শ্রীলঙ্কা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

bd-women-20190905182319.jpg

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে। শ্রীলঙ্কাকে টপকে আট নম্বরে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৬১।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে টপকে আটে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। লঙ্কান নারীরা ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে নবম স্থানে।

র‍্যাঙ্কিয়ে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকারও। একধাপ এগিয়ে ১০৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থস্থানে আছে তারা।

প্রোটিয়া নারীদের উন্নতিতে পঞ্চমস্থানে নেমে যেতে হয়েছে নিউজিল্যান্ড নারী দলকে।

এছাড়া র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে কোনো পরিবর্তন নেই। ১৬০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া, ১২১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছে ভারত। দুই পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয়স্থানে ইংল্যান্ড।

নারীদের ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রকাশ করেছে আইসিসি। এই তালিকায় আগের মতোই নবমস্থানে আছে বাংলাদেশ, রেটিং পয়েন্ট ১৯২।

এক ধাপ উন্নতি নিয়ে তৃতীয়স্থানে উঠে এসেছে ভারত, ২৭০ পয়েন্ট। তাদের উন্নতিতে চতুর্থস্থানে নেমে গেছে নিউজিল্যান্ড। এ ছাড়া শীর্ষ দশে আর কোনো পরিবর্তন নেই।

আগের মতোই শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয়স্থানে ইংল্যান্ড। আর পাঁচ নম্বরে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য বাংলাদেশের ওপরে শ্রীলঙ্কা, অষ্টমস্থানে।

bd-sl-235839.jpg

শ্রীলঙ্কান কোভিড টাস্কফোর্সের দেয়া শর্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড না মানলে, এ মুহূর্তে সিরিজ আয়োজন সম্ভব হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীলঙ্কান গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কোভিড টাস্কফোর্সের দেয়া শর্ত শিথিলের জন্য বিসিবির করা অনুরোধ মানা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অ্যাশলে ডি সিলভা বলেন, দেখুন, আমাদের কোভিড টাস্কফোর্স এ বিষয়ে একেবারেই নমনীয় হবে না।

আমরা অনেক আলোচনা করেছি, কিন্তু বিসিবির অনুরোধ কোনোভাবেই তারা মানতে চাইছে না।

আমরা আপাতত বাংলাদেশকে জানিয়ে দিবো, কোভিড টাস্কফোর্সের দেয়া শর্তগুলো মানতেই হবে। এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।

আর শর্ত না মানতে না চাইলে, আপাতত সিরিজ স্থগিত করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।

আশা করবো, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা হয়তো সিরিজটি আয়োজন করতে পারবো।

এর আগে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন এবং ওই সময়ে অনুশীলনে নিষেধাজ্ঞা সহ বেশকিছু শর্ত বেঁধে দেয় লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি ছিল, কোয়ারেন্টিন ৭ দিনে নামিয়ে আনা। একইসঙ্গে কোয়ারেন্টিন চলাকালীন অনুশীলনের দাবি জানায় বিসিবি।

লঙ্কান বোর্ডের দেয়া এত শর্ত মেনে সফর করা সম্ভব নয় বলে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে হুঁশিয়ারি দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

এরপর কিছুটা নমনীয় হয় লঙ্কান বোর্ড। বেশ কয়েকদফা দেশটির কোভিড টাস্কফোর্সের সঙ্গে বৈঠকেও বসেন বোর্ড কর্তারা।

অবশেষে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল তারা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দুই দলের টেস্ট সিরিজটি।

srilanka-1.jpg

শ্রীলঙ্কার কয়েকটি যুগল ছবি বাংলাদেশের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ছবিগুলো সামাজিকমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে, যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিংহলিজ ভাষায় একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার যুগলের নাম লিখে ছবিগুলো পোস্ট করেন, এবং বলেন এ ধরনের ছবি তুলতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

নেট জনতার ছবিগুলো কারণবশত পছন্দ হয়ে যায়, যার কারণে ক্রমশ শেয়ার করতেই থাকে।

যার ফলে শ্রীলঙ্কা থেকে দেশীয় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের হোম পেইজ দখল করতে থাকে। ছবির যুগলের নাম যথাক্রমে নেথমি ও বুড্ডিকা।

ছবিগুলো ‘পোস্ট উইডিং ফটোগ্রাফি’। অর্থাৎ বিবাহ-পরবর্তী ফটোসেশনের ছবি এসব।

ছবিগুলোর মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, সিংহলিজ ভাষায় অসংখ্য নেটিজেন এই জুটির জন্য বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।

থারুসা নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘কেন এমন ছবি ফেসবুকে দিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত দাও।’

একজন বলেছেন, ‘স্কুলে যাওয়ার বয়সে এই ছেলে-মেয়ে বিয়ে করেছে।’

একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমি এই ভাইকে চিনি। সে শুধু টাটকা সবজি খায়, তাই ২৮ বছর বয়সেও তাকে বাচ্চাদের মতো দেখায়।

আপনারা তাচ্ছিল্য করছেন বলেই আমি মন্তব্য করলাম।’

একজন ফটোগ্রাফারকে উদ্দেশ করে বলছেন, ভাই তুমি তাদের ফটোশুটের টাকা ফেরত দাও, কারণ তোমার এক হাজার লাইকের পেইজ তারা ভাইরাল করে দিয়ে এখন ১৫ হাজারেরও বেশি করে দিয়েছে।

ভারতীয় ও দেশীয় নেটিজেনদের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ‘অনেকেই অপরিণত বিয়ে মনে করে ছবিগুলো শেয়ার করছেন। কিংবা এই জুটিকে অনেকেই বেমানান মনে করছেন।’

ছবিগুলোর নিচে অর্শি নামের এক বাংলাদেশি তরুণী মন্তব্য করেছেন, ‘যাক, এটা দেখে শান্তি লাগছে যে অন্য দেশের মানুষদেরও এগুলো দেখে জ্বলে।’

এক বাংলাদেশি তরুণ লিখেছেন, ‘ওকে বাই, আমি ডিপ্রেশনে গেলাম।’ লুইস নামের এক ভারতীয় তরুণ লিখেছেন, ‘এটা কি বাল্যবিবাহ?’

অর্থাৎ এই যুগল ছবিকে তারা বিভিন্ন অর্থে শেয়ার করছেন। তবে অবশ্য খুবই কমসংখ্যক ইতিবাচক অর্থে শেয়ার হচ্ছে।

কেননা মন্তব্যের ঘর নেতিবাচকতায় পরিপূর্ণ।

ছবিগুলো যে শুধু বাংলাদেশের নেটিজেনরাই শেয়ার করছেন তা নয়, শ্রীলঙ্কা, ভারতের নেটিজেনরাও সমানতালে শেয়ার ও মন্তব্য করে চলেছেন।

bd-sl-235839.jpg

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের পাপনের কড়া হুঁশিয়ারির পর এবার নমনীয় হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

এক টুইটারে দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, সিরিজটির বিষয়ে নতুন করে ভাবার জন্য বোর্ডকে জানাবেন তিনি।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অক্টোবর-নভেম্বরে ৩ টেস্টের একটি সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের।

তবে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের একের পর এক বেঁধে দেয়া শর্তে সিরিজটি পড়েছে অনিশ্চয়তার মুখে।

বিসিবির দাবি, দুই বোর্ডের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় ৭ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

তবে সেটি অস্বীকার করে লঙ্কান বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, টাইগারদেরকে দেশটিতে গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে ১৪দিন।

এছাড়া আগের আলোচনা অনুযায়ী, কোয়ারেন্টিন চলাকালীন অনুশীলনের সুযোগ থাকলেও, লঙ্কান বোর্ড দাবি করছে, এই ২ সপ্তাহে অনুশীলন করতে পারবেনা ক্রিকেটাররা।

