স্বাস্থ্যমন্ত্রী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

jahed7vx.jpg

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনাকালীন চিকিৎসায় সংকট মেটাতে নতুন করে আট হাজার ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।

দ্রুত নিয়োগের জন্য তাদের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেড় বছর ধরে করোনা। ডাক্তার-নার্সরাও ক্লান্ত হয়ে গেছে। তারা আর কত কাজ করবে নতুন চার হাজার ডাক্তার আমরা নিচ্ছি, নার্সও চার হাজার নেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাদের ইন্টারভিউ আমরা বাদ দিয়েছি। অনুরোধ করেছি, ইন্টারভিউ নেওয়ার দরকার নাই, পুলিশ ভেরিফিকেশনের দরকার নেই। তাড়াতাড়ি কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। সে ব্যবস্থাটাও আমরা করেছি।

jahed2d.jpg

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, লকডাউনের বিষয়ে অনেকের অনীহা, অনীহা হলে চলবে না। আগে জীবন, তারপরে অর্থনীতি। আপনি জীবনে বেঁচে থাকলেন না, তাহলে অর্থনীতি দিয়ে কী করবেন? অর্থনীতি বাঁচাতে হলে বাঁচাতে হবে। বাঁচতে হলে লকডাউন মানতে হবে। ভ্যাকসিন নিতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। কিন্তু আমরা খুব দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লকডাউনের তিন-চার দিন চলছে, কিন্তু রাস্তাঘাটে যেভাবে মানুষ চলাফেরা করছে, যেভাবে গাড়ি চলাচল করছে, আমরা তাতে খুবই দুঃখিত। তারা লকডাউন ব্রেক করতেছে এবং নিজেদের ক্ষতি করতেছে।

সোমবার (২৬ জুলাই) ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা মহামারিকালের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে এখন। সংক্রমণের ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল সীমিত করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। লকডাউনে সবধরনের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিল্প-কলকারখানাও বন্ধ রয়েছে। এতে অর্থনীতির ক্ষতি হলেও জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বয়স্ক ব্যক্তিকেই টিকার আওতায় আনা হবে, কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। বিভিন্ন সোর্স থেকে করোনার টিকা আনার প্রচেষ্টা চলছে, এরই মধ্যে টিকা আসছেও। টিকার অভাব হবে না।

এর আগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে টিকার সমস্যা আল্লাহর রহমতে কেটে গেছে। আগামী আগস্ট মাসে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ফাইজার-বায়োএনটেকের আরও ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। সব মিলিয়ে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দেড় থেকে পৌনে ২ কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশের হাতে আসবে; যার মধ্যে মডার্না এবং সিনোফার্মের টিকা এরই মধ্যে দুদফায় দেশে চলেও এসেছে।

আর এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ২১ কোটি টিকার ব্যবস্থা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মধ্যে রাশিয়ার ১ কোটি ডোজ স্পুটনিক ভি, চীনের সিনোফার্মের ৩ কোটি ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কোভ্যাক্সের আওতায় ৭ কোটি ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ২৬ বা ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসবে। টিকা সংরক্ষণে ২৬টি কোল্ড ফ্রিজার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনা হয়েছে। এগুলোয় মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে রাখার মতো টিকাও সংরক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন করে আরও যে টিকা আসবে, সেগুলো সংরক্ষণ করতে কোনও সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

Jahed2cb.jpg

দেশবাসীকে সরকারঘোষিত লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা চাই রোগীর সংখ্যা যেন না বাড়ে, রোগীর সংখ্যা কমাতে হলে সংক্রমণের সংখ্যা কমাতে হবে। আর সংক্রমণ কমাতে হলে সরকার যে লকডাউন ঘোষণা করেছে, লকডাউন মেনে চলার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন তা মেনে চলতে হবে।

রোববার (২৫ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে করোনা ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, সংক্রমণ দশ জায়গা থেকে বাড়ছে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। এভাবে সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে হাসপাতালে জায়গা হবে না।

তিনি বলেন, আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, ঘরে থাকুন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আজকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখলাম- রাস্তাঘাটে প্রচুর লোক ঘোরাফেরা করছে, অনেকের মাস্ক পরা নাই, গাড়িতে ও মোটরসাইকেলে ঘুরছে। এতে করে লকডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশি সময় লেগে যাবে।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে, যা আমরা চাই না।এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। একদিকে করোনা ও নন-করোনা রোগীর চিকিৎসা অপরদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য পৃথক কয়েকটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তন্মধ্যে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, মিরপুরের লালকুঠি হাসপাতাল, সরকারি রেলওয়ে হাসপাতাল এবং টঙ্গীর আহসানউল্লাহ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে শুধুমাত্র ডেঙ্গুর চিকিৎসা হবে বলে তিনি জানান।

jahed2d.jpg

বয়স্কদের অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রামে অনলাইন নিবন্ধন ছাড়াই করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময় সভায় এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পরে সেসব নাম অনলাইনে নিবন্ধন করে নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার করোনা মোকাবিলায় আগামী সপ্তাহ থেকে ভারত থেকে প্রতি সপ্তাহে ২০০ টন তরল অক্সিজেন আমদানি শুরু করতে যাচ্ছে। কেনা হচ্ছে ৪৩টি অক্সিজেন জেনারেটর। সামনের মাসে টিকার মজুত হবে ১ কোটি ২০ লাখ। আরও ২১ কোটি টিকার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ৩ কোটি চীন, ৩ কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ৭ কোটি মডার্না, ১ কোটি রাশিয়া এবং ৭ কোটি টিকা দেবে জনসন অ্যান্ড জনসন।

‘কোভিডের তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন-সংকট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই ভার্চ্যুয়াল সভা আয়োজন করে বাংলাদেশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিপিএমসিএর সভাপতি এম এ মুবিন খান।

jahed-malik8.jpg

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশের আপামর জনগণের জন্য ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

তিনি বলেন, ২১ কোটি ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা হয়েছে। আগামী বছর পর্যন্ত সেগুলো পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে। এ ভ্যাকসিন দিলে তাহলে ৮০ ভাগ মানুষকে দেওয়া যাবে।

শনিবার বিকালে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি শীর্ষক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময় সভায় এক জুম মিটিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখের মতো মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

jahed-malik8.jpg

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে এরই মধ্যে হাসপাতালগুলো সব শয্যা রোগীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সংক্রমণ না কমলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই আশা করবো, ঈদের এই কয়েকটা দিন আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের লেখা সার্জারি বিষয়ক ‘খুরশীদস ডিকোডিং সার্জারি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরেন, কোরবানির ঈদে ধর্মীয় কিছু বিষয় থাকে, জীবন-জীবিকার ব্যাপার রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিধিনিষেধ শিথিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের এই কয়েকটা দিনের মধ্যে আশা করব, যাতে সংক্রমণটা বৃদ্ধি না পায়। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মনে ঢাকায় ফিরবেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন আরও চার হাজার চিকিৎসক ও চার হাজার নার্স নিয়োগ হচ্ছে। তবে আমরা যতই নিয়োগ দেই না কেন, যদি সংক্রমণে হার তিন-চারগুণ বেড়ে যায়, আমাদের হাসপাতালগুলোতে ১০ থেকে ১৫ হাজার শয্যার পরিবর্তে ৪০ হাজার করোনা রোগী আসে, তখন সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কাজেই আপনারা সমালোচনা যাই করেন, বাস্তবতা এটাই।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সার্জনরা অংশ নেন।

india32x.jpg

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদলের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধণ ও প্রতিমন্ত্রী অশ্বিন চৌবেসহ অন্তত ৯ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। বুধবার মন্ত্রিসভায় রদবদলের আগে হেভিওয়েট ওই মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে ভারতে দৈনিক করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। পরে এপ্রিল-মে মাসে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পুরো এপ্রিল-মে থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লক্ষাধিক মানুষ। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও ছিল ৪ হাজারেরও বেশি।

এই পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। চলমান এই সমালোচনার মধ্যেই পদত্যাগ বুধবার পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অশ্বিন চৌবে।

এছাড়া দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক এবং শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাংওয়ারও পদত্যাগ করেছেন। এই তালিকায় আরও আছেন কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারবিষয়ক মন্ত্রী সদানন্দ গৌদা, নারী ও শিশু কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোর্তে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাও সাহেব ধানবে পাতিল এবং জলশক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রতন লাল কাটারিয়া।

এনডিটিভি বলছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে তা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোন সদস্যের ভূমিকা কেমন ছিল সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন দেশটির স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সেই প্রতিবেদন জমাও দিয়েছেন তারা।

jahed6.jpg

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা হয়েছে সংসদে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, অক্সিজেন সংকট, কোভিড চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা ও সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জের ধরে নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তুলোধুনো করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যরা। একজন সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে লজ্জাহীন উল্লেখ করে তার পদত্যাগও দাবি করেন।

শনিবার (৩ জুলাই) স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ সমালোচনা করেন তারা। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অধিবেশনকক্ষে দেখা যায়নি।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রথমে বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ বলেন, বগুড়ায় অক্সিজেনের অভাবে ২ দিনে ২৪ জন মারা গেছেন। কোভিডের জন্য নির্ধারিত ২৫০ বেডের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে আটটি। কিন্তু হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে মাত্র দুটি। যে কারণে বাকি আইসিইউ বেড কোনো কাজেই লাগছে না। বগুড়ায় ৪৫০টি বেডের ৩টি হাসপাতাল রোগীতে ঠাসা। নতুন রোগী ভর্তি হতে পারছেন না। প্রতিটি হাসপাতালে ২০টি হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের দাঁড়িয়ে শুরুতেই বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বছর আগে যে অবস্থায় ছিল, এখনো সেখানেই আছে। কোনো উন্নতি হয়নি। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ছয়-সাতবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। মন্ত্রীর সহকারীদের ফোন করার পর মন্ত্রীকে জানানোর কথা বলি। কিন্তু মন্ত্রী ফোন করেন না। ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমাদের চেয়ে ভালো। এরপরও তারা নাজেহাল হয়েছে। আমাদের দেশে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সেভাবে ছড়িয়ে পড়লে আশঙ্কা করার অনেক কারণ আছে।

গত ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাসের সময় বিরোধী সংষদ সদস্যদের সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য খাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জেলা হাসপাতালের সভাপতি সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করে ওই দিন আইনপ্রণেতাদের ওপর দায় চাপান মন্ত্রী।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সেদিন সংসদে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেটা তদন্ত করবেন। বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, ‘এটি সত্য নয়’। এজন্য আজকে আমি তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি আলোচনা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। সত্য বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে উনার তদন্ত করা উচিৎ ছিল। তাই আমার দাবি এ বিষয়ে তদন্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা অত্যন্ত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব জায়গায় সেনাবাহিনী নামিয়ে এটা প্রতিরোধ করতে হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জিজ্ঞেস করলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন সব দিচ্ছি। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এভাবে আমরা একটা বছর সময় নষ্ট করেছি। আমাদের সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দিলে অর্থ দিলে আমরা সব কিছু ঠিক করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওপর দায়িত্ব নয়। দায়িত্ব আমাদের ওপরে। তারা তো দুদিন পরে চলে যায়। জবাবদিহিতা তো তাদের নেই।

তিনি বলেন, আইসিইউ বেড আছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডাক্তার নার্স নেই। অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু কোনও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আমাদের সামনে আসেনি। মানুষের জীবনের কি কোন দাম নেই? করোনাতো এখন সারা বিশ্বেই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসায় কি ধরনের অনিয়ম মানা যায়?

এসময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় অক্সিজেনের অভাবে ৭ জন কোভিড রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা গেছেন। আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের বাড়ি সেখানে। সেখানকার হাসপাতালটি ফাইভ স্টার মানের হওয়া উচিত ছিল। মন্ত্রীরা যান, মন্ত্রী আসেন। কিন্তু নিজের এলাকাটাও ঠিক রাখতে পারেন না।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বললেন এক বছরে নাকি অনেক কাজ করেছেন। আজকের খবর আসছে বাংলাদেশের ৩৭টি জেলায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে ৫ জন রোগী অক্সিজেন পায় তো ২০ জন লাইনে থাকে। কেবলমাত্র অক্সিজেনের কারণে যারা ছটফট করে মারা যাচ্ছেন। পত্রিকায় এত লেখালেখি হচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি একটি হাসপাতালে গিয়ে এগুলো দেখেছেন। তিনি কী করেন? তিনি জুম মিটিং করেন।

কোভিড চিকিৎসার সময় নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনন্দে আত্মহারা হয়ে একটি কিস (চুমু) করার কারণে তাকে রিজাইন দিতে হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি মানুষ! বুঝলাম না। উনার লজ্জা শরম কিছু নেই। উনার রিজাইন দেওয়া উচিত।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘‘উনি বলেছেন ‘হাসপাতালের চেয়ার, মেশিন চলে না, লোক লাগবে এগুলো তো আপনাদেরকে দেখতে হবে। কিন্তু আপনারা তো দেখেন না। নার্স, ডাক্তার যন্ত্রপাতি লাগলে আপনাদেরকে বলতে হবে। অভিযোগ দিলে তো হবে না। এগুলোর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আপনাদের বলতে হবে। চেয়ারম্যান হিসেবে এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের ওপর বর্তায়।’ ওনার বক্তব্যে মনে হচ্ছে কোনও এমপিই দায়িত্ব পালন করেন না। অথচ আমি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ লোকবল নিয়োগের জন্য উনার দফতরে গিয়েছি। এই বক্তব্য আপত্তিজনক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোটা হাউসকে অপমান করেছেন। তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হওয়া দরকার।’’

করোনা পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনও মূল্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেভাবে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা দারিদ্রের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। সামনে ঈদুল আজহা। এজন্য গরীব মানুষের জন্য দ্রুত খাদ্য দেওয়ার দাবি করছি। কুরবানির পশু পরিবহন ও কেনাবেচায় শিগগিরই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। না হলে এটা নিয়েও সংকট তৈরি হবে।’

jahed5c.jpg

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এ বছরই ১০ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, টিকা নিয়ে আমাদের সংকটের দিন শেষ।

শুক্রবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মডার্নার টিকা হস্তান্তরকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের শুরুতে জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি ডোজ টিকা আসবে। তাদের একটি টিকা একজনকেই দেওয়া হবে। তাহলে তাদের টিকাই আমরা সাত কোটি মানুষকে দিতে পারব।

টিকা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনসহ অনেকে বিমানবন্দরে উপস্থিত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার মোট ২৫ লাখ টিকার মধ্যে ১২ লাখ টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে।  শুক্রবার (২ জুলাই) রাত প্রায় সাড়ে ১১টা ২২ মিনিটের দিকে টিকা নিয়ে এমিরাটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  অবতরণ করে।

শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ১১টা ২১ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটটি বাংলাদেশের রানওয়ে স্পর্শ করে। এর আগে দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে দুবাই থেকে ভ্যাকসিন ও যাত্রীবাহী ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

jahed6.jpg

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্যের প্রতিবাদে সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩০ জুন) সংসদে স্বাস্থ্যখাতে স্বানিয়ম, অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ না হওয়া এসব বিষয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা অস্বীকার করলে এই অবস্থার তৈরি হয়।

এদিন সংসদে বাজেট পাসের সময় বিরোধী সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের দায়িত্ব নিতে বলেন। এ সময় ঢালাও অভিযোগ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘কতোবার ডিও লেটার দেবো আমার এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নেই, ডাক্তার কবে পাবো? এক্সরে মেশিন কবে পাবো? রেডিওলজিস্ট কবে পাবো? স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যতোবার বলি উনি ডিও লেটার দিতে বলেন। কতোবার দেবো?’

মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দাবি সম্পর্কে পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘চলমান বরাদ্দের টাকাই খরচ করতে পারেননি। আবার বরাদ্দ চেয়েছেন।’

জাপার আরেক সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টাকা খরচ করতে পারেনি। ফেরত দিয়েছিলো। এটা আমরা চাই না। খরচ করতে না পারলে এখানে ৩৫০ জন এমপিকে ভাগ করে দেন। আমরা খরচ করি। স্বাস্থ্য সেবা আমরা দেখবো। আপনাদের দরকার নেই। ডাক্তার-নার্স নিয়োগ করতে পারছেন না। ৩৫০ এমপিকে দায়িত্ব দেন। আমরা নিয়োগের ব্যবস্থা করি।

বিএনপির রুমিন ফারহানা স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২৫ শতাংশ। এই যে বরাদ্দ দিচ্ছি সেটা কোথায় যাচ্ছে? বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের আছে কি-না সেই প্রশ্ন চলে আসছে।’

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাত সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি দূর করতে হলে ডালপালা কেটে লাভ নেই। গাছের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’

এছাড়া বিএনপির মোশাররফ হোসেন, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, মুজিবুল হক চুন্নু স্বাস্থ্যের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেন। এছাড়া করোনাভাইরাসের টিকার অপ্রতুলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

পরে জবাব দিতে উঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা হাসপাতালের চেয়ার। আপনাদের দায়িত্ব আছে। আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

তিনি দুর্নীতির অভিযোগেরও জবাব দেন। বলেন, ‘মাস্ক নিয়ে কথা বলছেন। মাস্ক তো কেনাই হয়নি। তার পেমেন্ট দেয়া হয়নি। ঢালাও অভিযোগ দিলে তো বলবে না।’

এসময় বিরোধী দলের বেঞ্চ থেকে হইচই হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যরা। ‘আমরা পত্রিকা পড়ি না’ এমন শব্দও হাউস থেকে এ সময় শোনা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটু থেমে গেলে সামনে বসা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী তাকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে ইশারা করেন।

মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে। ঢালাওভাবে অনিয়মের কথা বললে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুনির্দিষ্ট বলতে হবে, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে?’

এসময় বিরোধী দলের দিকে থেকে আবার হইচই হলে মন্ত্রী বলেন, ‘মাস্কের কোনো টাকাই তো দেয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে। ঢালাওভাবে বললে হবে না।’