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে নিতে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় রাজি হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) এক বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে উদ্ধৃত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি নিরসন, আর্থিক সাশ্রয় ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে আবাসনের সমস্যা নিরসনে দীর্ঘদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এবার বিশাল সংখ্যক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গণপরিবহনে ব্যাপক যাতায়াতের ফলে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা রোধে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তাদের ঐকমত্যের কথা জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতিও এ বিষয়ে তার অভিপ্রায় স্পষ্ট করে ব্যক্ত করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে রোববার চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করে তাদের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে নিয়ে এ সভা হয়।

Dipu-moni.jpg

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, অনার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া ডিগ্রি দেয়া ঠিক হবে না।

কারণ এই ডিগ্রি নিয়ে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন। এক্ষেত্রে তাদের কর্মক্ষেত্রেও অন্যভাবে দেখা হতে পারে। এ পরীক্ষা কীভাবে নেয়া হবে তা ভেবে দেখা হবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনার্সের শিক্ষার্থীরা জানান তাদের কিছু পরীক্ষা হয়ে গেছে। কিছু পরীক্ষা বাকি।

তারা অটোপাসের দাবি জানান, সার্বিক বিবেচনায় অনার্সের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া ঠিক হবে না।

তাদের পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত করা হবে নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে নেয়া হবে তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সাধারণ বিষয়ে পরীক্ষা ছাড়া ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হলেও কারিগরি শিক্ষায় তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

কারিগরি শিক্ষার্থীদের খাতা-কলমে লেখার চেয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

সেটি না শিখলে তাকে পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেয়া হবে।

কারিগরি স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আট মাস ধরে কারিগরি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে আছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে। এরপর তাদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল প্রকাশ হবে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় ডিপ্লোমাধারীরা কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছে না। দীর্ঘ সময় এ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

তাদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা আয়োজনের কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কারিগরির সব স্তরের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করা হবে।

dipumoni5.jpg

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, ইবতেদায়ি সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

সবশেষ করোনা পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষাও হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

একইসঙ্গে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

বুধবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আরো পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে আমরা যথাসময়ে পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করবো। এজন্য যার যেখানে অ্যাকসেস আছে ধরে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। ’

‘প্রয়োজন হলে পেছানো হবে, তবে পরীক্ষা হবে’ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি আগামী বছর করোনা পরিস্থিতি ভালো হবে। সে আলোকে পরীক্ষার জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আরো বলেন, ‘করোনার কারণে চলতি বছরের মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন পদ্ধতির এক মাসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সে অনুযায়ী, মাধ্যমিকে চারটি সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাধ্যমিকে এবারের বার্ষিক পরীক্ষাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, এ বছর কোন পরীক্ষা নয়। এই মূল্যায়নটা শিক্ষার্থীদের অবস্থাটা বোঝার জন্য। তাদের দুর্বলতা জানার জন্য। এ বছর বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না।’

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘মূল্যায়নের কোনো চাপ সৃষ্টি করা হবে না। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এনসিটিবি ৩০ কর্মদিবসের সিলেবাস প্রণয়ন করেছে।

এগুলো পরবর্তী ক্লাসের জন্য কাজ করবে। সব প্রধান শিক্ষকের নিকট এটি পাঠাবো হবে। এ সংক্রান্ত অ্যাসাইনমেন্ট পৌছে দেয়া হবে।

শিক্ষার্থীরা প্রতি সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করবে। এগুলো অনলাইনেও নেয়া যাবে।

এ সময়ে অন্য কোন কার্যক্রম চলবে না। শিক্ষার্থীদের যেখানে দুর্বলতা থাকবে, সেগুলো পরবর্তী শ্রেণির ক্লাসে পূরণ করা হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাস চালু করেছি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে।

সবাই এর উন্নতিতে কাজ করছে। তবে এটা ঠিক, সবার প্রয়োজনীয় ডিভাইস না থাকায় সমস্যা থাকছে। তবে শিক্ষকরা মোবাইলে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। সবার কাছে নতুন বই আছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার মনোভাব ও ক্লাসে আগ্রহ আছে। একজনের ডিভাইসে বন্ধুরাও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

নভেম্বরের মধ্যে অনেকে সিলেবাস শেষ করতে পারবে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পাঠ্যবই পড়তে পারবে। তাদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

যাদের অ্যাকসেস ছিল না, তাদেরও ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। নানাভাবে তাদের গ্যাপগুলো পূরণ করা হবে।’

ssc4t5.jpg

চলতি বছরের বার্ষিক পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ডা. দীপু মনি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করতে এনসিটিবি নতুন করে একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করেছে।

এর আলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। এটি মূল্যায়নের মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে।

দীপু মনি আরও বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণয়ন করা সিলেবাস থেকে চারটি অ্যাসাইনমেন্ট এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ সিলেবাসটি এনটিসিটির মাধ্যমে দেশের সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হবে।

শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বা খাতায় লিখে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারবে।

ভার্চুয়াল এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক গোলাম ফারুক চৌধুরী এবং শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। যদিও এ মুহূর্তে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

টানা ৭ মাস ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এ বছর বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষাও না নেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এর পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চলমান মহামারি করোনার কারণে সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা।

জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের গড়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে এবারের এইচএসসির ফল।

গত ৭ অক্টোবর দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।