লঙ্কানদের বেঁধে দেয়া এতো শর্ত মানতে নারাজ বিসিবি। বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে করা বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, ওদের এতো শর্ত মেনে টেস্ট সিরিজ খেলা সম্ভব না।

লঙ্কান বোর্ডের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের দেয়া শর্ত বা কন্ডিশনসমূহ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

বিসিবি সভাপতির এমন কড়া জবাবের পর, কিছুটা নমনীয় হচ্ছে লঙ্কানরা। অন্ততঃ দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীর টুইট বলছে এমনটাই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী নামাল রাজাপাকসে লিখেছেন, শ্রীলঙ্কায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।

তবে, ক্রিকেটের স্বার্থে বিসিবির চাহিদা আমলে নিয়ে শর্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডকে বলবো।

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন জবাব এখনো আসেনি। ২-১ দিনের মধ্যে ওদের জবাবের আশা করছে বিসিবি।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশটিতে সফর করার কথা ছিল টাইগারদের।

michel-awan-lebanon.jpg

বৈরুতে গত ৪ আগস্ট বিস্ফোরণে ১৯০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়৷

আহত হন অনেকে৷ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার যে চা পাতা পাঠিয়েছিল তা নিয়ে এখন লেবাননের রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত৷

লেবাননে বিভিন্ন দেশে থেকে আসা গৃহকর্মীদের বড় একটি অংশ শ্রীলঙ্কার নাগরিক৷ তাই দেশটির বিপদে তাড়াতাড়িই পাশে দাঁড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কা৷

প্রেসিডেন্ট আওন লেবাননে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতের কাছে থেকে ১,৬৭৫ কেজি চা -পাতা গ্রহণ করছেন- এমন একটি ছবি গত ২৪ আগস্ট লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়৷

লেবাননের সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া চা-পাতা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করায় এক বিবৃতিতে বলা হয়, চা-পাতার জন্য প্রেসিডেন্ট আওন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, চা পাতা সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে এবং তাঁর নিরাপত্তা কর্মীদের পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে৷

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেওয়া চা-পাতা নিরাপত্তা কর্মীদের পরিবারকে বিলিয়ে দেওয়ায় প্রেসিডন্টকে ‘চা-চোর’, ‘সিলোন চা হ্যাশট্যাগ’ ইত্যাদি নাম দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সমালোচনার ঝড় তোলা হচ্ছে৷

বিস্ফোরণের পর পদত্যাগ করা সংসদ পাওলা ইয়াকুবিয়ান টুইটারে চা পাতা নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেন৷

burqa-20190424133723.jpg

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সে দেশে বোরকা নিষিদ্ধ করার পর এবার ভারতে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে উগ্রপন্থি হিন্দু দল শিব সেনা। এই ইস্যুতে তারা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে কেন্দ্রের মোদী সরকারের কাছে।

বুধবার (১ মে) দলের মুখপত্র ‘সামনা’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এই দাবি পেশ করেন শিব সেনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসের কারণে শ্রীলঙ্কার দেখানো পথেই হাঁটুক ভারত। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে দলটি প্রশ্ন করে, যদি রাবনের দেশ হয়ে শ্রীলঙ্কা বোরকা নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে রামের দেশ কেন সেই পদক্ষেপ নিচ্ছে না?

শিব সেনা বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকাশ্যে বোরকা নিষিদ্ধ করা হোক।

শ্রীলঙ্কার ওই পদক্ষেপের প্রশংসা করে শিব সেনা বলেছে, বোরকা নিষিদ্ধ করে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা।

শিব সেনার দাবি, মুসলমানরা ধর্মের নিহিত অর্থ না বুঝে বোরকা, তিন তালাকের মতো প্রথাকে ইসলামের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছেন।

ওই দাবির সমর্থনে তুরস্কের মুস্তফা কামাল পাশার উদাহরণ টেনে সামনা’য় বলা হয়েছে, তুরস্কে ধর্মীয় উন্মাদনা রুখতে দাড়ি ও বোরকা নিষিদ্ধ করেছিলেন পাশা।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা চালানো হয়। সোমবার থেকে প্রকাশ্যে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করে শ্রীলঙ্কা। জরুরি অবস্থা চলাকালীন বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই ঘোষণা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা।

sri-lanka-20190430151041.jpg

শ্রীলঙ্কায় বোরকা নিষিদ্ধ। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে এ খবর প্রচারিত হয়। এতে গত ২৪ এপ্রিল সোমবার থেকে বোরকা নিষিদ্ধের এক নির্দেশনা জারি করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশ্ন হলো- শ্রীলঙ্কা সরকারের সে নির্দেশনাটিতে কী ছিল? বোরকা পরা নাকি মুখ ঢাকা?

বোরকা হলো একটি ঢিলেঢালা পোশাক; যা দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীরা তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখে; কেবল দেখার জন্য মুখমণ্ডলের সম্মুখভাগ খোলা রাখে।

যদি মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করা হয় তবে, শ্রীলঙ্কার নারীদের পর্দা পালনে কিংবা বোরকা পরায় কোনো অসুবিধা নেই। কারণ হিজাব কিংবা চাদর ব্যবহারে বিরুদ্ধে তাদের কোনো নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশনা নেই। শুধু মুখ ঢাকা যাবে না বলে শ্রীলঙ্কা নির্দেশনা জারি করে।

২৪ এপ্রিল সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপলা সিরিসেনা বিশেষ ক্ষমতা বলে এক নির্দেশনা জারি করেন। তাহলো-
‘চেহারা ঢেকে যায় এমন পোশাক পরা যাবে না।’ এ নির্দেশনা সোমবার থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ২৪ এপ্রিল দেশটির একজন এমপি মুখ ঢেকে রাখা হয় এমন যে কোনো ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব তোলেন।

সে এমপি তার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, ‘মুখ ঢেখে রাখার ব্যাপারটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। মুখ ঢেকে রাখার কারণে কাউকে চিহ্নিত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’

এমপি অশু মারাসিংঘে আরো বলেন, বোরকা শ্রীলঙ্কার মুসলিম নারীদের সনাতন পোশাক নয়। ইস্টার সানডের ওই হামলার পর থেকে দেশটিতে অনেক মুসলিমকেই বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে ৷ অনেকে আবার বাধ্য হয়েই বোরকা পরা বন্ধ করে দিয়েছেন ৷

attack-1-20190424132926.jpg

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, গত রোববার ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনে পড়াশোনা করেছেন। আইএসের কর্মকাণ্ড থেকে উৎসাহিত হয়ে এবং জঙ্গিদের অর্থায়নে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান উইজেওয়ারডেন। আরও হামলা চালানো হতে পারে বলেও আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান উইজেওয়ারডেন বলেন, আমাদের ধারণা আত্মঘাতী হামলাকারীদের একজন ব্রিটেনে লেখাপড়া করেছেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে
স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। এরপরেই শ্রীলঙ্কায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

আত্মঘাতী হামলাকারীদের বেশিরভাগেরই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল, কেউ কেউ বিদেশে বসবাস করছিল বা সেখানে পড়াশোনা করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান উইজেওয়ারডেন।

আত্মঘাতী হামলাকারীদের ওই দলটির বেশিরভাগই শিক্ষিত এবং তারা মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের। তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল এবং তাদের পারিবারিক অবস্থাও ভালো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটা একটি চিন্তার বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন রুয়ান উইজেওয়ারডেন।

তিনি বলেন, আমার ধারণা হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা করেছে। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন, ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।

তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেল এবং আরও বেশ কয়েকটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। গত রোববার সকালের ভয়াবহ ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলা।

শ্রীলঙ্কায় নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন বিদেশি আছেন বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের নাতি। ভয়াবহ ওই বোমা হামলার সময় শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছিলেন শেখ সেলিমের মেয়ে ও জামাতা। ভয়াবহ ওই সিরিজ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

sril5x.jpg

শ্রীলঙ্কায় কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে একযোগে চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ জনের দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) কলম্বো পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারার বরাত দিয়ে ডেইলি মিরর এ তথ্য জানিয়েছে।

রোববারের ওই হামলায় আহত হয়েছে প্রায় পাঁচশ। দেশটিতে আজ জাতীয় শোক দিবেস পালন করা হচ্ছে। আর মধ্যরাত থেকে দেশব্যাপি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কার সরকার।

শ্রীলঙ্কার পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও ২৮ জন।

এদিকে গতকালও শ্রীলঙ্কায় হামলার চেষ্টা হয়েছে। রাজধানী কলম্বোয় বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরক ভর্তি প্যাকেট পাওয়ার পর তা নিষ্ক্রিয় করে দেয় শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনীর সদস্যরা।

একইদিন বিকেলে কলম্বোর কোচচিকাদের সেইন্ট অ্যান্থনি চার্চের বাইরে জামপেত্তাহ সড়কে একটি গাড়িতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়। এরপর স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের বোমা নিষ্ক্রিয় ইউনিটের সদস্যরা গাড়িতে রেখেই বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটান। এর আগে রোববার এই চার্চেই হামলা হয়েছিল।

এছাড়া দেশটির ম্যানার সিটির একটি বাগান থেকে ড্রামভর্তি বিস্ফোরক উদ্ধার করার পর সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

সিরিজ বোমা হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে। তিনি বলেন, ‘হামলার ঘটনায় ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) নামের একটি ইসলামী চরমপন্থী দল জড়িত। তবে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সহায়তা ছাড়া এ হামলা সফল হতো না।’ এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, শীলঙ্কার এই হামলার ঘটনার তদন্তে সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য সে দেশের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় চার মার্কিন নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রোববার ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় শ্রীলঙ্কায় দুই দফায় তিন গির্জা ও চারটি বিলাসবহুল হোটেলসহ আট জায়গায় বোমা হামলা হয়।সকালে প্রথমে হামলার শিকার হয়েছে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের তিনটি বড় গির্জা সেইন্ট অ্যান্থনি চার্চ, সেইন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ ও জিয়ন চার্চ। ইস্টার সানডের প্রার্থনায় এসব চার্চে সমবেত হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। এছাড়া হামলা হয় কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেল শাংরি লা, কিংসবুরি ও সিনামন গ্র্যান্ড জোটেলে। এসব হোটেলে অনেক বিদেশি পর্যটক ছিলেন।

হামলার ঘটনায় শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত ৪০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Srilanka-Attack-3-480x250-1.jpg

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে তিনটি গির্জা ও তিনটি পাঁচ-তারকা হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এ ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৯০ জনের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। আহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরার।

হামলার পর দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরো দেশে কারফিউ জারি করা হয়। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্বও স্বীকার করেনি। কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি৷ তবে হামলাগুলোর লক্ষ্য ধর্মীয় উপাসনালয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় গনমাধ্যমগুলো৷ আপাত দৃষ্টিতে সবগুলো হামলাই সমন্বিত বলে ধারণা করছে পুলিশ৷

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এখন পর্যন্ত সব হামলাকারী সেদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে তাদের সঙ্গে বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়াসুন্দরা ১০ দিন আগে এ ধরনের উগ্রবাদী হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বলে এএফপির খবরে দাবি করা হয়েছে, কিন্তু যে উগ্র গোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে তাদের কোনো বক্তব্য আসেনি।

শ্রীলঙ্কা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরই দেশ। দেশে খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী ক্যাথলিকদের সংখ্যা ছয় শতাংশ মাত্র। ইস্টারের প্রার্থনার কারণে গির্জায় বেশ ভিড় ছিল, তাই এই নির্দিষ্ট সময়টাকেই জঙ্গিরা বেছে নিয়েছে বলে মত কলম্বো পুলিশের।