শিক্ষিকা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

dilara-20190403194735.jpg

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দারের অপসারণ, গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকালে উপজেলা চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিকে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন সাংবাদিকরা। গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে গেলেন শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এরই মধ্যে ফেসবুকে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্ট করে মন্তব্য করেন।

এসব বিষয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার-প্রকাশিত হয়। তার এসব অনিয়মের তদন্ত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দফতর।

এরই মধ্যে শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক অনিয়ম করেই চলছেন তিনি।

ফলে শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তার অপসারণ চেয়ে রাস্তায় নামেন তারা। প্রতিবাদে মানববন্ধন ডাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বুধবারের মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। শৈলকুপা থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক ডাকুয়া’ পত্রিকার সম্পাদক শামিম বিন সাত্তার বাদী হয়ে রোববার মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শৈলকুপা থানা পুলিশের এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

মামলার বাদী শামিম বিন সাত্তার বলেন, গত বছর শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের দুর্নীতির খবর বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভিতে প্রচার হয়। এরপর তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। স্কুলের নামে পরিচালিত ফেসবুক আইডি থেকে তিন সাংবাদিকের ছবিসহ একটি মানহানিকর পোস্ট দেন।

ওই পোস্টে ঝিনাইদহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল, ডিবিসির ঝিনাইদহ প্রতিনিধি আব্দুর রহমান মিল্টন ও আমার ছবি ব্যবহার করেন এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন শিক্ষিকা দিলারা।

শামিম বিন সাত্তার আরও বলেন, এ ঘটনায় সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল ঝিনাইদহ সদর থানায় জিডি করেন। জিডির পর ফেসবুক থেকে আপত্তিকর পোস্টটি সরিয়ে নেন দিলারা ইয়াসমিন। জিডির তদন্ত করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পান শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী। তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পর পুলিশ সদর দফতর থেকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়। গত ২০ মার্চ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানের পাঠানো চিঠির আলোকে রোববার শৈলকুপা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করি আমি।

এসব বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কর্মস্থলে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। তিনি কোথায় গেছেন তা জানেন না কেউ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শৈলকুপা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আইয়ুবুর রহমান বলেন, শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। এ অবস্থায় গাঢাকা দিয়েছেন শিক্ষিকা দিলারা। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন সাংবাদিকরা। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।

teacch.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের একজন শিক্ষিকা জোর করে তার ছাত্রের চুল কেটে দেয়ায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় ওই শিক্ষিকা জোর করে তার চুল কেটে দিচ্ছেন। খবর বিবিসির।

পঞ্চাশোর্ধ ওই শিক্ষিকার নাম মার্গারেট জিসজিঞ্জার । তিনি এই অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ভিসালিয়ার ইউনিভার্সিটি প্রিপারেটরি হাই স্কুলে তার চাকরিটিও হারিয়েছেন।

কৌঁসুলিরা বলছেন, তিনি দোষী নন বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, প্রহারসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয় । যার জন্য তার সাড়ে তিন বছরের জেল হতে পারে। জিসজিঞ্জার এক লাখ ডলার মুচলেকা দিয়ে শুক্রবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও রেডিট-এ পোস্ট করা হলে তাতে দেখা যায় বিজ্ঞানের শিক্ষক মার্গারেট এক ছাত্রকে শ্রেণীকক্ষের একেবারে সামনের দিকে এসে বসতে বলেন। তিনি তারপর তার কয়েক মুঠো চুল কেটে দেন। ওই সময় শিক্ষার্থীরা ভুল সুরে জাতীয় সংগীত গাইছিল।

ছাত্রটির পক্ষের আইনজীবী সিএনএনকে বলেছেন, নিষ্কৃতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার মক্কেল ‘সম্পূর্ণ আতঙ্কগ্রস্ত’ হয়ে পড়েছিল। এরপর জিসজিঞ্জার নিজের মাথার ওপরে কাঁচি উঁচু করে ধরে এবং বলতে থাকে ‘এরপর!’ এরপর সে কোন মেয়ে শিক্ষার্থীর চুল কাটার হুমকি দেয়।

এই ঘটনার পর টুলারে কাউন্টি অফিসের শিক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা তার বিবৃতিতে বলেন, ‘ক্লাসরুমে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।

aritry-20181206012044.jpg

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।ডিবি পূর্ব বিভাগের (মতিঝিল) সহকারী কমিশনার আতিকের নেতৃত্বে ওই শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার খন্দকার নুরুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

সহকারী কমিশনার আতিক জানান, শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার শিফট ইনচার্জ জিনাত আখতার ও প্রভাতী শাখার শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রির বাবা।

এ ঘটনায় ভিকারুননিসার শিক্ষক আতাউর রহমান, খুরশিদ জাহান এবং গভর্নিং বডির সদস্য ফেরদৌসী বেগমকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি।

মঙ্গলবার দুপুরে অরিত্রি কেন আত্মহত্যা করেছে এর কারণ খুঁজতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কমিটিতে একজন অতিরিক্ত শিক্ষা সচিব, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী এবং বিচারক রাখার কথা বলা হয়। তারা অরিত্রি আত্মহত্যার ঘটনা এবং সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ রকম ঘটনা তদন্ত করে কারা দায়ী এগুলো খুঁজে বের করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেবেন।

অরিত্রির আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তারা বাবা দিলীপ অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গত রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি।